মাঝ রাতে শুরু হওয়া একরোখা বৃষ্টি ভোর পেরিয়ে সকালেও চলছে একটানা।
মধ্য শ্রাবনের অঝোর বরিসন ভিজিয়ে যাচ্ছে পুরো রাজধানী। বাদলা দিনের এমন বৃষ্টি থামার কোন লক্ষন মিলছেনা। কিন্তু সব ঠিকঠাক করা হয়ে গেছে, ঈদের নতুন জামা কেনাও শেষ। ভিষন ভীড় ঠেলে, যানযট পেরিয়ে, রীতিমত নাকাল হয়ে পাপ্পু,সাহেদি,পলাশ আর বাতেনরা হতভাগ্য গরিব বাচ্চা গুলোর জন্য ঈদের পোষাক কিনেছে।তবে তাদের সে কেনাকাটায় ক্লান্তি ছিলনা, কারন সহায়-সম্বলহী্ন পথশিশুদের হাতে পোষাক যখন তুলে দেয়া হবে তখন শিশুদের আনন্দ, উচ্ছাস এসব ক্লান্তিকে ছাপিয়ে যাবে।২৭ এপ্রিল চন্দ্রিমা উদ্যানে পথশিশুদের হাতে এসব নতুন ঈদ পোষাক তুলে দেবে 'বন্ধুযোগ'।
সব ঠিকঠা্ক। শিশুদেরকেও দুপুরের পর আসতে বলা হয়েছিল চন্দ্রিমা উদ্যানে।কিন্তু বৃষ্টি থামার লক্ষন নেই,তাই বৃষ্টিতে কাকভেজা হয়েই একে একে হাজির বন্ধুযোগ সদস্যরা।রিক্সা ভরতি করে নিয়ে আসা হল শিশুদের জন্য কেনা ঈদের নতুন জামা,এরই মধ্যে বৃষ্টি কিছুতা কমে গেছে আর দল বেধে মাঠ ভরে গেছে কচিকাচার মেলায়।মুখ ভরতি হাসি মাখা নিস্পাপ শিশুরা তাকিয়ে অপেক্ষায়।এই রাজধানির রাস্তায় রাস্তায় যারা দিন রাত ঘুরে বেড়ায় পেটের ক্ষুধা আর বঞ্ছনার যাতাকলে পিষ্ট হয়ে।মায়াভরা এসব বঞ্ছিত শিশুদের ঈদ বলে কিছু নেই,নেই ঈদ-এর খুশিও। মাঠের মাঝখানে সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড় করিয়ে দেয়া হল ভাগ্যবঞ্ছিত্ শিশুদের।একে একে বন্ধুযোগ-এর সদস্যরা তাদের হাতে তুলে দিলো ঈদের নতুন জামা।নিস্পাপ সেসব শিশুদের চোখের তারা তখন এক একটি ঈদের ঝলমল চাঁদ। আনন্দ,উচ্ছাস আর নতুন ঈদ জামা পাবার পরম তৃপ্তিতে আত্তহারা শিশুমন । কয়েকজন বন্ধুর একত্রিত হয়ে পথশিশুদের জন্য এ পোষাক বিতরনে্র উদ্যোগ।ছোট্ট পরিসরে 'বন্ধুযোগ' নামের একটি সৃজনশীল সমাজ বান্ধব উদ্যো্গ-এর সদস্যরা অন্তত কয়েকটি শিশুমুখে ঈদের হাসি ফোটানোর কিছুটা স্পরধা দেখালো। গত কয়েক বছর থেকেই এ কাজটি করে আসছে তারা। এছাড়াও পথশিশুদের পাঠ্য সামগ্রী ও শী্তবস্ত্র বিতরনসহ বেশকিছু কাজ করে বন্ধুযোগ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক দিয়ে পরিচয় হবার পর কিছু যুবকের এই ভাবনার শুরু। গরীব পথশিশুদের জন্য কিছু করার উদ্যেশ্যে তাদের দলবদ্ধ হওয়া। তাদের ছোট এই উদ্যোগ সবাইকে এমন আয়জনে কিছুটা হলেও প্রানিত করবে, সাহস যোগাবে নতুন ভোরে নতুন পথ সন্ধানে।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা আগস্ট, ২০১৩ রাত ১২:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


