অপরিকল্পিত নগরী আপনি বা আমি গড়ে তুলি নি। যেখানে এক তলা বিল্ডিং হবার কথা সেখানে বিশতলার অনুমতিও আমি দেই নি। তার পর সেই যে বিশ তলা করলেন, সেখানে যে পরিমান রড দেবার কথা সেটা দেয়া হয় নি। তিন ভাগ বালু দুই ভাগ সিমেন্ট না দিয়ে সাত ভাগ বালুর সাথে দুই ভাগ সিমেন্ট মেশানো হয়েছে, এই আত্নঘাতি কাজটাও আমি বা আপনি করেন নি।
যেখানে আবাসিক ভবন করার কথা সেখানে অবৈধভাবে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন করা হয়েছে। যেখানে দশফুট রাস্তা করার কথা সেখানে চার ফুট বা তিন ফুটের সরু গলি বানানা হয়েছে। সেখানে দমকল, এ্যাম্বুলেন্সতো দুরের কথা দুটো রিকসাও পাশাপাশি চলতে পারে না। যেখানে টু ওয়ে রাস্তা হবার কথা সেখানে ওয়ান ওয়ে বানানো হয়েছে। যেখানে পানি থাকার কথা, লেক থাকার কথা সেখানে অবৈধ কাঠামো বানানো হয়েছে, দখল করে নেয়া হয়েছে নাগরিকদের নিরাপদে বেচে থাকার সকল অধিকার। এগুলোর কোনটাই আপনি বা আমি করি নাই।
বিল্ডিং বানানোর পর সেগুলো ভেঙে পড়লে ক্ষতিপুরন পাবার কোন জন্য কোন ইন্সুরেন্স বা নাগরিক দের বেচে থাকার ন্যুনতম গ্যারান্টি নেই। হাসপাতাল, জরুরী সার্ভিস সবকিছুই অপ্রতুল, অব্যবস্হাপনায় ভরপুর। একদিন, দুদিন, এক মাস দুমাস, এক বছর দশবছর করে ৪৪ বছর পার করে দেয়া হয়েছে।
আল্লাহ না করুন, আজ যদি নেপালের মত বাংলাদেশেও এরকম কোন ঘটনা ঘটে, বিশেষ করে ঢাকা শহরের কি অবস্হা হবে? কত লোক মারা যাবে? এইলোক গুলোই বা কারা? তখন কি ভুমিকম্প বলবে, এই খাড়া, সবুর, এটা আওয়ামী লীগের এলাকা বা এই বিল্ডিং এ বিএনপির ছেলে পুলে বাস করে, সুতরাং এইটা ভাঙিস না, এইটা বাদ দিয়ে ভাঙ্গো!!!!???
কারা দায়ী? ওরা যারা সরকারে আজ আছেন। যারা গতবারও ছিলেন। যারা আজ বিরোধী দলে আছেন। যারা আগে মেয়র ছিলেন। যারা আজ আবারো মেয়র হতে চান। যারা নুতন করে দলীয় ছত্রছায়ায় মেয়র হতে চান আর বলেন, অমুক নেত্রী যার দিকে তাকান, হয় তিনি ধ্বংস হয়ে যান না হলে তার ভাগ্য পরিবর্তন হয়ে যায়!
তারপরো আমরা তাদেরকেই ভোট দেই। আবারো দেব। তাদের পেছনেই চিক্কুর দিয়ে দিয়ে নিজের জীবন, সম্পদ বিসর্জন দেই। ওদের বাড়ী, বিল্ডিং হয়তো ভুমিকম্প প্রতিরোধক করে তৈরী। কিন্তু আপনার আমারটা? আপনার বিল্ডিং, বাড়ী ভেঙে পড়লে ওরা আপনার মৃতদেহের উপর দাড়িয়ে ত্রান তহবিল গঠন করবে, বিশ্বের কাছে হাত পেতে মিলিয়ন ডলার কালেক্ট করবে, কিন্তু আপনার মৃতদেহ সতকার হবার আগেই, সেই টাকা আত্নসাত হয়ে যাবে। আপনার রেখে যাওয়া পরিবার সেখান থেকে এক টাকাও পাবেন না।
আপনি সৌভাগ্যক্রমে যদি আহত অবস্হায় হসপিটালেও জায়গা পান, বিশুদ্ধ রক্ত পাবেন না, সময়মত ডাক্তার পাবেন না। অযত্নে অবহেলায় আপনিই মরবেন, ওরা যাবে সিংগাপুর না হলে থাইল্যান্ডে উন্নত চিকিতসা নিতে।
তারপরো দাত কেলিয়ে ওরা আসেন, আসবেন আপনার ভোট নিতে। আপনিও দিতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করবেন।
কারন আপনি ক্রীতদাস। আজীবন দলীয় ডান্ডাবেড়ী পরা মানুষ রুপী ক্রীতদাস। ওদেরকে ধন্য করাই আপনার একমাত্র কাজ, জীবনের লক্ষ্য! আপনি মরবেন না তো কি ওরা মরবে?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


