চার কিলো রাস্তা পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলছি। ঘণ্টায় আঠারো হাত বেগে গাড়ি ছুটে চলছে....। ১০ মিনিট পর পর ভোঁত করে তিন হাত আগায়। তারপর দশ-বারো মিনিট একদম চুপচাপ।
যেখানে বসে আছি সেখান থেকে হেঁটে বাসায় গেলে বড় জোড় বারো মিনিট লাগার কথা। কিন্তু রাস্তায় গাড়ি ফেলে যাই কী করে!
পাশে বসে থাকা জন অনেক সময় ধরে উসখুস করছেন। তার বাসার গেট বন্ধ হয়ে গেছে অনেক আগেই। নাক ডেকে লম্বা একটা ঘুমও দিয়ে নিয়েছেন।
বিরক্ত হয়ে বললাম, "আহ ভাই নাক ডাইকেন না তো। গাড়ির হর্নের চেয়ে আপনার নাকের সাউন্ড বেশি।"
"কি করবো ভাই, ইচ্ছা করে তো আর ডাকি না!"
"আপনি জেগে আছেন না-কি? যেভাবে মটকা মেরে পড়ে নাক ডাকছিলেন আমি তো ভাবছি, আপনি বোধহয় আর ইহজগতে নেই। "
"না আর ঘুম কই, একটু ভান ধরে পইড়া আছি -এই যা। ব্রেকটা একটু আস্তে কইষেণ ভাই। আপনে বড্ড জোরে ব্রেক কষেণ। ব্রেক তো কষছেন না যেন পিছনে লাথি মারছেন! "
"অ। আচ্ছা।"
খানিক পরে বললেন "ভাই একটু নাইমা দেইখা আসি, কি হইছে। অবস্থা তো ভালো দেখতাছি না।" বলেই দরজা খুলে হাঁটা শুরু করলেন।
ঘণ্টা খানেক পর ফোন দিলাম, "ভাই কই? জ্যামের কী অবস্থা কন দেখি? বাসায় যাইয়া সেহরি ধরতে পারুম তো?"
তিনি হাই তুলতে তুলতে বললেন, "আহ! ভাই চোখ দুইটা কেবল লাইগা আইছিল!"
"আপনি কি রাস্তার মধ্যে শুয়ে পড়ছেন নাকি?"
"না ভাই, হেঁটে দেখতে দেখতে বাসায় চলে আসছি। আপনারে জানাইতে ভুলে গেছি, জ্যামের অবস্থা বেগতিক। আপনি কই?"
"অ। যেই জায়গায় রেখে গেছেন, আরো আঠারো হাতের মতো আগাইছি!"
"রাখি ভাই। খালি হাই আসতেছে। ঘুমে চোখটা কেবল লেগে আসছিল।" বলেই লাইন কেটে দিলেন।
আমিও সিটটা একটু ভেঙ্গে হেলান দিয়ে চোখ বুজে রইলাম। ইফতারি শেষে অফিস থেকে রওনা দিছি। সেহরিটা বাসায় গিয়ে সারতে পারলেই হইলো!
বিদ্র: ড্রাইভিং সিটে বসে বসেই উপরের লেখাটি লেখা হইয়াছে..... মেরুলের জ্যামে আছি। কোন সুহৃদ ব্যক্তি পারলে একবাটি সেহরি পাঠাইয়া দিয়েন। গাড়ির গতি ঘণ্টায় আঠারো হাত থেইকা বারো হাতে নেমে আসছে...।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুলাই, ২০১৫ রাত ৩:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



