somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুসলমানদের পরাজয়ের ইতিহাস এবং কারন অনুসন্ধান

১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ভোর ৪:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইসলামের প্রাথমিক যুগের ইতিহাস, মুসলিম স্ম্রাজ্যের বিস্তার এইসব কমবেশি সবাই জানেন। ইতিহাস সাক্ষী দেয় একসময় মুসলমানরা অর্ধেক পৃথিবী (Half of the known world) শাসন করেছে, এবং জ্ঞান বিজ্ঞান, ন্যায় বিচারে সবার জন্য একটা রোল মডেল ছিল। ঐ সময়ে তারা সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছিল, বাক স্বাধীনতা, মত প্রকাশের সবার সমঅধিকার, অন্য ধর্ম, মতের প্রতি শ্রদ্ধা সবই ছিল, যেখানে তখন ইউরোপ সহ অন্য দেশ গুলি কুসংস্কারে নিমজ্জিত ছিল।মানুষ মুসলমানদের কাছে জ্ঞান বিজ্ঞান শিখতে আসত, আজকে যেমন মুসলমানরা অন্যদের কাছে শিখতে যায় । এই ইহুদীদের স্বর্ণযুগ ছিল মুসলমানদেরই শাসনামলে। স্পেনে মুসলিম শাসনকালে ইহুদীরা সবচেয়ে ভাল ছিল-এটাও ঐতিহাসিক সত্য।

তারপর হটাত করে সব কিছু বদলে যেতে লাগল। মুসলিমরা আস্তে আস্তে অন্য মত, ধর্মের প্রতি অসহনীয় হয়ে উথল এবং নিজেরাই উগ্রতা এবং কুসংস্কারের মধ্যে ডুবে যেতে লাগল।

এর ফলে আস্তে আস্তে মুসলমানরা তাদের গৌরব হারাতে লাগল, সেই সাথে সম্রাজ্য। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর অটোমান সম্রাজ্যের পতন, ১৯৪৮ সালে প্যালেস্টাইন দখল, ১৯৬৭ সালের ৬ দিনের যুদ্ধে পরাজিত এই সবই মুসলিম জাতির নিকট অতীতের পরাজয়ের ইতিহাস। এর সাথে আছে মুসলিম অধ্যুষিত দেশ গুলির চরম খারাপ অবস্থা। সবখানেই জ্বালাও পোড়াও চলছে। আমি আমার এই লেখায় মুসলিম জাতির পরাজয়ের সন্তাব্য কারন কি সে বিষয় খুজার চেষ্টা করব।

মুসলমানরা যখন পরাজিত, তখন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মুসলিম, বিভিন্ন গোষ্ঠী, বিভিন্ন মুসলিম দেশ এর কারন অনুসন্ধান করেছে এবং এর থেকে উত্তরণের পথ খুজেছে। অনেকেই মুসলিম জাতিকে তার আগের অবস্থানে ফিরিয়ে নেবার চিন্তা করেছে। তারা বুঝতে পেরেছে, কোথাও অবশ্যই ভুল হয়েছে, এবং সে ভুল খুজে, তা শুধরিয়ে বা শুরু থেকে চেষ্টা করে আবার আগের অবস্থানে ফিরে যাওয়া যায় কিনা সেই ব্যপারেও চিন্তা করেছে এবং চেস্টাও করেছে। এই জন্য তারা আগের মত করে ইসলামিক স্টেট সৃস্টি করে ইসলামিক গভর্নমেন্টের মাধ্যমে দেশ পরিচালিত করার চেষ্টা পর্যন্ত করেছে, কিন্তু সেই চেষ্টা কোন ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারেনি। মুসলমানদের এই ধারাবাহিক পরাজয় এবং বিভিন্ন মুসলিম দেশের এবং মুসলমানদের বর্তমান অবস্থান দেখে অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে মুসলমানরা যাকে স্রস্টা বলে মানে, সেই “আল্লাহ” মুসলমানদের পরিত্যাগ করেছে। তাই যদি হয় তবে প্রশ্ন হচ্ছে কেন? মুসলমানরা কি এমন অপরাধ করেছে যে, যারা একসময় তাদের বিদ্যা, পারদর্শিতা, জ্ঞান, বিজ্ঞান, ন্যায়বিচার দিয়ে পৃথিবীতে উদাহরণ সৃস্টি করেছিল, তারাই আজকে চরম দুর্দশা গ্রস্ত, কেউ এক দেশ থেকে আরেক দেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছে এবং তা দেখে কেউ চুপ করে বসে আছে অথবা কেউ হাসছে। তবে কি মুসলমানরা ইহুদীদের মত তাদের সৃষ্টিকর্তার সাথে করা চুক্তি (Covenant ) ভঙ্গ করেছে এবং সেই ইহুদীদের মত শাস্তি ভোগ করছে? তবে কি মুসলমানরা ইতিহাসে ইহুদীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করছে?

