somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

দি হাবলু
আসলে আমি খুবই আপনভোলা। ভাবতে ভালোবাসি। এই বয়সে কার্টুন দেখে নির্মল আনন্দ পাই। ছবি আঁকাই মনের সুখে। গলা ছেড়ে গান গাই যখন কেউ থাকে না পাশে।

৩ বছরের আগের "আমি" এর সাথে হঠাৎ দেখা

২১ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ১২:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সেদিন হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ তে মিটিং ছিল। সবাই ফর্মাল ড্রেসে গেলেও আমি গেছিলাম হলুদ পাঞ্জাবি পরে। মুখভর্তি দাঁড়ি। অনেকটা হিমু টাইপ অবস্থা। বিদেশি কোম্পানির প্রতিনিধির সাথে মিটিং ছিল।
মিটিং শেষে উবার নিয়ে বের হলাম। ইচ্ছা ছিল হাতিরঝিল হয়ে বাড্ডা-কুড়িল হয়ে খিলখেত ফ্লাইওভার দিয়ে উত্তরা যাব। কিন্তু সোনারগাঁ থেকে বের হয়ে হাতিরঝিল যাওয়ার পথে জ্যামে পড়লাম। গাড়িতে রেডিও চলছে।
গাড়ির জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকালাম। সোনারগাঁ যেদিকে আছে ওইদিকের ফুটপাথে চোখ গেল। অনেক মানুষ হেঁটে তাদের গন্তব্যে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে একটা ছেলের দিকে চোখ গেল। উষ্কখুষ্ক চুল। মুখভর্তি দাঁড়ি।
গায়ে টিশার্ট-জিন্স আর কানে হেডফোন গুজে গান শুনতে শুনতে আপন মনে হেঁটে যাচ্ছে। চেহারা টা কেমন জানি পরিচিত মনে হল। জ্যাম তখনি আছে। ছেলেটা পার হয়ে যাচ্ছে। আমার কাছে কেন জানি মনে হচ্ছে ওকে
ডাকতে হবে। ওকে কিছু বলতে হবে। আমি গাড়ি কাচ নামিয়ে গলায় যত জোর আছে সব একত্র করে ছেলেটাকে ডাক দিলাম, "হাবলু"। কানে হেডফোন থাকায় ছেলে টা শুনতে পেল না। আবারো ডাকলাম,"হাবলু"
তারপরেও শুনতে পেল না। জ্যাম ছেড়ে দিল। আমার গাড়ি চলা শুরু করেছে। আমার গাড়িটা ওকে পার হয়ে যাচ্ছে। আমি জানালা দিয়ে মাথা বের করে ওর দিকে তাকিয়ে আছি। হঠাৎ আমার দিকে তার চোখ পড়ল। হতভম্ব হয়ে গেল।
কান থেকে হেডফোন খুলে আমার দিকে তাকিয়ে থাকল। আমি আবারো সব শক্তি দিয়ে চিৎকার করে বললাম,"হাবলু, I made it, I made it." তার মুখে গর্বের হাসি ও আনন্দের পানি দেখলাম। তার মুখ নড়ে উঠল। আমি যেন
স্পষ্ট শুনতে পেলাম, সে আমাকে বলছে,"থ্যাঙ্কস"। আমার গাড়ি জোরে হাতিরঝিলে ঢুকে গেল। আমারো চোখে আনন্দের পানি ও মুখে হাসি নিয়ে রেডিও শুনতে থাকলাম।

