আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। একদিকে পরিবারের অবস্থা দিন আনি দিন খাই এর চেয়ে মোটামুটি ভালো। অন্যদিকে আবার জমার খাতায় কি জমেছে দেখতে গেলেই চশমা ভাঙে। অনেকটা লেখার শুরুতেই পেন্সিল ভাঙার মত। কাটার দিয়ে পেন্সিল কেটে লেখার শুরুতে যেমন ক্ষুরধার থাকে, কিছুক্ষন যাবার পর হয়ে যায় ভোতা, আর দিন শেষে? পেন্সিল টায় শেষ।মধ্যবিত্তরা বাবার রক্ত জল করা টাকায় পড়াশোনা করার চেষ্টা করি, আর স্বপ্ন দেখি “বড়” হবার। কতবড় জানিনা। যাদের দুইহাত ঘষাদিলে টাকা ঝরে তাদের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারি না, তাই হয়তো অনেক ব্যাকডেটেড। বন্ধুবান্ধবী নিয়ে বড় বড় রেষ্টুরেন্টে পার্টি দিতে পারি না বলে আমি হয়তো আনসোস্যাল।
বাবা কিংবা মা ফোন করে প্রায় সময়ই ঠিকঠাক মত খাওয়া দাওয়া করছি কিনা, বইপত্র ঠিকঠাক মত কেনা হয়েছে কিনা, পড়াশোনা ভালো চলছে কিনা এবং সবশেষে টাকা এই মাসে আরো লাগবে কিনা জিজ্ঞাসা করেন। পড়াশোনার(
এক অতিপরিচিত মানুষ আমাকে পরামর্শ দিলো, “হিমু, বাবার কাছ থেকে তো আরেকটু বেশি আনতে পারিস, এই দুনিয়ায় বাবার পকেট কাটাই একমাত্র বৈধ”। ওকে কিছু বলিনি আমি। চিন্তা করে দেখলাম “তাইতো, বাবাকে আর দুটো বই কেনা কিংবা কলেজের বেতন কিংবা অন্যকিছু বলে তো টাকা একটু বাড়িয়ে নেয়াই যায়। এতে আর দোষ কিসের।” দুই একটা মিথ্যে বললেই আপডেটেড বা সোস্যাল হবার সুযোগ পেয়ে যাবো আমি। বাবাকে কিছু বলতে পারিনি আমি, কেমন যেন বাঁধে, কোথায় যেন বাঁধে। তাই আমি ব্যাকডেটেড, আমি আনসোস্যাল, আর সেটাই আমি থাকতে চাই।
আজ যে নিজের “বাবা”র পকেট কাটতে পারছে, ভবিষ্যতে সে যে আরো কারো পকেট কাটবে না, সে কথা কি বলার অপেক্ষা রাখে। কোথাও হয়তো রাখে, কোথাও রাখে না। হয়তো কেউ দেখবে না, দেখলেও কিছু বলার সুযোগ বা সাহস পাবে না, কাটাটা হয়তো অনেক বেশি সূক্ষভাবে হবে। অনেকে আমার সাথে একমত হবেন না, এটাই স্বাভাবিক, কিন্তু আমার মত আমার কাছে, যার যার মত তার তার কাছে, আমার “বাবা” আমার কাছে।
কোথায় যেন পড়েছিলাম, “জন্মদাতা হওয়া সহজ, কিন্তু বাবা হওয়া অনেক কঠিন।”
“বাবা” দিবসের এমাসে পৃথিবীর সকল বাবাকে বিনম্র শ্রদ্ধা...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