“As for those who break their pledge with God after having made its covenant, and they withhold what God has ordered to be delivered, and who cause corruption on the earth; upon those is a curse and they will have a miserable abode.” (Qur’an 13:25)

কোরআনের এই ১৩:২৫ আয়াত আবার পড়ুন এবং দরকার হলে বার বার পড়ুন এবং মুসলিমদের অবস্থা সম্পর্কে মেলানোর চেষ্টা করুন। The curse of God is upon us

(কোরআনে আল্লাহ এই covenant এর কথা অনেক জায়গায় মুসলমান এবং ইহুদীদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। এই covenant এর কথা মোল্লাদের কে আমি কখনো তেমনভাবে বলতে শুনিনি। মুসলমানদের জন্য এই covenant খুবই গুরুত্বপুর্ন, কিন্তু এটা সবসময় আমরা ওভারলুক করে যাই। বাইবেলেও বিভিন্ন নবীর সাথে ঈশ্বরের এই covenant এর অনেক কথা বলা আছে, এবং কোরআনে তা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাই হোক, এইটা এখানে আমার লেখার বিষয় না, তবে কেউ যদি এই বিষয়ে আগ্রহী হন তাদেরকে আমি ইহুদীদের ধর্মীয় ইতিহাস পড়ে দেখতে বলব, এটা করলে দেখতে পাবেন মুসলমানদের ধর্ম বিকৃতি আর ইহুদীদের ধর্ম বিকৃতির ইতিহাস প্রায় একই রকম)

কেস স্টাডি ১ঃ ইরানঃ
কোথাও ভুল হয়েছে বুঝতে পেরে মুসলমানরা পুরাতন ইসলামিক ব্যবস্থা যা নবী প্রতিষ্ঠিত করে গিয়েছিলেন এবং চার খলিফা ঐ পদ্ধতির উপর ছিলেন তা ফিরিয়ে আনার তাগিদ অনুভব করে। যার ফলশ্রুতিতে ১৯৭৯ সালে আয়াতুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে ইরানে ইসলামি বিপ্লব সংঘটিত হয়। ঐ ইসলামি বিপ্লবের মুল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল একটা ইসলামি রাষ্ট্র গঠন করা যা তাদেরকে ইসলামের আগের গৌরবের অধ্যায়ে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। এই ইসলামিক রিপাব্লিক অফ ইরানের সরকার কাঠামোর মুল বিষয় গুলি ছিল নিম্নরূপঃ

১। এই ইসলামিক রিপাব্লিক অফ ইরানের সরকারের মুল কাঠামো ছিল সবচেয়ে শিক্ষিত, জ্ঞানী এক দল উলেমা কোরআন হাদিসের আলোকে কোন আইন পাশ বা বাতিল করার জন্য তাদের এক্সিকিউটিভ সিদ্ধান্ত দিবে।
২। পার্লামেন্ট আইন পাশ করবে।
৩। বহুদলীয় রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংখ্যাধিক ভোট পাওয়া রাজনৈতিক দল পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করবে।
৪। এক্সিকিউটিভ ব্রাঞ্চের প্রতিনিধিত্ব করবেন প্রেসিডেন্ট
৫। কিন্তু প্রেসিডেন্ট এবং পার্লামেন্টের উপর গার্ডিয়ান কাউন্সিল হিসাবে থাকবেন ঐ উলামা গ্রুপ (১ নম্বর পয়েন্ট)
৬। এই গার্ডিয়ান কাউন্সিল ফিকহ শাস্ত্র থেকে বিচারবিভাগীয় নীতি তৈরী করবে এবং সিধান্ত নিবে কোন আইন এই ফিকহের সাথে সামঞ্জস্য পূর্ণ কি না।
৭। এই ফিকহ কোর্ট সকল সেকুল্যার কোর্ট কে রিপ্লেস করে এবং একটা সুপ্রীম কোর্টের অধীনে স্বাধীন এবং সংঘবদ্ধ ভাবে কাজ করে।