ওই হেঁটে যাওয়া হাবলু ছেলেটা হল তিন বছর আগের আমি। বেকার। অনেক জায়গা থেকে রিজেক্টেড। ভাঙা মন নিয়ে একবার হাটতে হাটতে প্যান প্যাসিফিক সোনারগা এর সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এবং নিজেকে প্রমিস করেছিলাম যে
একদিন আমি এইখানে আসব। সন্মানের সাথে। অফিসিয়াল কাজ করব। আয়েশ করব। আড্ডা দিব। আল্লাহর অশেষ রহমতে সেই সুযোগ টা আমি পেয়েছি। আজ যাওয়ার পথেই ওই মন ভাঙা উষ্কখুষ্ক আমার সাথে দেখা হয়ে গেল। আহা ছেলেটা না
কি কষ্টেই দিন পার করতেছে। মাসের শেষ সপ্তাহে ছেলেটার হাতে ৭০০ টাকা থাকলেই সে আনন্দে ডুবে যেত। কত মানুষের কাছে থেকে ছেলেটা কত রকম খোঁটা খাচ্ছে। কেউ নেই হাত ধরে টেনে তোলার।
মাঝে মধ্যে ইচ্ছে হয়, তিন বছর আগের আমি কে নিয়ে ডেকে ভালো কিছু খাওয়াই। আর ওকে বলি,"চিন্তা করিস না, সব ঠিক হয়ে যাবে। এই দেখ, আমার দিকে তাকা। আমার এই পর্যায়ে আসতে কারোর কোন তদবীর বা সাহায্য লাগে নাই। আমি নিজ যোগ্যতায়
আসছি। আমি যেকোন জায়গায় বুক ফুলিয়ে চলতে পারি। ভার্সিটিতে থাকা কালিন যেই মেয়ে বড়লোক ছেলের সাথে রিলেশনশিপ করার জন্য তোর সত্য ভালোবাসাকে প্রত্যাখ্যান করে দিছিল, সেই তোর নাম্বার জোগাড় করে তোর কাছে জব অফার খোঁজে (যদিও ঐ মেয়ের গলা তুই প্রথমে চিনতে পারবি না)।
সুতরাং চিন্তা নাই। এই দেখ আমি লাইফ কে কি পরিমান এনজয় করতেছি। কাজ কে কাজ মনে হয় না। মনে হয় আমি যেন আড্ডা দিতে অফিসে যাচ্ছি। সো চিল কর। জীবন কে উপভোগ কর"

সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ১২:৫৫
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

» বিজয়ের মাসে লাল সবুজের পতাকার রঙে আঁকা ছবি (ক্যানন ক্যামেরায় তোলা-১১)

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:০৮



বিভিন্ন সময়ে তোলা এই ছবিগুলো। সবগুলোই ক্যানন ক্যামেরায় তোলা। বিজয়ের মাস তো তাই এই পতাকা রঙ ছবিগুলো দিতে ইচ্ছে করতেছে। কী সুন্দর আমাদের দেশ। কত ফল ফুলে ভরা। কী সুন্দর... ...বাকিটুকু পড়ুন

নগরবধু আম্রপালী মহাকাব্য

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৪৪


ভুমিকা: উপনিষদে নারীর স্বাধীন ক্রিয়াকলাপে অংশগ্রহণে বানপ্রস্থ এবং সন্যাস গ্রহণের বর্ণনামূলক অনেক বিবরণ পাওয়া যায়। প্রাচীন ভারতে কিছু রাজ্যে নগরবধূর মতো প্রথা প্রচলিত ছিল। নারীরা নগরবধূর ঈপ্সিত শিরোপা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্যরচনা : আমার বোধিলাভ !!!

লিখেছেন গেছো দাদা, ১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:৩৭

আজ একটু সকালে ঘুম ভেঙে গেল। দোকান আছে, যেতে হবে। সোফায় বসে হঠাৎ আধ্যাত্মিক ভাব এল। চোখ বন্ধ করে ভাবতে লাগলাম আমি ...

★১) আমি কে?

★২) কোথা থেকে এলাম?

★৩)... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারের লোকদের ভাবনাশক্তি আসলে খুবই সীমিত!

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:১০



মগের বাচ্চারা আগে ছিলো দলদস্যু, বাংলার উপকুল ও নদী-তীরবর্তী গ্রামগুলোতে লুতরাজ চালাতো, গরীবদের গরু-ছাগল, ছেলেমেয়েদের ধরে নিয়ে যেতো; এখন তাদের হাতে আধুনিক অস্ত্র, তারা নিজেদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সনেট:- বোধোদয় হোক

লিখেছেন হাবিব স্যার, ১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:২৪



(০১) সেদিন হাত কথা বলবে

নফসের গোলামীতে দুনিয়ার মোহে
ক্ষমতার দাপটেতে কর অপরাধ
নিজেই নিজের লাগি আঁকতেছ ফাঁদ
একদিন পড়ে যাবে সময়ের ক্ষোভে।
টাগরা জোয়ান তুমি রস ভরা দেহে
শরীরের ঝাঁকুনিতে নেচে উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×