এই পোস্টটি কাল রাতে দেয়ার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু মেজাজ প্রচণ্ড খারাপ থাকায় আর ইচ্ছে করেনি।।। মানুষের মন ও মেজাজের লেখচিত্র sinx এর মত হওয়া উচিৎ।এতে করে মাঝে মাঝে মন-মেজাজ খারাপ হলে মন ভালো থাকার গুরুত্ব উপলব্ধি করা যায়।।। সুতরাং, " শুভ মেজাজ খারাপ"।।।
এসএসসি পরীক্ষার পর বন্ধু-বান্ধব সবাই কোচিং করতে ঢাকা চলে আসলেও আমি বাসাতেই থাকি, কেননা আমার মা আমাকে ঠিক কোনকালেই একা ছাড়তে ভরসা পাননি, পাছে কোন সমস্যায় পড়ি এই আশঙ্কায়।। কিন্তু বাসায় রইলাম মানে তো আর পড়ার সঙ্গে সম্পর্কহীন হওয়া নয়।। তাই নটরডেম প্রস্ত্ততি নিতে হচ্ছিল ঘরে বসেই। কিন্তু আমি ঠিক কখনোই নিয়ম করে পড়তে পারিনি, বিশেষত নিয়ম মানাটা যেখানে বেশি জরুরী।। তাই পড়তে বসলেই নানাবিধ উদ্ভট পরিকল্পনা মাথায় জেকে বসত। ইতিমধ্যে আমার কাব্যের ঘোড়ারোগের আরোগ্য লাভ হয়েছে, যদিও রোগটা কাব্য থেকে এক্সপেরিমেন্টাল লেখাতেই স্থানান্তরিত হচ্ছিল ক্রমশ। সেসময় পদার্থ বিজ্ঞানে নিউটনের গতিসূত্রাবলী-রসায়নে ডাল্টনের পরমাণুবাদ পড়তে পড়তেই হঠাৎএকদিন ভাবলাম, আচ্ছা ডাল্টনের মত কিছু স্বীকার্য তৈরি করে কোন কবিতা যায় না? সেই ভাবনা থেকেই রসায়ন বই সামনে নিয়ে লিখে ফেললাম ডাল্টনিক কবিতা।।।একটি কথা বলে রাখা প্রয়োজন,সেই শৈশবকাল থেকে মহাকবি মাইকেল মদুসূদন দত্ত আমার ভাবনার একটি বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছেন।।
আগে কবিতাটি লিখি, তারপর স্বীকার্যগুলো নিচে উল্লেখ করব:
"রাত্রি বরণ"
রাত্রি হলেই বিবর্ণ হয়ে ঘনিয়ে আসে আঁধার
রাতের ছোয়ায় প্রকৃতিরই বদল হয় সুর।
রাত যেন সুমধুর
রহেনা'ক প্রাণ দেহের মাঝে, হয় লোভাতুর।
রাত্রিতে সব নিথর
রাশি রাশি শুধু আকাশ জুড়ে তারার সম্ভার।
রঞ্জিত রঙে রসালের বেশে কী ভীষণ জোরে
রুক্ষতা ছেড়ে মোলায়েম হয়ে , আসে মনোহরে।
রূপ যেন তার পার্থিব কোন কল্পিত গড়নের
রেশ পেয়ে তাই অবসান ঘটে সকল দম্ভের।
রাত্রির এই নিস্তব্ধতায় সবকিছু দুস্তর
রাঙিয়ে দিয়ে প্রকৃতিকে প্রকৃতিকে সব করে সুমধুর।
বয়ে চলে কোন সুরের লহরী, শুনি তার কলরব
বহতার টানে লোভাতুর প্রাণ থাকেনা'ক নীরব।
বাড়ন্ত সম্ভারে তারায় তারায় হঠাৎ মহোৎসব
বর্ণালী আলো আর মনোহরী সাজের দীর্ঘ সদ্ভাব।।
বল দেখি কোন দম্ভের জোরে রাত হয় সৌষ্ঠব
বেজে উঠে ঐ সুমধুর সুর_ভেঙ্গে দিয়ে কলরব।।।
ডাল্টনের অনুসরণে কবিতার স্বীকার্যসমূহ:
১. কবিতার দৈর্ঘ্য হবে ১৮ লাইন। এই ১৮ টি লাইন ২:১ অনুপতে বিভক্ত হবে ।