এর পরিনিতি হল একটা লম্বা এবং জটিল আমলাতান্ত্রিক সরকার ব্যাবস্থা, যা প্রথমদিকে ধর্মীয় বিতর্কে জড়িয়ে যায়, এবং খুব সামান্য সাফল্য লাভ করে, ইরানের জনগন যে প্রত্যাশা নিয়ে এই ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিল তার খুব কম সুফলই ভোগ করে। শিয়া সুন্নী বিতর্ক, আভ্যন্তরীণ অর্থনীতি, বৈদেশিক সম্পর্ক-সব দিকেই সমস্যায় জর্জরিত। অন্যদিকে এই গার্ডিয়ান কাউন্সিলের কারনে জনগণের উপর বিভিন্ন ধরনের বিধি নিষেধ জারী করা হয় এবং এই বিধিনিষেধ পোশাক থেকে শুরু করে চলাফেরা থেকে মত প্রকাশ সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত।
যদিও ইরান এই সময়ে এসে সামরিক শক্তির দিক থেকে সাফল্য অর্জন করেছে, কিন্তু আসল সাফল্য বলতে আমরা যেটা বুঝি একটা দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক, সামাজিক অবস্থা, জীবন যাত্রার মান, নাগরিক অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা –সে দিক দিয়ে তেমন কোন উল্লখযোগ্য সফলতা আসেনি।

কেস স্টাডি ২ঃ আফগানিস্তানঃ
শিয়ারা যেমন ইরানে ইসলামি রাস্ট্র করার চেষ্টা করে ঠিক একই ধারনার বশবর্তী হয়ে ১৯৯৬ সালে আমরা সুন্নীদের আফগানিস্থানে একই চেষ্টা করতে দেখি। ১৯৯৬ সালে তালেবানরা আফগানিস্থানে একটি ক্ষমতাধর শক্তি হিসাবে প্রকাশ করে সম্পূর্ণ ইসলামি শাসন ব্যাবস্থা কায়েম করতে সচেষ্ট হয়।

তালেবান সরকার কঠোর শরিয়া আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এবং পরিচালিত হয় যেখানে বিচারক হাদিস, সুন্নাহ, কোরআন এবং তাদের জ্ঞানী উলেমাদের মতামতের দ্বারা সকল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন। তালেবান সরকার ব্যবস্থা মুলত একটা পিড়ামিড কাঠামো যেখানে সকল লেজিস্লেটিভ এবং এক্সিকিউটিভ ক্ষমতা একজনের উপর ন্যাস্ত- যাকে বলা হয় আমিরুল মুমেনিন, ঐ সময় যে ব্যক্তি এই পদে ছিল তার নাম হচ্ছে মোল্লা ওমর। তালেবান সরকার ব্যাবস্থা ঐ দেশের নারীদের উপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যেমন নারীদের স্কুলে যাওয়া এবং ঘরের বাইরে কাজ করার ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ছিল। তারা যদি তালেবানদের বেধে দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী পোশাক না পড়ত অথবা অন্য পুরুষের সাথে ঘর থেকে বের হত তবে তাদেরকে প্রকাশ্যে শাস্তি দেওয়া হত। তালেবানদের তৈরী করা আইনে মাদক, ব্যাভিচারের শাস্তি ছিল মৃত্যুদন্ড, চুরির অপরাধ ছিল হাত কেটে দেওয়া। পরুষরা সুন্নাহ হিসাবে দাড়ি রাখত বা রাখতে বাধ্য হত এবং নারীরা অপাদামস্তক ডেকে রাখতে বাধ্য হত।

শিয়াদের ইরানের মত সুন্নীদের আফগানিস্থান অভিজ্ঞতাও ব্যর্থতার রুপ নেয়। এত কঠিন শরিয়া আইন প্রয়োগ এবং বাস্তবায়নের ফলে জীবন যাত্রা অনেকটা সংকুচিত হয়ে যায়। নারীদের অবস্থা হয় সবচেয়ে করুন।

