somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

এরই নাম সংসার এখানে কেউ ঠেকে শেখে, আর কেউ ভালোবেসে...

২৩ শে জানুয়ারি, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিয়ের আগে আমার শ্বশুর বললেন, "বাবা তোমাদের বড় সংসার। আমার মেয়ে সেখানে গিয়ে কিভাবে সামাল দিবে? সে কোন দিন ভাতও রান্না করে দেখে নি।"

একই কথা বললেন শাশুড়িও। তাদের আত্মীয় স্বজন সবার আশংকা এত বড় সংসার তাদের মেয়ে সামাল দিতে পারবে তো!

আমার মেজ খালা-শাশুড়ি আরো এক ধাপ এগিয়ে বললেন, "ঐ ছেলে হইলো গাঁধা (থিওরি মতে সংসারের বড় ছেলে চিরকাল গাঁধা) তার সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের এত আদরের ছোট মেয়েটা চলবে কীভাবে!"

তারা খোঁজ নিয়ে জানলেন, আমার বাসায় বৃদ্ধ নব্বই বছর বয়সি দাদিজান আছেন। প্রায় সময়ই দৌড়ে বাথরুম অবধি যাবার ফুরসত না মেলাতে বিছানাতেই ছোট কম্ম সম্পাদন করে থাকেন।

আমার মা আলাভোলা টাইপ হলেও বাবা অতন্ত রাগি মানুষ। তার রাগ আগ্নেয়গিরিরি লাভার চেয়েও ভয়ঙ্কর।

দুজন ড্রাইভার এবং দারোয়ানকে বাসা থেকে নিয়মিত খাবার দেয়া হয়। এ ছাড়া গ্রাম থেকে প্রতি নিয়ত বিদেশগামী, চাকরি প্রত্যাশী, চিকিৎসা সেবার জন্য বিভিন্ন লোকজন বাসায় আসা-যাওয়া করেন।

তাদের ভাষ্য, "সংসার তো নয় যেন বাজার!"

আমি তাদেরকে বললাম, " সে যদি রান্না-বান্না করতে না চায় কোন অসুবিধা নেই। আমার মা আছেন। আমি আছি....।"

"তুমি আছো মানে?"

"জ্বি ভারি রান্না-বান্নাগুলো অনেক সময় মায়ের সাথে আমিও করে থাকি। আমার মা আমাকে শিখিয়েছেন। বলতে পারেন ঠেকে শিখেছি। সংসারে বড়বোন নেই। মা অসুস্থ হলে আমাকেই মায়ের কাজগুলো করতে হতো। এখনও হয়।"

খালা-শাশুড়ি কাঁদে কাঁদো গলায় বললেন, "বলে ছিলাম না! বড় ছেলেগুলো আস্ত গাঁধা। এরা গাঁধার মতো বিনা বাক্য-ব্যয়ে আজীবন বোঝা টেনে যায়। এ্যাহহহ... রান্না-বান্নাও করে! হায় খোদ! ঐ সংসারে গেলে আমাদের মেয়েটার জীবন বরবাদ হয়ে যাবে।"

অনেক হিসেব-নিকেশ শেষে কোন এক ঝুম বৃষ্টির দিনে সেই ছোট মেয়ের সাথে আচমকা আমার বিবাহ কর্ম সম্পাদিত হলো।

বিয়ের পর জানতে পারলাম, তার খালা ও আত্মীয়-স্বজনদের অনেকে শিখিয়ে দিয়েছেন, "ভুল করেও তুই রান্না ঘরে যাবি না। একবার গেছিস তো জীবন শেষ! রান্না করিয়ে তোকে মারবে।"

আমি শুনে হাসলাম ও দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়লাম।

তিন দিন পর নতুন বউ বলল, "শুনো আমার লজ্জা লাগছে। সবাই কাজ করছে আমি রুমে শুয়ে আছি। আমাকে কেউ ডাকছেও না।"

পঞ্চম দিনে সে বলল, "তুমি আমাকে কোন কাজই করতে বলো না। সব কিছু নিজে নিজে করো।"

বললাম, "তুমি কিছু করেছ শুনলে তোমার খালা-মামিরা কষ্ট পাবে। তাছাড়া আমি তাদেরকে কথা দিয়েছি, তোমাকে কিছুই করতে হবে না।"

৬ষ্ঠ দিন সে নিজ থেকে রান্না ঘরে গেল। হাত-টাত পুড়িয়ে কি যেন একটা রান্না করলো। তারপরও তার আনন্দ ধরে না।

এর পর কিভাবে কিভাবে যেন সে বড় রাঁধুনী বনে গেল। তার বানানো পুডিং আর ফালুদা খেয়ে আমার বিস্ময় জাগে। সেদিন বাসার কাছের মসজিদে তাবলিগের মেহমান এসেছে। আব্বা তাদেরকে তার পুত্রবধুর হাতে বানানো পুডিং আর ফালুদা খাবার দাওয়াত করলেন।

পুত্রবধু আনন্দচিত্তে তাদেরকে পুডিং ফালুদা বানিয়ে খাওয়ালো। রান্না-বান্না শিল্পে কোন অংশেই এখন সে তার শাশুড়ির চে কম নয়। মাছের একটা তরকারি থাকলে বলে, "তোমার জন্য ঐ মাছটা রান্না করি? মুরগি খেতে চাইলে বলো, ছাদে মুরগি আছে জবাই করে রান্না করে দেই- বেশি সময় লাগবে না। না-কি ফ্রিজ থেকে একপোটলা গরুর মাংস বের করবো?"

রাত দশটা বাজেও কোন কিছু খেতে চাইলে সে মহানন্দে রান্না করে সামনে এনে হাজির করে।

আর বৃদ্ধ দাদিজানের খেদমতও সে হাসিমুখে করে যাচেছ....। দাদিজানকে সময় মতো খাবার দেয়া। মাথার চুল আঁচড়ে দেয়া। গোসলের গরম পানি দেয়া। কাপড় পাল্টে দেয়া... কোন কিছুতেই তার আলসেমি নেই।

এরই নাম সংসার। এখানে কেউ ঠেকে শেখে (যেমন আমি) আর কেউ ভালোবেসে(যেমন আমার স্ত্রী)....

সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:০২
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×