২. মাত্র ২টি বর্ণ দিয়েই সম্পূর্ণ কবিতা নিয়ন্ত্রণ করা হবে। অর্থাৎ ১ম ১২ লাইনের ক্ষেত্র প্রতিটি লাইনের প্রথম ও শেষবর্ণ একই হবে। (আলোচ্য কবিতার বর্ণটি "র")
৩. শেষ ৬ লাইনের ক্ষেত্রে অন্য একটি বর্ণ প্রতিটি লাইনের প্রথম ও শেষ বর্ণ হবে।।। (আলোচ্য কবিতায় বর্ণটি "ব")।
৪. কবিতার শিরোনামও হবে এই দুই বর্ণভিত্তিক । (আলোচ্য কবিতার শিরোনাম " রাত্রি বরণ"।।)
. ১ম লাইনের ছন্দমিল থাকবে ৬ষ্ঠ লাইনে। ( এ কবিতায় আঁধার- সম্ভার)এবং ২য় লাইনের ছন্দমিল ১২তম লাইনে।।। (এ কবিতায় সুর-সুমধুর)।।।
৬.১ম লাইনটি কবিতার ৬ষ্ঠ লাইন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করবে, এবং ২য় লাইনটি কবিতার ৭ম থেকে দ্বাদশ লাইন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করবে।।। অর্থাৎ কবিতার প্রথম লাইনটি হবে একটি অবস্থা, এবং ২য় লাইনটি হবে সেই অবস্থার একটি পরিণতি বা ঘটনার নাম।।এভাবে ১ম ২ লাইনই সম্পূর্ণ কবিতার নিয়ন্ত্রক হবে।।।
৭. কবিতার শেষ ছয় লাইন হবে ১ম বার লাইনের সারমর্ম বা ভিন্নাঙ্গিক উপস্থাপন।।
৮. প্রথম ১২ লাইনের প্রতিটি জোর লাইনের শেষ শব্দটি শেষ ৬লাইনে ক্রমানুসারে স্থান পাবে ( আলোচ্য কবিতার শব্দগুলো সুর, লোভাতুর,সম্ভার,মনোহর,দম্ভের,সুমধুর
)
৯.পুরো কবিতার বর্ণসংখ্যাকে ৫টি সুনির্দিষ্ট শব্দকাঠামো মেনে চলতে হবে। এই শব্দ কাঠামোকে A, B, C,D, E এই ৫টি প্রতীক দিয়ে প্রকাশ করা হবে।।
A=১৮টি বর্ণ , B=১৭টি বর্ণ, C=৮টি কর্ণ, D=১৯টি বর্ণ, E =২০টি বর্ণ।।
( আলোচ্য কবিতার কাঠামোবিন্যাস AACBCBBBAABBDEDEAA)
..............এই ডাল্টনীয় পদ্ধতিতে ৪টির বেশি কবিতা লেখা হয়নি সেসময়।। পরবর্তীতে আরও ভিন্নধর্মী প্যাটার্ন নিয়ে কাজ করেছিলাম নটরডেমে পড়ার সময়, যেগুলো এই মুহূর্তে হলে নেই।।। তবে এই ধরনের স্বীকার্য এবং নিয়ম কানুন মেনে চলা অনেক দুঃসাধ্য বলে কোন প্যাটার্নেই ৪-৫টির বেশি কবিতা বা উদ্ভট কিছু (যা-ই হোক) লেখা হয়ে উঠেনি।।।
কৈশোরে গাণিতিক-ডাল্টনিক নিয়মে কবিতা/ উদ্ভট শিল্প লেখার অপচেষ্টা
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
৫১টি মন্তব্য ৪৫টি উত্তর
পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন
আলোচিত ব্লগ
মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন
ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন
কবিতাঃ পাখির জগত

টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।
টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।
বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন
মোহভঙ্গ!

পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।