২০০১ সালে আমেরিকার আফগানিস্থান আক্রমণের পর তালেবানদের পরাজয় ঘটে এবং সেইসাথে তাদের তৈরী করা ইসলামিক রাষ্ট্রেরও। আমেরিকার আফগানিস্থান আক্রমণ এবং সেখানে তাদের মিলিটারি বেইস বসানো আগে থেকেই অনেকটা ধারনা করা গিয়েছিল। কিছুদিনের যদ্ধে আমেরিকার প্রতিনিয়ত বোমা বর্ষণে এবং তালেবানদের বিপরীত শক্তি কুর্দি বিদ্রোহীদের সাহায্যে তালেবানদের যা কিছু সামরিক শক্তি ছিল তা সম্পূর্ণ ভাবে ধ্বংস করা হলে। সামরিক এবং মানসিক ভাবে তালেবানরা সম্পূর্ণ রুপে পরাস্ত হল।

কিন্তু প্রশ্ন হল কেন এমন হল? এর উত্তরে অনেকে বলবেন যে ২১ শতকেরএকটি সম্পূর্ণ আধুনিক সামরিক শক্তি, এবং ট্যাকনলজির সাথে একটি মিলিশিয়া বাহিনী যারা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে ছিল তারা কি করে পারবে। এইখানে আমেরিকার আধুনিক সামরিক শক্তির কাছে এই ১৮-১৯ শতকের একটি বাহিনী যুদ্ধে হারবে এটাই স্বভাবিক, এবং যুক্তিযুক্ত। কিন্তু মুসলিম সমাজ, যারা নিজেদেরকে ধার্মিক মনে করেন তাদের কাছে এটা একটা বড় আঘাত এই কারনে যে তারা আজও বুঝে উঠতে পারেনা কিভাবে আল্লাহ যাকে তারা মানে বলে বিশ্বাস করে এবং তার ইবাদত করে তাদের কে ত্যাগ করেছেন।

তালেবানরা ছিল কঠোর সুন্নী মুসলমান। হাদিস এবং সুন্নাহ বইয়ের জলজ্যন্ত বাস্তবিক উদাহরণ। তারা দৈনিক ৫ ওয়াক্ত নামায পড়ত এমনকি অনেক নফল নামাজও পড়ত, মাসে ৩০ টা রোজা রাখত, নবীর অনুকরণে দাড়ি রাখত, ষষ্ট শতাব্দীর আরবদের অনুকরণে পোশাক পড়ত, তাদের রাষ্ট্রে টেলিভিশন, সিনেমা নিষিদ্ধ ছিল কারন এইগুলি ছিল শয়তানের কাজ, নারীদের কে অপাদমস্তক ডেকে রাখতে বাধ্য করত, একা বা পুরুষ আত্নীয় ছাড়া ঘরের বাইরে যেতে দিতনা, এমনকি স্কুলে যাওয়া, বাইরে কাজ করা নিষিদ্ধ ছিল, ব্যভিচারের শাস্তি ছিল হত্যা করা, তারা তাদের রাষ্ট্রে সমস্ত মূর্তি ভেঙ্গে ফেলেছিল এমনকি অনেক পুরানো বৌদ্ধ মূর্তি ভেঙ্গে ফেলেছিল যেগুলিকে একসময় মানুষ পুজা করত।

কিন্তু তারপরেও তালেবান রাস্ট্র ধ্বংস হয়ে গেল। আল্লাহ কি কোরআনে বলেননি?

“God defends those who believe. God does not love any betrayer, rejecter.” (Qur’an 22:38)

“The ones who were driven out of their homes without justice, except that they said: “Our Lord is God!” And if it were not for God defending the people against themselves, then many places of gathering, and markets, and contact prayers, and temples where the name of God is frequently mentioned, would have been destroyed. God will give victory to those who support Him. God is Powerful, Noble.” (Qur’an 22:40)

“And We have sent before you messengers to their people. So they came to them with clear proofs; then We took revenge on those who were criminals. And it is binding upon Us to grant victory to the believers.” (Qur’an 30:47)

“O you who believe, if you support God, He will support you, and make your foothold firm.” (Qur’an 47:7)

উপরের কোরআনের আয়াত গুলিতে কোন সন্দেহ ব্যতীত আল্লাহ বলছেন যে, যারা আল্লাহ কে বিশ্বাস করবে এবং তার ইবাদত করবে, আল্লাহ তাদের কে অবশ্যয় রক্ষা করবেন এবং বিজয় দান করবেন।

তার পরেও তালেবানরা পারাজিত হল, কেন?

