somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জয়তু ভূমিকম্প

০৫ ই জানুয়ারি, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কম্পন অনুভূত হবার পর উদোম গায়ে ছেলেকে কোলে জড়িয়ে ছয় লম্প দিয়ে তিন তলা থেকে রাস্তায় নেমে গেলুম।

উচ্চস্বরে আল্লাহ আল্লাহ করছি, এমন সময় পাশের বাসার বৌদি বললেন- "বাহ বেশ মাসল বানিয়েছো তো!"

বউ সেই কথা শুনতে পেয়ে ডর-ভয় ত্যাগ করে দৌড়ে বাসা থেকে চাদর এনে গায়ে জড়িয়ে দিয়ে ধমকের সুরে বলল, "তুমি উদোম গায়ে নিচে আসছো ক্যান?"

বললাম, "লুঙ্গিটা যে পরে এসতে পেরেছি সেটাই তো অনেক। কম্বলের নিচে সেটা খুঁজে পেতেই তো বেশ বেগ পেতে হয়েছে। ঐ যে চেয়ে দেখ, আমি তো তবু লুঙ্গি পড়ে এসেছি- ঐ ব্যাটা তো ক্ষুদ্র প্যান্ট পরেই চলে এসেছে। বড় প্যান্ট পরার আর সময় পায় নি।"

বউ ঝাঁপটা মেলে বলল, "আমি গেলাম। তুমি থাকো। আবার ভূমিকম্প হলে দেয়ালের নিচে চাপা পড়ে মরবো।"

পাশে দাঁড়িয়ে থাকা উ্ত্তর ফ্ল্যাটের আশি বছরের এক নানি থর থর করে কাঁপছেন। দুইজন তার দুই বাহুতে ধরে সোজা করে দাঁড় করিয়ে রেখেছেন।

জিজ্ঞেস করলাম, "নানি ভয় পেয়েছেন?"

নানি কান খাড়া করে ইশারায় জানতে চাইলেন, কি বলছি।

"নানি ভয় পেয়েছেন?"

নানি মাথা উপর নিচ করে জানালেন, ভয় পেয়েছেন। আশি আর আঠারো- বয়স যাই হওক না কেন, এই পৃথিবীতে জীবনের মায়া কারো কম নয়।

সামনের বিল্ডিং এর মেসে থাকা ব্যাচেলর মেয়েরা সব নেমে এসেছে রাস্তায়। উদোম গায়ে কিছুটা শীত শীত লাগছিলো আমার। হা করে কিছু সময় মেয়েদের দিকে তাকিয়ে রইলুম। মৃত্যু ভয় মুহূর্তে যেন কোথায় উবে গেল। মনে হলো ভূমিকম্প এক লাথিতে নরক থেকে স্বর্গে পাঠিয়ে দিয়েছে যেন। জয়তু ভূমিকম্প! জয়তু ভূমিকম্প!

দক্ষিণ পাশের দালানের এক আঙ্কেল কাছে এসে বললেন, "তুমি? চিনলাম না তো!"

বললাম, "জ্বি আমি অমুকের ছেলে।"

"আহহা বাবা, দেখ দেখি, আজ এত বছর একই জায়গায় থাকি অথচ কেউ কাউকে চিনি না। ভালোই হলো আজ তোমাকে চিনতে পারলাম। আমি তোমার শফিক আঙ্কেল।"

চারতলার পূর্ব পাশের আন্টি পশ্চিম পাশের আন্টিকে জড়িয়ে ধরে বললেন, "আহ হা ভাবি পাশাপাশি থাকি। অথচ দেখাই হয় না আমাদের। বাসায় আসবেন কিন্তু ভাবি...। আসবেন কিন্তু..।"

সদ্য রিটায়ার্ড করা ছয়তলার কবির আঙ্কেল কি এক চুটকি বলে সবাইকে হাসিয়ে দিলেন। এত ভয় ও আতঙ্কের ভেতরও সবাই হোহো করে হাসছে।

কিছু দিন আগে ঝগড়া হয়ে যাওয়া মিজান চাচাও কাছে এসে বললেন, "এই তোমার বাবা কই? উনাকে দেখছি না যে?"

সচিব আঙ্কেল গায়ে একটা গামছা জড়িয়ে নাটকের কোন চরিত্রের ন্যায় সবার মাঝে পায়চারি করছেন। বেমালুম ভুলে আছেন, তিনি একজন রাসভারি চরিত্রের মানুষ। তিনি সচিব আঙ্কেল।

দুইজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর অতি গুরুত্বপূর্ণ আত্মীয়ের পুরো পরিবার রাস্তায় নেমে সবার সাথে মিশে সুখ দুু:খের আলাপ করছেন কুশলাদি বিনিময় করছেন।

দুই বিল্ডিং পরের নিতু আপু বললেন, "কি রে দুষ্টু তোকে যে এখন আর দেখিই না। থাকিস কই? কোলে কে?"

"জ্বি আমার ছেলে।"

"বলিস কি রে কবে হলো! উমা... কিছুই তো জানি না। তলে তলে তুই এতদূর!"

"জ্বি সাড়ে তিন বছর!"


প্রায় মিনিট চল্লিশেক পর সবার আতঙ্ক কেটে গেল। যে যার মতো আবার নিজ নিজ বাসার পথে হাঁটতে লাগলো। ভেঙ্গে গেল মিলন মেলা।

ছোট বেলায় অপেক্ষায় থাকতাম, কখন কারেন্ট যাবে। কখন আশপাশের ছোটবড় সবাই রাস্তায় নেমে আসবে। ছুটেছুটি হবে। আনন্দ হবে। কুশলাদি বিনিময় হবে।

গতকাল মনে হলো, মাঝে মধ্যে এরকম একটু আধটু ঝাঁকুনির বড্ড প্রয়োজন আমাদের। কতো কাছাকাছি থেকেও যেন কতো দূরে আছি আমরা.... দিনে দিনে শুধু বেড়েই চলেছে সেই দূরত্ব....
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জানুয়ারি, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:০১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

পিনাকী ভট্টাচার্য কেন দেশে আসে না, জানেন?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৯


Pinaki Bhattacharya - পিনাকী ভট্টাচার্য তিনিঞ্চি কেন দেশে আসে না জানেন? তার পাসপোর্টই তাকে সে অনুমতি দেয় না। Meghna Alam থেকে প্রাপ্ত এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে তার পাসপোর্টে স্পষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের সেই এন্টিনিয়ার।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৮

কিছু স্বপ্ন, কিছু স্মৃতি এবং নানীর বাড়ি



আমি বেশ কিছুদিন ধরে একটি বিশেষ ধরনের স্বপ্ন দেখছি। স্বপ্নের কথায় যাওয়ার আগে কিছু পেছনের গল্প বলা প্রয়োজন।

ক্লাস নাইনে পড়ার সময় থেকে অনার্স... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×