রোম্যান্টিক জীবনানন্দের স্বপ্নময়তা অন্তহীন,বিচিত্র।তাঁর কবিতা পাঠককে দুর্লভ এক স্বপ্নলোকে বিচরণ করায়,সেই রেশ কাটতেই পাঠক আবার ফিরে পায় পরিচিত পরিসর,বাস্তব পৃথিবীর মৃত্তিকা শরীর।শিল্প জীবনের সমান্তরালে এগিয়ে চলে,কবিতা ও জীবন একই জিনিসের দুই রকম উৎসারণ।আজকের এই যান্ত্রিক জীবনে তাই কবির কবিতার জীবনবেদের অন্বেষণ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
পৃথিবীর পুরোন সে পথ
মুছে ফেলে রেখা তার-
কিন্তু এই স্বপ্নের জগৎ চিরদিন রয়
সময়ের হাত এসে মুছে ফেলে আর সব-
নক্ষত্রেরো আয়ু শেষ হয়!
তারপর
তবু এই পৃথিবীর সব আলো একদিন নিভে গেলে পরে,
পৃথিবীর সব গল্প একদিন ফুরাবে যখন,
মানুষ রবেনা আর,রবে শুধু মানুষের স্বপ্ন তখন:
সেই মুখ আর আমি রব সেই স্বপ্নের ভিতরে।
তারপর
কোনদিন জাগিবেনা আর
জাগিবার গাঢ় বেদনার
অবিরাম-অবিরাম ভার
সহিবে না আর-
লাশ কাটা ঘরে শুয়ে ঘুমায় এবার
শোন
তবু এ মৃতের গল্প-
কোন নারীর প্রনয়ে ব্যর্থ হয় নাই;
বিবাহিত জীবনের সাধ
কোথাও রাখেনি কোন খাদ
হাড় হাভাতের গ্লানি বেদনার শীতে
এ জীবন কোনদিন কেঁপে ওঠে নাই;
অর্থ নয়,কীর্তি নয়,স্বচ্ছলতা নয়-
আরো এক বিপন্ন বিস্ময়
আমাদের অন্তর্গত রক্তের ভিতরে খেলা করে;
আমাদের ক্লান্ত করে
লাশ কাটা ঘরে সেই ক্লান্তি নাই;
তবু রোজ রাতে আমি চেয়ে দেখি,আহা,
থুরথুরে অন্ধ প্যাঁচা
অশ্বথ্থের ডালে বসে চোখ পাল্টায়ে কয়
বুড়ি চাঁদ গেছে বুঝি বেনোজলে ভেসে
চমৎকার!
আজো চমৎকার
আমিও তোমার মত বুড়ো হব-
বুড়ি চাঁদটারে আমি করে দিব কালিদহে বেনোজলে পার;
আমরা দুজনে মিলে শুন্য করে চলে যাব
জীবনের প্রচুর ভাঁড়ার।
চলবে-

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



