একটি স্টলের সামনে দিয়ে হেঁটে যেতেই মনমুগ্ধকর লেডিস পারফিউমের গন্ধে ভেতরটা নেচে উঠলো। নাক টেনে টেনে গন্ধের উৎস খুঁজতে লাগলাম।
পেয়েও গেলাম। ঠিক ডান পাশেই ছোট একটি স্টলে শাড়ি পরিহিতা সুদর্শনা এক তরুণি বসে আছেন। গন্ধটা তার থেকেই আসছে।
স্টলের সামনেই যেতেই লাজুক ভঙ্গিতে মৃদু হাসলেন। ফাগুনের হালকা বাতাসে তার কপালের উপরের চুলগুলো কিছুটা উড়ছিল এলোমেলভাবে।
রক্তরাঙা ঠোঁট যুগলের দিকে তাকিয়ে মনে হলো যেন, শিমুল ফুল ফুটে আছে।
দুয়েকটি বইয়ের পাতা উল্টে দেখছিলাম মাথা নিচু করে। এমন সময় তরুণি একখানা বই হাতে নিয়ে হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, "আমার লেখা বই।"
"আপনার লেখা বই?" উচ্ছ্বাসিত কণ্ঠে বললাম আমি।
"হুম।" মাথা উপর নিচ করলেন তরুণি।
"কী লিখেন আপনি?"
"কবিতা। হয় না তবুও চেষ্টা করি। পড়ে দেখবেন।"
মনটা ভালো লাগায় ভরে গেল আমার। অটোগ্রাফসহ বইটি কিনে নিলাম। কী লিখেছে বা কী থাকতে পারে ঐ বইয়ের ভেতর আমি জানি। তবুও কিনলাম।
একটু হেঁটে যেতেই এক তরুণ পথ আগলে দাঁড়ালো। খানিক ঘাবড়ে গেলাম..।
"এ স্টল থেকে আমার বই বেরিয়েছে। একটু দেখেন।" লাজুক ভঙ্গিতে বলল তরুণটি। দারুণ ভালো লাগলো। এক তরুণ তার বই কেনার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছে, আহ্বান করছে...। আমাকে সিগারেট টানার জন্য সাধছে না। গাঞ্জা ইয়াবার স্বাদ নেবার জন্য ডাকছে না। খারাপ পাড়ায় হাত ধরে নিয়ে যাচ্ছে না...। চুরি ডাকাতি খুন-খারাবির সঙ্গ দিতে বলছে না।
অতি যতনে লেখা তার একখানা বই কেনার জন্য কিংবা দেখাবার জন্য পথ আগলে দাড়িয়েছে আমার। টেনে নিয়ে যাচ্ছে আমায়...।
এবারও বইমেলায় আমার কেনা বইয়ের ভেতর নবীন ও তরুণদের লেখা বইগুলোই প্রাধান্য পেয়েছে। কয়েকজনের লেখা পড়ে আমি দারুণ অভিভূত হয়েছি। এত ভালো ভালো লেখাও আমাদের চোখ এড়িয়ে যায়!!
তারুণ্যের জয় হোক। আরো আরো তরুণ লেখকের জন্ম হোক।....
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




