কোরবানির ঈদ আসলেই ডিপ ফ্রিজ কেনার ধুম পড়ে যায় বাজারে। যার একটা আছে তিনি আরও একটা কিনে নেন।
কেউ কেউ এক কোরবানির মাংস আরেক কোরবানি পর্যন্ত রেখে খেতে পছন্দ করেন। কেউ কেউ মাংস শুটকি দিয়ে কিংবা বড়ি বানিয়ে বয়াম ভরে রেখে দেন, সারা বছর মাংসের শুটকি খাবেন। মাংসের বড়ি খাবেন.....।
..........কেউ কেউ এই একটি দিনের জন্য অপেক্ষায় থাকেন। কেউ একজন তাকে কেজি দুয়েক গোস্ত দিয়ে বলবেন- "ছেলে-মেয়ে নিয়া রাইন্দা খাইও"
বছরে এই একটি দিন ছেলে-মেয়েকে নিয়ে দুই টুকরা মাংস আর একটু মাংসের ঝোল খাওয়ার আশায় দিন গুনেন কেউ কেউ....।
আপনার গেটের ফাঁক দিয়ে কোন শিশু হয়তো হাত ঢুকিয়ে মিনতি করছে, "একটা টুকরা দেন......একটা টুকরা দেন....."
আপনি তখন ধমকের সুরে বলছেন- "আরও আগে আসতে পারলি না? সব দেওয়া শেষ যা আর নাই...বিরক্ত করিস না..."
অথচ সেই আপনার ডিপ ফ্রিজের ঢাকানাটি মাংস বোঝাই হয়ে যাওয়াতে ভালো মতো আটকাতে পারছেন না। খানিক ফাঁক হয়ে আছে....। হয়তো দুদিন পরে আফসোস করবেন, "আহ হা রে ঢাকনাটা ভালো মতো না আটকানো তে মাংস ভালো মতো জমে নাই। উপরে থাকা আধা ফ্রিজ মাংস নষ্ট হয়ে গেছে!"
আপনি তো সারা বছরই খান, আপনার পরিবার পরিজনও খায়। অন্তত এই একটি দিন হাত-পাতা শিশুটিকে এক টুকরা মাংসের স্বাদ নিতে দিন না প্লিজ.....
আমাদের অনেক আত্মীয় এবং প্রতিবেশি আছেন, যারা নানা কারণে কোরবানি দিতে পারছেন না। কিন্তু মুখ ফুটে কাউকে বলতেও পারছেন না। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের যাদেরকে কোরবানি দেবার তৌফিক দান করেছেন। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে সেই সব আত্মীয় এবং পরিবারকে নিজ দায়িত্বে খুঁজে বের করা। জোর করে হলেও তাদের বাসায় মাংস পাঠিয়ে দেয়া....।
আল্লাহ আমাদের সবার কোরবানি কবুল করে নিক....
সবাইকে পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা..... ঈদ মুবারক.....
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৪:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



