somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অমরত্ব নিয়ে কিছু গুজব!!!!!

২২ শে এপ্রিল, ২০২১ রাত ১২:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক মানুষ আশা করেন, যদি আমি অমর হতে পারতাম!! আমার মনে হয় অমর হওয়া কোনদিনও সম্ভব না। অমরত্ব নিয়ে অনেক অনেক লোককাহিনী এবং গুজব প্রচলিত আছে, আছে অমর হওয়ার পন্থাও। এমনই কিছু রাস্তা উল্লেখ করলাম। তবে অমর না হতে পারলে বা কোন ক্ষয়ক্ষতি হলে আমাকে ধরতে পারবেন না দয়া করে।



১. সোনালী আপেলঃ অনেক মিথলজিতে এই আপেলের কথা উল্লেখ আছে। নর্স মিথলজি অনুসারে সোনালী আপেল চির যৌবন ধরে রাখে। এই আপেল ঈশ্বরেরা চাষ করেন। এই আপেল খেয়ে তারা নাকি তাদের শক্তি বজায় রাখেন। আপনারা হয়ত লকির নাম শুনেছেন ঐযে থরের সৎ ভাই। সে নাকি এই আপেল চুরি করে দানব দের হাতে দিয়েছিল। এই আপেল না পেয়ে ঈশ্বরেরা তাদের শক্তি এবং ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিল। তারপর লোকিকে বন্দী করে তার কাছ থেকে আপেলের খবর নিয়ে সেই আপেল উদ্ধার করেছিল। অনেকেই ধারনা করেন একটা সোনালী আপেল পৃথীবিতে নাকি আছে!!!



২. অমৃত সুধা বানানঃ অমৃত সুধা হল এমন একটা জিনিস যেটা আপনি খেলে অথবা পান করলে অমর হয়ে যাবেন(ভাই আমাকে কিছু বলবেন না আমি এই তথ্য যেমন পেয়েছি তেমন করে বললাম)। চীন দেশের প্রথম সম্রাট এই অমৃত সুধা (যাকে ইংরেজিতে বলে এলিকজার অফ লাইফ) খোজার জন্য লোক পাঠিয়েছিলেন, তবে সেই লোকেদের কেউ কিন্তু আর ফিরে আসে নি। এই নিয়ে একটা উপন্যাস পড়েছিলাম, নাজিম উদ্দিন ভাইয়ের, নাম সম্ভবত 'স্কার্লেট'। আবার হয়ত 'সাম্ভালা ট্রিলজি' আপনাদের অনেকেরই পড়া। যারা পড়েছেন তারা নিশ্চয় জানেন আঠার শতকের একজন কাউন্ট নাকি এই অমৃত সুধা বানিয়েছিলেন এবং তিনি অমর হয়ে গেছেন, পরে নাকি তিনি আত্মহত্যাও করেছেন। আবার হিন্দু ধর্ম অনুসারে একধরনের জাদুর পানীয় আছে যা মানুষকে অমরত্ব দান করে তবে এটা অর্জন করতে হলে আপনাকে যোগ ব্যায়ামের একজন উচ্চ লেভেলের গুরু হতে হবে।





৩. পরশ পাথরঃ পরশ পাথরের নাম আশা করি সবাই জানেন। এটা এমন একটা পাথর যেটা দিয়ে আপনি যেকোন ধাতুকে সোনাতে রুপান্তরিত করতে পারবেন। আমি আগেও বলেছি অনেক আলকেমিস্ট এই পাথর তৈরী করতে চেষ্টা করেছেন। তারা সোনা ভালবাসত কিনা জানি না তবে এই পরশ পাথর তার মালিককে অমর করে দিত। হ্যারি পটার সিরিজে বলা হয়েছিল নিকলাস ফ্লামেল নামে একজন আলকেমিস্ট ১৪ শতকে এই পাথর তৈরী করেছিলেন। তবে নিকলাস ফ্লামেল কিন্তু আসলেই একজন ছিলেন।




৪. চাঁদের খরগোশকে সন্তুষ্ট করুনঃ চাইনিজদের লোককাহিনী অনুযায়ী চাঁদে নাকি একটা খরগোশ থাকে, সে অমৃত সুধা বানাই ঈশ্বর দের জন্য। তাকে যদি আপনি সন্তুষ্ট করতে পারেন তাহলে সে আপনাকে কিছু অমৃত সুধা দিতেও পারেন!!




