somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাফল্যের অনন্য উচ্চতায় বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প

২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ দুপুর ২:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


এই মুহূর্তে যদি প্রশ্ন করা হয়, কোন কোন শিল্প নিয়ে বাংলাদেশ গর্ব করতে পারে, তাহলে নিশ্চিতভাবেই ওষুধ শিল্পের কথা উল্লেখ করতে হবে। অসংখ্য উদ্যমী মানুষের মেধা, মনন আর পরিশ্রমের সমন্বয়ে তিলতিল করে গড়ে ওঠা এই সেক্টর বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অন্যতম প্রতিষ্ঠিত হাই-টেক সেক্টর হিসেবে ভূমিকা পালন করছে। ২০০০ সালে ওষুধ প্রশাসনে নিবন্ধনকৃত কোম্পানির সংখ্যা ছিল ২১০টি, যাদের মধ্যে ১৭৩টি ওষুধের উৎপাদনে নিয়োজিত ছিল। বর্তমানে ৩০০টিরও বেশি কোম্পানি সক্রিয়ভাবে ওষুধের উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে। ওষুধ কোম্পানিগুলোতে বর্তমানে ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, ইঞ্জেকশন, সিরাপ, সাসপেনশন, ইনহেলার ইত্যাদি ডোজেজ ফর্মে ৫৬০০টিরও বেশি ওষুধের ব্র্যান্ড উৎপাদিত হয়; যা দিয়ে দেশের বর্তমান ওষুধের চাহিদার শতকরা ৯৭ ভাগই পূরণ কর সম্ভব হচ্ছে। বাকি ৩% ওষুধ যার মধ্যে হরমোন, ইনসুলিন, ভ্যাকসিন, অ্যান্টি-ক্যান্সার ড্রাগ ইত্যাদি রয়েছে সেগুলো আমরা এখনো আমদানি করছি। অনেকে স্বল্পমাত্রায় উৎপাদন ও বিপণনে অংশ নিচ্ছে। এই ধারা চললে ওষুধ উত্পাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার জন্য আমাদের খুব বেশিদিন হয়তো অপেক্ষা করতে হবে না। ওষুধ শিল্পের সাফল্যের উপাখ্যান একদিনে রচিত হয়নি। বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পে আমূল পরিবর্তন আসে ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ‘জাতীয় ওষুধ নীতি-১৯৮২’ প্রণয়নের পর। আজকে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প যে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে তার ভিত্তি স্থাপন হয়েছিল ১৯৮২ সালেই। এই একটি নীতিই পুরো বদলে দিয়েছে আমাদের ওষুধ শিল্পকে। World Bank-এর রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতে খরচের পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশি ওষুধের সুনাম যে কেবল দেশেই রয়েছে তা-ই নয়, বিদেশেও বাংলাদেশি ওষুধের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ক্রমবর্ধমান রপ্তানি আমাদেরকে সেই চিত্রই দেখাচ্ছে। ২০০২ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত রপ্তানি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ২৬.১%। এসবই আমাদের অগ্রযাত্রা নির্দেশ করে। বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের জন্য আরও একটি সুসংবাদ নিয়ে এসেছে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সাম্প্রতিক সম্মেলন। এই সম্মেলনেই ঘোষণা এসেছে এলডিসিভুক্ত দেশগুলো পেটেন্ট ওষুধ উৎপাদনের ক্ষেত্রে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত ছাড় পাবে। ২০০১ সালের দোহা ঘোষণা অনুযায়ী এই ছাড় ২০১৬ সালেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। আর কে না জানে এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ওষুধ উৎপাদনের সক্ষমতা বাংলাদেশেরই সবচেয়ে বেশি। এই সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোকে নিজেদের সক্ষমতা বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করার চেষ্টা করতে হবে। এছাড়া বেশ কিছু কোম্পানি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রেগুলেটরি কমিটির স্বীকৃতি পেয়েছে। আমাদের আশা নিকট ভবিষ্যতে আরও অনেক কোম্পানিই তাঁদের গুণগত মানকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে সক্ষম হবে। আর এভাবেই আমাদের জাতীয় জীবনের সাফল্যের মুকুটে যুক্ত হবে আরও একটি রঙিন পালক।

সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ দুপুর ২:৩৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বে ঋণ খেলাপিতে বাংলাদেশ ১ নম্বর এবং দেশে ঋণ খেলাপিতে শীর্ষ ২০ জনের ১৯ জনই ওনাদের!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:০৫



শাস্ত্রীয় কথায় না গিয়ে সোজা কথায় কেউ ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করলে তাকে ঋণ খেলাপি বলা হয়। আপনি জানলে অবাক হবেন যে শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির ১৯ জনই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাউন্টেন গোট (Mountain Goat) বা পার্বত্য ছাগল....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৮

মাউন্টেন গোট (Mountain Goat) বা পার্বত্য ছাগল....



পড়া, টিভি, মুভি এগুলো- এগুলো বেকারদের অবলম্বন। বেশীরভাগ বয়স্কদের পছন্দ- ডিসকভারি চ্যানেল, ন্যাশনাল জিওগ্রাফি, বিবিসি আর্থ ইত্যাদি ইত্যাদি চ্যানেল। আমার হাতে টিভির... ...বাকিটুকু পড়ুন

একদিন আমরা ক’জনা মিলে …….

লিখেছেন আহমেদ জী এস, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১২



ব্লগের একাধারে নম্র ও প্রাজ্ঞ এবং গবেষক সহ-ব্লগার শ্রদ্ধেয় ডঃ এম এ আলীর “ব্লগের সুদিন ফিরিয়ে আনতে ব্লগ টিমের প্রতি বিনীত আবেদন”... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বর কোন মাসেই নয় দুর্নীতি সেদিনই বন্ধ হবে-----

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৪



জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বর কোন মাসেই নয় ..।

দুর্নীতি সেদিনই বন্ধ হবে
যেদিন মানুষ নিজের কাছে
মিথ্যে বলা বন্ধ করবে
অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করে
সত্যের পথে দৃঢ় পায়ে চলবে।

যেদিন বিবেক জাগবে মনে
লোভ হারাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকার কি ইউনূস সাহেবকে ভয় পাচ্ছে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:০৩


ব্যাপারটা এখন আর কোনো সন্দেহের অবকাশ রাখে না। বাংলাদেশে যে সরকারই আসুক, আওয়ামী লীগ হোক কিংবা বর্তমান সরকার, সবাই যেন একজন কমন করফাঁকিদাতা খুঁজে পেয়েছে। সেই করফাঁকিদাতার নাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×