অনেকেই হয়ত বলবেন এটা ছিল অত্যাধুনিক মিলিটারি পাওয়ারের সাথে তুলনামূলক নাবালক আধা মিলিটারির লড়াই, যেখানে পরাজয় নিশ্চিত এবং তাই হয়েছে। কিন্তু যারা ধর্ম মানেন তারা এই যুক্তি কোনভাবেই বিশ্বাস করতে পারবে না। কারন মুসলমান মাত্রই জানে আল্লাহ সর্বশক্তিমান এবং তিনিই সবকিছু নিয়ন্ত্রন করেন। কোন শক্তি তার কাছে কিছুইনা। মুসলমানরা জানে যে আল্লাহ দৃশ্যমান এবং অদৃশ্য সব কিছুর উপরই ক্ষমতাবান। মুসলমানরা আরও জানে যে নবীকে সাহায্য করতে আল্লাহ ফেরেস্তা পাঠিয়েছিল (৩:১২৩), ক্ষুদ্র এবং দুর্বল মিলিটারি শক্তি নিয়েও বিশাল এবং শক্তিশালি মিলিটারি আল্লাহর ইচ্ছায় সবসময় পরাজিত হয় (২:২৪৯)। কোন প্রযুক্তি, মিলিটারি পাওয়ার, নিউক্লিয়ার পাওয়ার তা যাই হোক না কেন, কোনভাবেই আল্লাহর শক্তি আর ক্ষমতার সাথে তুল্য না।

তাহলে কি তালেবানদের ধর্ম পালনে কোন ঘাটতি ছিল? তাদের কি আরও বেশি বেশি নামাজ পরা উচিত ছিল? তাদের দাড়ি কি বড় রাখার দরকার ছিল? নারীদের ব্যপারে তাদেরর কি আরও কঠোর হওয়ার দরকার ছিল?


কেন?
আমরা ইসলামের প্রাথমিক যুগে ফিরে যাই। হযরত উমরের খিলাফতের সময়। কাদিসিয়া যুদ্ধে যখন মুসলিম বাহিনীর হাতে পার্সিয়ানরা পরাজিত হয়, তখন পার্সিয়ান সেনাপতি হরমুযান কে উমরের সামনে উপস্থিত করা হল। হযরত উমর এই হরমুযান কে প্রশ্ন করেছিলেন,

"আগে পার্সিয়ানরা আরবদের তাদের স্ম্রাজ্যের জন্য কোন রকম হুমকি মনে করতনা। আগে যতবার তোমাদের সাথে আরবদের যুদ্ধ বা সংঘর্ষ হয়েছে তোমরা খুব সহজেই আরবদের পরাজিত করেছ। কিন্তু আজ তোমরা খুব বাজে ভাবে পরাজিত হয়েছ এবং তোমাদের সম্রাট প্রান ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এর কারন কি?”

এর উত্তরে হরমুযান বলেছিল, “ আগে আমরা যখন শুধু আরবদের সাথে লড়াই করেছি, তখন আমাদের জন্য আরবদের পরাজিত করা খুব সহজ ছিল। কিন্তু এইবার আমাদের আরবদের পাশাপাশি তাদের গডের সাথেও লড়াই করতে হয়েছে। আমাদের জন্য একসাথে এই দুইটা শক্তি (আরব আর্মি এবং তাদের গড) একসাথে মোকাবেলা করা সম্ভব হয়নি। সেই জন্য আমরা পরাজিত হয়েছি”

এটা একটা সত্য ঘটনা এবং সত্য স্বীকারোক্তি। সেই একই গড বা আল্লাহ তাহলে কেন তালেবানদের ত্যাগ করলেন। সেই একই আল্লাহ যে তাকে বিশ্বাস এবং তার ইবাদত করলে, তার কথা মেনে চল্লে সুনিশ্চিত বিজয়ের গ্যারান্টি দিয়েছেন, কেন আজ মুসলমানদের ত্যাগ করেছেন?

