অনলাইনে আমি এমন কিছু লোকের 'ফলোয়ার', যাদের লেখা পড়লে গা শিউরে ওঠে। তবু ফলো করি এদের মনস্তত্ত্ব বোঝার জন্য। শুধুমাত্র নিজের ভালো লাগা মতাদর্শকে প্রোমোট করলে পৃথিবীটা বড্ড একঘেয়ে হয়ে যাবে, তাই মতবৈচিত্র্য থাকা জরুরী। নানা মতের মানুষের কথাবার্তা জানা থাকলে নিজের অজ্ঞতা কমে, শুদ্ধতা বাড়ে। তাই সাগ্রহে অনেক ফেসবুক দেবতার 'ফলোয়ার' হয়ে বসে আছি, এই 'ফলো' মানে তার আদর্শের অনুসরণ নয়, তার লেখনীর মাধ্যমে সমকালীন সভ্যতার একটা চেহারা দেখা।
এদের মধ্যে আস্তিক ও নাস্তিক দুই গ্রুপের লোকই আছেন। একদল চাপাতি হাতে ঈশ্বরের শত্রুদের বিরুদ্ধে ধাওয়া করেন। এদের মানসিক রাজধানী আরব্য মরুভূমি। আরেকদল সেই চাপাতিওয়ালাদের কুকর্মকে খোদ ঈশ্বরের কুকর্ম বলে অভিহিত করেন, এরপর শুরু করেন ঈশ্বরকে গালাগাল। এদের মানসিক রাজধানী ইউরোপ-আমেরিকা। নানা বিভেদ সত্ত্বেও দু'দলের মধ্যে চমৎকার একটা আদর্শিক মিল আছে, সেই আদর্শ হচ্ছে- 'ঘৃণা'।
ঈশ্বরের নামে অশান্তি সৃষ্টি, সেটা আস্তিক আর নাস্তিক যে-ই করুক না কেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সেটা সমর্থনযোগ্য নয়। সেটা নিজের লেখায় আমার বন্ধুদের বারবার বলে যাই। আমার উপলব্ধি সঠিক সেটা বলছি না, তবে যা আমার ঠিক মনে হচ্ছে তা যে আমায় বলতেই হবে! মানুষমাত্রই পৃথিবীতে মুসাফির, সে অল্প কিছুদিন এখানে ঘুরে বেড়াবে এবং তারপর বিদায় নেবে। একজন মানুষও পাওয়া যায়নি যে অনন্তকাল বেঁচে থাকবে। পৃথিবীর রাস্তায় আপনি যখন হাঁটবেন তখন রাস্তার দুধারে অনেক ফুলের বাগান আপনার চোখে পড়বে, আবার অনেক বন্য জন্তুও আপনার সামনে এসে পড়বে। আমি কাউকে ফুল বা জন্তুর সাথে তুলনা করছিনা, যে যেটা ইচ্ছে ভেবে আনন্দ বা দুঃখ পেলে সেটা তার ব্যাপার। নিরপেক্ষভাবে ভেবে দেখুন তো, সেই পথিক হিসেবে আপনার করণীয় কি? ফুলের বাগান পেলে সুন্দর ফুল ছিঁড়ে সাথে করে নিয়ে যাওয়া? জানোয়ার সামনে পড়লে তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলা?
আপনি যদি ভুলে যান, আপনি স্রেফ দু'দিনের মুসাফির, তাহলে আপনি ঐ সুন্দর ফুলটিকে গাছ থেকে তুলে এনে সৌন্দর্যের মৃত্যু ঘটাতে পারেন। আপনি মেরে ফেলতে পারেন কোন অসভ্য জন্তুকে, অথচ এই জন্তুরও একটা জীবন আছে! তারও পরিবার আছে। ভয়ে হোক, দোষে হোক- আপনার পথে এসে পড়েছে। ওকে আপনি তাড়িয়ে দিতে পারেন, ধাওয়া করতে পারেন, কিন্তু আপনার চূড়ান্ত ক্ষতি করতে উদ্যত না হলে অযথা ঐ জন্তুকে মেরে আপনি কি বীর সাজতে চাইবেন? নিজের চেয়ে অযোগ্য দুর্বলকে মারার মধ্যে বীরত্ব কিসের?
আমার দেখা ফেসবুক দেবতাদের শুধরে দেবার ইচ্ছে এবং যোগ্যতা- কোনটাই আমার নেই। তবু কেন লিখে যাই? এ শব্দমালা আমার বন্ধুদের জন্য, আমার অদেখা প্রজন্মের জন্য। তাদের চিন্তার জগতটা যেন পাশবিক না হয়, তাদের হাত ধরে এই সভ্যতা যেন আরেকটু মানবিক হয়। জগতের অমোঘ নিয়মে সেই সুদিন দেখার ভাগ্য হয়তো আমার হবে না, তবু দুদিনের মুসাফির হিসেবে আগামীর পথিকের জন্য পথটাকে যদি একটু মসৃণ করে দেয়া যায়, এও তো একেবারে কম না!
সবার পথচলা সুন্দর হোক।
আরও মানবিক হোক এ ধরণীতল।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


