somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

৬ষ্ঠ তরী

০৭ ই এপ্রিল, ২০১৭ সকাল ৭:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ছুটিছে ৬ষ্ঠ তরী চারটা বছর ধরী
বিদায় বেলায় রইলো যে তাই হাজারো আহাজারী।
দিপ্তীময় সূর্য হয়ে এসেছিলি তোরা
গোধূলী বেলায় চেয়ে দেখরে
শক্ত কত বন্ধুতের গোড়া।

এক বছর,দু'বছর করি
পেরিয়ে চারটা বছর,
গড়েছি শত বন্ধনের ইতিহাস
রবে যা চির অমর।

আজ তাই মনে পরে যায়,
শাকিলা,সুমি,মিতা,চায়না,
তনিমা, সুমি,শুক্লার দল।
ঘুরবো কোথাও এক সাজেতে
কাফিকে নিয়ে চল।

ক্লাসের শান্ত মেয়ে মাফিয়া তার নাম
মনযোগের সাথে ক্লাস করা সদা যে তার কাম।
তানসু,চেতনা,রিমা,সামু,
যুথি,বিথী,সাথির দল।
নাচানাচিতে মাতিরে সবাই
বুলবুলকে বল।
সে যে মোদের বন্ধু আপন,
রাখিস না কিছু যে গোপন।

এমনিভাবে হায়,দিন যে কেটে যায়;
৬ষ্ঠ তরীর ভেলায় চলছি কিনারায়।

চলছি মোরা,সাথে মানিক-জোড়া;
খাদিজা-রেহানা,মৌ-ইসরাত,
রাবেয়া-শামিমা,নূরী-পিংকি তোরা।
হেথায়,যেথায় ঘুরে ফিরি, ভেবে হই সারা।
চারটি বছর এমন বাধনে
ইউনুস আলীর মধুরো বচনে
সকলে মজিলো রে।

এমনি করে কাটছে যে দিন
চলছি অনেক দূর,
চলছে তরী,গড়ে বন্ধুত্বের বাড়ি
বিছিয়ে হৃদয়পটে মধুর স্মৃতির টান,
কভূ যেন হয়নারে শেষ রইলো আহ্বান।

ময়না,তানিয়া,গড়েছে মায়াজাল চার বছর ধরে,
সকলেই মোরা জানি যে তা,নয় অগোচরে।

বিলকিস,আমেনা,আফরোজা,শারমিন
হাসি,গল্প আর পড়াশুনায় ব্যস্ত যে সারাদিন।
নূরজাহান,সোনিয়া, জুই সই যেন মনে হয়,
দেখা নাহলে দিনযে কাটার নয়।

থ্রি ইডিয়ট মিলি,লিজা,শোভা
ক্লাসেও তাদের আলাদা করবে সাধ্য রাখে কেবা?।
মাসুম যে তার নিত্য সংগী দিয়ে শত সঙ্গ,
এই বন্ধন কোনদিনও তাই হবেনা ভঙ্গ।

৬ষ্ঠ তরী,৬ষ্ঠ তরী
যেতে হবে তারাতারী,ডাকিছে দিগন্ত;
দরকার যে তার মানবসেবার
সবে যে আজ আক্রান্ত।

ক্লাসের তোতাপাখি তাজরিন,বিউটি,লিপি,তাহরিমা;
তাদের আগে কেউ বলবে পড়া এ কভু হবেনা।

খদিজা,রিম্পা,মাসুরা ওরা
গাজী তাদের কত যে আপন
যায় কিরে বলা।

রাবেয়া,মাহফুজা,পারভীন,দোলা ও দোলন;
রাখিরে তোদের কথা হৃদয়ে সারাক্ষণ।
ক্লাসের মাঝে কথার জোড়ে রাখতিরে তাজা,
অবহেলা করলে কিন্তু দিব ভীষণ সাজা।

এমনিভাবে দিয়াছি পাড়ি,চলেছি বহৃদূর
ডাকিছে প্রান্তর যেতে হবে তাই,হব যে পারাপার।
বন্ধু মোরা রব চিরন্তন
তৃপ্তি,ইভা,রিনা করিসনা খন্ডন।


ইতি, সালমা,জুলি,সাদিয়া,নিলুফা,লাখ
রাখিস খেয়াল তরী যেন কোথাও, নেয়না আবার বাক।
লেবুর ফুলের মধুর গন্ধে সদা রইবো জাগা
পারবেনা কেউ হারাতে,আছেই বা আর কেবা।


সম্পা,শাম্মি,নাহার,রিমা
না হলে যেন আড্ডাই জমেনা।
হাসি,গল্পে মাতিয়ে ক্লাসখানা
বইগুলো যে রাজুর ঠিকানা।
রাজু যে মোদের বন্ধু আপন
সব পড়াগুলো বুঝিয়ে দে এখন।

মরিয়ম,আমিনা,আসমা,ফারহানা,পান্না;
হারাবিনা কোনদিন এই বলে করল ভীষন কান্না।

সত্যি তাই দিগন্ত বেলায়,
যেতে হবে নতুন ঠিকানায়।
রাখবি কি মোদের তোদের কল্পনায়?

রিক্তা,রিতা,রনজিতা,দিলরুবা,অরুণিমা
গাইবে গান খোলা আকাশে,আজ যে পূর্ণিমা।
৬ষ্ঠ তরীর ব্যথার পূজা হবে যে সমাপন
একটাই দাবি ভুলিস না,মনে রাখিস আজীবন।

লুনা,রিমা,সাথি,শামিমা,
সাহিনা,জুই,মেহেরুন ওরা
রহিলো সজাগ ধরিয়া তরীর হাল সর্বদা।

৬ষ্ঠ তরী যে চলছে হাকিয়া
দুর্যোগ-প্রবন সাগর পাড়ি দিয়া চলিছে অবিরত।
থাকিসরে সজাগ হয়না যেন তরী ক্ষত।

এমনি করে পড়লো মনে,আর কিছু স্মৃতিকথা,;
আরো আছে যে নিপা,সুচনা,আফরোজা।
হাফিজের সাথে ডিউটিটা হয়না যে বৃথা,
করিতে মানবসেবা মোরা কভু হবনা পিছপা।

ক্লাসের পরিশ্রমী বালিকা নাবিলা যার নাম,
ক্লাসসহ সবকিছুকেই সতেজ রাখিবে এই তার কাম।

৬ষ্ঠ তরীতে আরো আছে
সুমাইয়া,জান্নত, ফারজানা,নিলুফা,নিসা;
তাইতো মোদের তরী কভু হারায়নি কোন দিশা।
দিনগুলি মোদের কেটেছে ভীষণ
কেটেছে কত যে রঙ্গিন,
হাফিজ, মাসুম,রাজু, বুলবুল,গাজী, কাফি, মাহী;
ঘুরেছি কত শত দূর হয়ে সীমাহীন।
সকাল-দুপুর,রাত্রি মোরা
গড়েছি সহস্র স্মৃতি
হয়ে যে ছন্নছাড়া।

৬ষ্ঠ তরী ফিরিছে কিনারে
শত ক্রোশ দিয়ে পাড়,
দিতে হবে বিদায় তোদের
এই ভেবে আজ হৃদয়ে হাহাকার।

চারটি বছরের জমানো স্মৃতি
ভুলিস না যেন এই মোদের আকুতি।
নতুন বিশ্বের সুন্দর সূচনা
হোক মোদের এই প্রার্থনা।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×