এক.
আমরা এগিয়ে চলছি গ্রাম্য ইটের সলিং করা রাস্তা ধরে....। মহীন ভাই হাত দিয়ে দূর থেকে তার মাছের খামারগুলো দেখাচ্ছেন আমাদের। "ঐ যে ঐ টা আমার খামার...। আর ঐ টা দেখাতাছেন না, ঐ যে জাল দিয়ে ঘেরা দেয়া- ঐটাও আমার খামার। তার পাশেরটাও আমার।"
আমরা মুগ্ধ হয়ে বিদেশ ফেরত সফল মাছ-চাষী মহীন ভাই'র গল্পগুলো শুনছি। উচ্ছ্বাস ও আনন্দ যেন চোখ ঠিকরে বেরিয়ে আসছে তার।
শ্রম, অবিরাম সাধনা ও সততা দিয়ে বড় হওয়া যে কোন সফল মানুষের গল্প শুনতে ভালো লাগে আমার।
মহীন ভাই'র গল্প শোনার পর ধমনীতে বয়ে চলা রক্ততে যেন নতুন গতির সঞ্চারণ হলো। যে মহীন ভাই বিদেশের মাটিতে পরাধীন হয়ে হাড়ভাঙ্গা খাটুনি খেটেছেন একসময়, আজ তার খামারে কাজ করে অনেকগুলো মানুষের মুখের আহার জুটছে। তাকে আদর্শ মেনে গ্রামের অনেক শিক্ষিত অর্ধশিক্ষিত বেকার যুবক আজ নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে.....।
চলতে চলতে একসময় আমার একখানা হাত ধরলেন মহীন ভাই। আবেগ মিশ্রিত গলায় বললেন, "আমার দেশের মাটিতে সোনা ফলে ভাই.... আমার দেশের মাটিতে সোনা ফলে।"
হাঁটতে হাঁটতে একটা খামারের পাড়ে গিয়ে বসলাম আমরা।
সেখানে তার হাতখানা ধরে বেশ কিছু সময় পাড়ের সবুজ ঘাসের উপর বসে রইলাম। বৈশাখি হাওয়া খামারের শীতল জল ছুয়ে আমাদের নাকে-মুখে এসে লাগছে...।
দুই.
অভাব, কাজ নাই, সংসার চলে না। তাই দালালের হাত ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পথে বিদেশে পারি জমিয়েছেন অনেকে।
যে টাকা খরচ করে বিদেশে পারি জমাচ্ছেন তারা। সেই টাকা দিয়ে সঠিক প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা নিয়ে দেশের মাটিতেই ভালো উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারেন তারা।
এ ব্যাপারে আমাদের মানসিকতার পাশাপাশি সরকারের সহযোগিতারও প্রয়োজন রয়েছে। শহরের উন্নয়নের পাশাপাশি প্রান্তিক পর্যায়েও দৃষ্টি দেবার সময় এসেছে.....।
মাথার চুলে আপনি প্রতিদিন শ্যাম্পু করলেন। তেল দিলেন। সুন্দর করে আচড়ালেন। কিন্তু বছরে একবারও পা ধুইলেন না- তবে মাথা থেকে বের হওয়া খুশবু আপনার পা থেকে বের হওয়া দুর্গন্ধ ঢেকে দিতে পারবে কি?
যদি তাই হতো তবে ওযুতে শুধু মাথা মাছেহ করার সিস্টেমই থাকতো। পা ধোয়াটা ফরযের অন্তর্ভূক্ত হতো না।
পায়ে পচন ধরলে এক সময় তা মাথা পর্যন্তও উঠতে পারে- এ কথাটি সরকারের মনে রাখা দরকার।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