নবীর অভিযোগ আরোপঃ
এর উত্তর এত কঠিন কিছু না। যারা কষ্ট করে এতটুকু পড়েছেন তারা দয়া করে নিজেরাই এই প্রশ্নের উত্তর খোজার চেষ্টা করেন। আমি আপনাদেরকে শুধু মাত্র কোরআন থেকে একটা সূত্র দিতে পারি। কোরআনে উল্লেখ আছেঃ

“And the messenger said: ‘My Lord, my people have deserted this Qur’an.’ And it is so that We make for every prophet enemies from among the criminals. And your Lord suffices as a Guide and a Victor.” (Qur’an 25:30-31)

এটা কিভাবে সম্ভব যে আমাদের নবী আমাদের সম্পর্কে এই ধরনের অভিযোগ উত্থাপন করবেন, যেখানে প্রতিদিন একশ কোটি মুসলমান কোরআন তেলাওয়াত করে সোয়াবের আশায়, প্রতিদিন পাচ ওয়াক্ত নামাযের সাথে কোরআন পড়া হয়, রমযানে কোরআন খতম করা হয়, মানুষ মরলেও মোল্লা ডেকে কোরআন খতম করা হয়, কোরআনকে উচু স্থানে রাখা হয়, প্রতিটি মাদ্রাসায় প্রতিদিন কোরআন তেলাওয়াত করা হয়, তেলাওয়াতের প্রতিযোগিতা হয়। আমাদের বাপ দাদারা আমাদের কে কোরআন তেলাওয়াত করা শিখিয়েছেন, আমরাও আমাদের সন্তানদেরকে কোরআন তেলাওয়াত করতে শিখাই। তাহলে কেন নবী আমাদের সম্পর্কে কোরআন নিয়ে আল্লাহকে এই কথা বলবেন? হয়ত এর উত্তরের মধ্যেই আছে কেন মুসলমানরা আজ পরাজিত

একটা ছোট প্রশ্নঃ

মনে করুন আপনাকে একটা ভুখন্ড দেয়া হল, এটা একটা মাঝারি সাইজের দেশের সমান বা একটা দ্বীপ হতে পারে, যেখানে আপনাকে বলা হল আপনি একটা ইসলামিক রাস্ট্র প্রতিষ্ঠা করবেন। আপনি কি এইটা করতে পারবেন? আপনার উলামারা কি পারবে? পারলে এই রাষ্ট্র কিভাবে পরিচালিত হবে?

ধন্যবাদ।



সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ভোর ৪:৪৫
১৭টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৫



আজ বৃহঃস্পতিবার, ২রা আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
ইংরেজি ১৭ই সেপ্টেম্বর। গত কয়েকদিন বেশ কয়েকজন ব্লগার সামুর ভালো মন্দ নিয়ে লিখেছেন। তাদের মুল বক্তব্য হলো- সামু গেলো। সামু শেষ। তারা সামুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরাব পিনে দে.....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫১



মির্জা গালিব সম্পর্কে একটি গল্প চালু আছে। একদিন তিনি মসজিদে বসে মদ্যপান করছিলেন। তখন মুসল্লিরা তাকে বাধা দিয়ে বললেন "মসজিদ আল্লাহর ঘর, মদ্যপানের জায়গা নয়।" তখন মির্জা গালিব তাঁর বিখ্যাত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালছাল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৩৬

প্রথম পাতায় ব্যান ব্লগারের একটি পোস্টে ব্লগার রাজীব নূর মন্তব্য করে বলেছেন - “ওদের কে ‘বালছাল’ লিখতে দেন। বিনোদন নষ্ট করবেন না।”

বাহ! কী চমৎকার গণতান্ত্রিক দর্শন! এতদিন জানতাম দেশে তথ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৩ কফি শপ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:০৬

আলোর-ছায়ার দোলাচলে এক কাপ কফি পান করার সুযোগ কি পাওয়া যেতে পারে?



ছবি ব্লগ - ২ টরন্টোর আকাশ
ছবি ব্লগ - ১ মেঘলা আকাশ
...বাকিটুকু পড়ুন

×