মাননীয় সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রী মহোদয়
জনাব,
শুভেচ্ছা গ্রহণ করিবেন। অনেক ব্যস্ততার মধ্যেও ভাল আছেন বোধকরি। জনাব, আমি শুরুতেই আপনাকে অবগত করিয়া মাফ চাইয়া লইতেছি ইহার জন্য যে মহোদয়কে জ্ঞান বা পরামর্শ দেথবার ধৃষ্টতা আমার জন্য আকেবারেই অমার্জনীয়। তাহার পরও একটি বিষয় লইয়া আপনাকে কিঞ্চিত অবগত করতেই আমার এই প্রয়াস।
জনাব, সমালোচকরা দাবি করিয়া থাকেন আপনারা রাস্তায় ভিআপি প্রটোকল লইয়া চলাফেরা করেন বিধায় সাধারণ মানুষের দু:খ দুর্দশা খুব একটা উপলব্ধি করিতে পারেন না। হ্যাঁ সঠিকই ধারণা করিয়াছেন আমি কথা বলিবার চেষ্টা করিব রাজধানী শহর ঢাকার রাস্তার বেহাল দশা লইয়া। যদিও আপনার দলের নেতা-কর্মীরা কথায় কথায় ঢাকাকে তিলোত্তমা ঢাকা বলিয়া বিষেশায়িত করিয়া থাকেন। তখন এই অধম কিছুতেই তিলোত্তমা শব্দের আবিধানিক অর্থ খুঁজিয়া পায় না।
কারণ, ঢাকা শহরের যে চিত্র প্রতিনিয়ত আমার দৃষ্টিগোচর হয়। তাহার সহিত ছোটকালে শেখা ওই শব্দটার অর্থের কোনো মিল খুঁজিয়া পাই না। বেশিরভাগ সময় ঢাকার রাস্তায় বাসে চলাফেরা করিয়া অভ্যস্ত এই আমি নিজ অভিঙ্গতা থেকে আপনাদের দাবিকে বাস্তবের সঙ্গে মিলাইতে পারি না। যাক সে কথা আমি মানিলেই কি আর না মানিলেই কি আপনাদের তিলোত্তমা ঢাকার তাহাতে কিছুই উন্নতি হইবে বলিয়া বোধকরি কিছু হইবে না। তাহার চেয়ে আসল কথাটাই বলিয়া ফেলি।
ঢাকাকে আপনারা যানযট মুক্ত শহর করিবার যে পণ করিয়াছেন। সত্যই বলিতেছি তাহাতে আমার বা আমার মত সাধারণ পাবলিকের কোনো আপত্তি নাই। আপনারা উড়াল সড়ক করিবেন আর আমরা সেইটর ওপর দিয়ে উড়িয়া উড়িয়া চলিব তাহার মত সুখের আর কি হইতে পারে বলেন তো। তাহার জন্য কষ্ট সহ্য করিতেও বোধকরি আমার মত কারোরই সামান্যতম আপত্তি থাকার কথা ছিল না। কিন্তু .....
ইহার আগে ও পরে অনেকগুলো কাজ বাদ দিয়ে কেন আপনারা শুধু উড়াল সেতুর দিকে নজর দিলেন তাহা বিরোধীদের বোধগ্রম্য হইলেও সাধারণ মানুষ কিন্তু প্রথমে বিশ্বাস করিতে চায় নাই। কিন্তু যখন কেউ দেখিতে পায় সব ক্ষেত্রে আপনাদের আন্তরিকতার অভাব থাকিলেও একের পর এক উড়াল সেতুতে বানানোর ক্ষেত্রে ইহার অভাব পরে না তখন প্রশ্ন উঠাটা যেমন যুক্তির তেমনি বিরোধীদের কমিশন তত্ত্বও অনেকে বিশ্বা করিতে চান।
আমি আপনাকে কিছুই বলিব না। আপনার নিজেরও সবকিছু অবগত। আপনি সাংবাদিক ছিলেন। আবার বলিয়াছেন মন্ত্রীত্ব না থাকিলে এই মহৎ পেশাতেই ফিরিয়া যাইবেন। আপনি গণমানুষের নেতা। আপনার চোখ গণমানুষের চোখ। ইহার পরও ঢাকা শহরের যানজটের কারণগুলো আপনার চোখে না পড়িয়া থাকে কিভাবে? তাহা আমার বোধগ্রম্য নয়। এই সকল অনিয়ম গুলো দূর না করিয়া উড়াল সড়ক কতটা কাজে দেবে প্রশ্ন থেকে যায় তখই যখন ফ্লাইওভারও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ইজারার জায়গা হইবে না তাহার গেরান্টি না থাকে। কারণ দু-একটি ছাড়া ঢাকার বাকি রাস্তারগুলোর অর্ধেকের বেশি লেনই তো দখল। বাকি যে টুকু আছে তাহাও দখল হতে খুব বেশি দিন অপেক্ষা করিতে হইবে বলে মনে হচ্ছে না।
আপনাকে দায়ি করিয়াই বা কি বলিব? তাই আপনাকে দায়ি করিতেছি এমনটি ভাবিয়ে চিন্তিত হবেন না। কারণ আপনি নিজেও একদিন গণমাধ্যমের সামনে উড়াল সড়েরকর রাস্তা লইয়া নিজের অসহায়ত্বা প্রকাশ করিয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে নালিশের প্রসঙ্গ তুলিয়াছিলেন।
তারপরও আপনি ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা, সরকারের গুরুত্বপূ্ণ মন্ত্র, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার আস্থাভাজন। তাই আমার শুধু এতটুকু অনুরোধ নিজের পরিচয় বা প্রটোকল বাসায় রাখিয়া নিজের একদিন শুধুমাত্র একদিন লোকাল, সেমিলোকাল বা সিটিং সার্ভিস (প্রকৃত পক্ষে চিটিং সার্ভিস, যদিও অনেক সাধারণের পক্ষে সম্ভব নয়) করিয়া ঢাকা শহরটার এক প্রান্ত থেকে অপরপ্রান্তে গমণ করুণ। ইহার পর সেই অভিঙ্গতাটা শুধু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বর্ণনা করুন। আমার/ আমাদের আর বেশি কিছু চাওয়ার নাই। প্লিজ শুধু এতটুকুই করুন।
শুভেচ্ছান্তে
‘একজন সাধারণ মানুষ’

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


