পয়েন্ট টু বি নোটেড------------
গতকাল বিকেলে অফিস শেষ করে বাসায় যেতে একটু লেইট হলো। আমি যে প্রকল্প লিড করি সেটার সমাপনী কিছু কাজ করতে করতে সন্ধ্যা সাড়ে ছ টা। আমার অফিস বিল্ডিং এর ঠিক নীচেই ডানডাস সাবওয়ে। দৌড়ে ট্রেনে চেপে বসতেই ঘোষনাটা এলো। ইয়র্কমিলস ষ্টেশনে ট্রেন থামবে না। মানে হলো আমি যে ষ্টেশনটাতে নামবো সেটাতে ট্রেন থামবে না। কি একটা ঘটনা ঘটেছে, পুলিশ সেটা ঘেরাও করে ইনভেষ্টিগেশন করছে। যতক্ষণ পর্যন্ত সেই জায়গাটা পুলিশ নিরাপদ মনে না করবে ততক্ষণ ট্রেন ওই ষ্টেশনটা এড়িয়ে যাবে, থামবে না। তার মানে আমাকে হয় তার আগেরটায় না হলে পরেরটায় নেমে যেতে হবে। আমি সাথে সাথে ডিসিশন নিলাম, আজ আর ওই রুটেই যাবো না। আমি তিন ষ্টপেজ পর, নর্থ সাউথ বাদ দিয়ে ইষ্ট ওয়েষ্ট ট্রেন ধরতে ব্লুর ষ্টেশন নেমে গেলাম। দেখলাম, শুধু আমিই নয়, আরো অনেকেই একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্লুরে নেমে ভিন্ন রুট ধরে বাসায় পৌছতে একটু দেরী হলেও অনেকটা স্বস্তি ও নিরাপদ বোধ নিয়ে যাত্রাটা শেষ করলাম। করতে পারলাম এজন্য যে কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুবিধাকে অগ্রাধিকার দেন এবং সেটাই যে কোন গনতান্ত্রিক ও সভ্য দেশের নিয়ম। কে জানে, আমি যদি সেই রুটেই যেতাম, পরের ষ্টেশনে নামলেও হয়তো একটা ঝামেলায় পড়ে যেতে পারতাম! তাই মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ আগে ভাগেই জানানোতে ডিসিশন নিতে আমার জন্য সুবিধা হলো।
পক্ষান্তরে, আজ সকালে অফিসে আসার আগে টিভি খুলে বাংলাদেশী চ্যানেল ঘোরাতেই মনটা ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠলো। মিডিয়ার সামনে প্রেস কনফারেন্স করছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, কথা বলছেন মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সাথে আছেন ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। উনারা বেসরকারী টিভির মালিক, সিইওদের ডেকেছেন, বলছেন যেন, দেশকে স্বাভাবিক দেখানো হয়। জনগনের জানমালের ক্ষতি কিংবা অরাজকতার ছবি যেন প্রকাশ না করা হয়, কারন সেগুলো খুবই বিচ্ছিন্ন ঘটনা। দেশ খুবই স্বাভাবিকভাবে চলছে, কত হাজার দুর পাল্লার গাড়ী চলেছে, কতগুলো এরোপ্লেন ছেড়েছে, ট্রেন চলেছে সেই ফিরিস্তি দিয়ে যাচ্ছেন। সরকারী পক্ষের বেসরকারী টিভি মালিকেরা সেটাকে হাসিমুখে মেনেই নিলেন না, বরং পক্ষেই যুক্তি দিলেন। ঠিক যেন, রাজা যত বলে, পরিষদ বলে তা সদলবলে!এখন উনারা যদি সত্যিই তা করেন, আর তা বিশ্বাষ করে যদি কিছু সরলপ্রান মানুষ স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে যেয়ে আবারও আগুনে পুড়ে কাবাব হন তার দায় দায়িত্ব কে নেবে? সরকার বা মিডিয়া যদি জানেন যে আজ গুলশান এক নম্বরে গোলমাল হচ্ছে, জেনেও সেটা জনগনকে না বলেন, না জানান, চেপে যান, আর তার জন্য সে এলাকা দিয়ে যেতে গিয়ে কোন নিরীহ কলেজ ছাত্রী, বিদেশ ফেরত কোন প্রবাসী কিংবা একজন দিনমজুর বিপদে পড়েন, তার জন্য কোন দায় দায়িত্ব কি এই প্রগতিশীল মন্ত্রী সাহেবরা নিবেন?
আওয়ামী লীগ যুক্তরাষ্ট্র শাখার একদল নেতৃবৃন্দ আমেরিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রী জন কেরীকে স্মারক লিপি দিয়েছেন যাতে বাংলাদেশে জামাত ইসলামকে নিষিদ্ধ করা হয়। বাংলাদেশে কবে ক্ষমতার পরিবর্তন হলো, জানতেও পারলাম না, আফসোস। গত রাতে ঘুমাতে যাবার আগেওতো জানতাম আওয়ামী লীগই সরকার চালাচ্ছে! আজ ঘুম থেকে উঠার পর কি দেশে মুসলিম লীগ এসে গেল কি না বুঝতে পারছি না। না হলে, উনারা নিজ দলের দাপুটে সরকারকে না বলে কেনো আমেরিকার জন কেরীকে বলতে গেলো, ঠিক বোধগম্য হলো না।
পরিস্হিতির আলোকে দেশে মোটর সাইকেলে একজনের বেশী চলাফেরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়েছে। এরশাদের আমলে তিনজন চড়ার উপর নিষেধাজ্ঞা ছিল, সেখান থেকে গত ২৪ বছরে একজনে এসে ঠেকেছে। দেশ নিশ্চয়ই এগিয়েছে। বাংলা লিংক দামে!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