৫. গিলগামেশের গাছঃ প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার একটা প্রাচীন কবি গিলগামেশ। এই কবিতা অনুসারে একজন মানুষ ছিল যে ছিল অর্ধেক ঈশ্বর এবং তার অনেক শক্তি ছিল। সে একটা ছোট দেশের রাজা ছিল। একদিন সে একটা লোকের কথা শুনলো যে কিনা অমর এবং একা থাকে। এই রাজা সেই লোকটিকে খুজে বের করে তাকে তার অমরত্বের রহস্যের কথা জিজ্ঞাস করলে তিনি উত্তরে রহস্য জনক এক গাছের কথা উল্লেখ করে, যেটা যে কাউকে অমরত্ব দান করে। তবে সেই অমর লোকটা সেই গাছ সম্পর্কে আর কোন তথ্য দিতে পারেনি। এই কথা অনুসারে তিনি এই গাছ খোজার চেষ্টা করেছিল এবং সফল ও হয়েছিল কিন্তু সেই গাছ হাতে পাওয়ার আগেই একটা সাপ নাকি সেটা চুরি করে নিয়েছিল।



৬. চিরযৌবনের ঝরনাঃ পাইরেটস অব ক্যারিবিয়ান ছবিতে এটাকে আমি প্রথম দেখি। এই ঝরনায় যে গোসল করবে সে অমর হয়ে যাবে। বাস্তবে অনেক লোক এটা খোজার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সেটা কেওই খুজে পাননি।



৭. অকালটিজমঃ এই অকাল্টিজম এর আসলে দুটো অর্থ হয় , কুসংস্কার এবং গুপ্ত জ্ঞান। অনেকেই অনেক গুপ্ত জ্ঞান চর্চা করেছেন নিজেকে অমর করার জন্য। ১৯০৮ সালে কাইবালিওন নামে একটা বই প্রকাশিত হয়, সেই বইতে বলা হয়েছে যে, আপনি যদি আপনার শরিরকে খসাতে(shed এর ভাল বাংলা কি হবে জানি না) পারেন তাহলে আপনি অমর হতে পারবেন। তবে দুঃখের কথা হল এই বইতে এই কাজ টা কিভাবে করতে হবে তা বলা হয়নি।



৮. যিশুকে রাগিয়ে দিনঃ জিও ছিল এক ধনী রোমান এর সিকিউরিটি গার্ড। ইনি যিশুকে ক্রশে ঝোলান। এজন্য ঈশ্বর একে অভিশাপ করেন যে সে কখনো মরবে না।



৯. হলি গ্রেইল খুজে বের করুনঃ হলি গ্রেহল হল একটা পান পাত্র, এটার থেকে যে পান করবে সে অমর হয়ে যাবে। যিশু এটা থেকে তার শেষ খাবারের সময় নাকি পান করেছিলেন। অনেকে বলে এটা নাকি জার্মানির বার্লিনে এক গুপ্ত স্থানে আছে। অনেকেই খুজে বের করার চেষ্টা করেছে কিন্তু কেউ সফল হন নি।

১০. বিজ্ঞান ব্যাবহার করুনঃ বিজ্ঞানীরা কিন্তু অমরত্ব নিয়ে অনেক গবেষনা করছেন। অনেক এক্সপার্ট বলেন যে কোষের মৃত্যু রোধ করা সম্ভব। এবং কয়েক দশকের মধ্যে মানুষ অমর হয়ে যেতেও পারেন। আরো একতা পথ আছে আপনার পুরো মস্তিষ্কের একটা ম্যাপ কম্পিউটারে ইনপুট করতে পারেন। এটা করার জন্য আপনাকে অনেক অনেক টাকার মালিক হতে হবে।


সুত্রঃ internet
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে এপ্রিল, ২০২১ রাত ১২:৪৯
৬টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×