বালিহাঁস
চেতনার এ্যালবামে একঝাঁক বালিহাঁস ওড়ে।
বেদনার ভায়োলিনে চিকন সুরে ভেসে ভেসে
স্যাতস্যাতে দেয়ালেতে শ্যাওলারা জমে গেলে পরে,
প্রেরণার শৈশবে সমুদ্র-শিশিররে মিশে গিয়ে
অবেলার গুন্জনে ছোট ছোট মায়া মুখ মনে আসে।
বেদনার তীর ঘেঁষে খুটে খুটে কথা জমা করে,
নিশ্চুপ অভিমানে ব্যাথাগুলো গলে গলে পড়ে
শরতের আকাশেতে বাদলের ধারা ঝরে ঝরে।
প্রথম-প্রণয়-তীরে একদ্বীপ-তারা জ্বেলে মুখোমুখি বসে,
জমানো কথা যত নির্জন অক্ষরে সমুদ্র-নিঃশ্বাসে মেশে,
আবেগের ঝড় তুলে,তারা সব নিভে গেলে, সঙ্গম-সুখপ্রাপ্তি শেষে
অগণন চুম্বনে সৃষ্টির ব্যাথা সব লাল-নীল রঙে সাজে।
রাতুল-স্বপ্নবীজ কুয়াশায় পাখা মেলে মেলে
সময়-সূ্র্য হতে বিন্দু বিন্দু প্রাণ জমা করে।
অস্পষ্ট ধুম্রজালে কত মুখ কত সুর ভেসে আসে
আমার হৃদয়-জলে দুঃখেরা বারে বারে ভেসে ভেসে আসে।
জীবনের ছাঁয়া পথে একাকী হেঁটে হেঁটে,পুরাতন সময়-সূর্য কে নিয়ে
পাথরের শরীর হতে সমুদ্র-দ্বীপের জল ধীর বেগে নাবে।
কালের অমানিশা ললাট সূর্যে ভুলের চিহ্ন এঁকে দিলে
ঈশ্বরের সাজানো সূত্র এলোমেলো হয়ে পড়ে।
অরূপ-সাগর-তীরে পরিণত সূর্যের তেজ ম্লান হয়ে আসে।
মনুষ্যত্বের মৃতু্য্য হলে অমানব-পৃথিবীতে অপ্রয়োজন যুদ্ধ নেমে আসে
হিংসা-রক্তস্রোতে হিংস্র মানব সমাজ তৃপ্তির বিকৃতি গড়ে।
জ্ঞানে অজ্ঞানে চেতনারা জড়োসড়ো হলে
কোটি কোটি ক্ষুদ্র দ্বীপ মহাকালবিবর মাঝে জেগে ওঠে।
বাতাসের মত বেগ হঠাৎ থেমে গেলে পরে
নিরেট-শুন্য-আলো শীতল শীতল হয়ে আসে
মহাকাল নিঃশ্বাস থেমে গেলে পরে
নতুন সূর্য-বীজ জন্মের প্রত্যাশা করে।
নির্জন অভিমানে প্রণয়ের আলাপনে নীহারিকা স্রোতে ভেসে গেলে
মাটির পৃথিবী পথে অজানা উৎসবে পিশাচ-সভ্যতা মাতে।
অদেখা পৃথিবীতে রাতের বুকের পরে যত তারা খসে পড়ে
শীতল হৃৎপিণ্ড হতে বিষন্ন সন্তানেরা প্রতিভার শিল্পলোক গড়ে।
জাগতিক মোহ সব অকারণ পিছু নেয় মহাজাগতিক মোহে
জীবনের বালুচরে সময় অতীত হলে অসম্পূর্ণ মণোবীজ জেগে ওঠে।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই আগস্ট, ২০১১ বিকাল ৪:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



