somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হজ্ব এবং কিছু পদযাত্রা

২৮ শে জুলাই, ২০১৬ রাত ১২:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রতি বছর হজ্বের সময় নীরবে কিছু ঘটনা ঘটে। প্রভাবশালী নেতা ও প্রশাসনের হর্তাকর্তাদের আশেপাশে চিকিৎসকদের সরব/নীরব আনাগোনা শুরু হয়। একান্তে মাটির সাথে প্রায় মিশে গিয়ে তারা কাঙ্ক্ষিত কথাটি বলে ফেলেন। কথায় চিড়ে ভিজলে ভালো, না ভিজলে নানা প্রকার বিকল্প ব্যবস্থা আছে। বাংলাদেশে রাজনীতি ছাড়া সর্বত্র বিকল্প ধারাই অগ্রগণ্য। তাছাড়া একবার হজ্বে যেতে পারলে তো সব গুনাহ মাফ, বইপত্রে তো সেরকমই লেখা আছে!

লিস্টে নাম আসার পর 'হজ্বযাত্রীদের সেবার জন্য মনোনীত' চিকিৎসকগণ ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্যের সাথে কেনাকাটা শুরু করেন। চেনাজানা সবার কাছে দোয়া নিতে থাকেন, হজ্বে যাবার আগে সেরকমই রেওয়াজ। অবশেষে একদিন বিমানে চড়ে সরকারী খরচে আরবের পথে যাত্রা শুরু করেন। এয়ারপোর্টের বাইরে এক শ্রেণীর মানুষ তখন প্রতারকদের হাতে সব খুইয়ে কাঁদতে থাকে। তাদের সর্বস্বান্ত হওয়ার বেদনা এবং আকাশে উড়ন্ত সরকারী চিকিৎসকদের আনন্দ নিউটনের তৃতীয় সূত্র অনুসারে সমান ও বিপরীত।
এই হাজী সাহেবেরা সৌদি আরবে পৌঁছামাত্র তাদের পবিত্র দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ঈশ্বরের ডাকে সাড়া দেয়া ছাড়া একজন ধর্মপ্রাণ মানুষের আর কী দায়িত্ব আছে! তারা সাগ্রহে হজ্ব পালন করেন, ছবিটবি তুলেন। খেজুর, তসবীহ, জায়নামাজ খরিদ করেন। দেশে ফিরে আত্মীয় স্বজনকে তো কিছু দিতে হবে!

এদিকে শেষ বয়সে হজ্বে যাওয়া অনেক অসুস্থ মানুষ যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকেন। আরবের অন্যতম ব্যবসা এই হজ্ব, তাদের ব্যবস্থাপনাও যে খুব নিখুঁত তা নয়। প্রতি বছরই প্রচুর মানুষ পদদলিত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। সেই মৃত্যু সংবাদ আমাদের কানে আসে, সাথে সহকর্মী চিকিৎসকদের অনেকেই ‘সাফল্যের সঙ্গে’ হজ্ব করে এসেছেন- এমন সুখবরও শুনি। হাসবো নাকি কাঁদবো বুঝতে পারি না। সব চিকিৎসকই কর্তব্যচ্যুত, তা বলছি না। তবে এরাই সিংহভাগ, কর্তব্যপরায়ণেরা ছাগলভাগ। হজ্বে এদের কারণে সাধারণ হজ্বযাত্রীরা তাদের প্রাপ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এদের পরিবর্তে অমুসলিম চিকিৎসক পাঠালে হয়তো চিকিৎসাসেবা নিরবচ্ছিন্ন হত। কিন্তু মক্কা-মদিনায় যে এ যুগে অমুসলিমদের প্রবেশ নিষেধ! খোদ রাসূলের জমানায় যেখানে অমুসলিমরা নির্ভয়ে থাকতে পারত, সেই আরবে এখন অধিকতর সহীহ ইসলাম কায়েম আছে, ফলে অমুসলিম ডাক্তার পাঠানোর কোন সুযোগ নেই। যদি সে সুযোগ থাকতো, তাহলেও বাংলাদেশ থেকে অমুসলিম চিকিৎসক পাঠানো সম্ভব হত না। এদেশের বিপুল সংখ্যক মুসলিম চিকিৎসক আছেন, যাদের কর্তব্যবোধের চেয়েও ধর্মবোধ প্রখর, তারা এই বাজে সিদ্ধান্ত মেনে নিবেন কেন?

কাজেই আমার চেনা এবং অচেনা যেসব ধর্মপ্রাণ চিকিৎসক হজ্বে যাচ্ছেন, তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। সরকারী পয়সায় বিদেশ সফর চিকিৎসকদের কপালে দুর্লভ- কাজেই অভিনন্দন তাদের প্রাপ্য। তবে তাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই- খেজুর, জমজমের পানি, সুরমা,আতর ইত্যাদি কেনাকাটায় সময় নষ্ট করবেন না। হজ্ব হচ্ছে প্রেমের সফর, ফায়দাসর্বস্ব বাণিজ্যযাত্রা নয়। যাদের সেবার জন্য যাচ্ছেন, তাদের শিয়রে আপনার ঈমানের পরীক্ষা হবে। আপনার পরীক্ষা অন্যদের মতো সাফা-মারওয়ার প্রান্তরে নয়, ক্বাবা প্রদক্ষিণে নয়। পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ পরীক্ষক আপনার পরীক্ষা নেবেন রোগীর শয্যাপার্শ্বে, হেলথ ক্যাম্পে।

যেহেতু একসময় আপনারা ভালো ছাত্র ছিলেন,
পরীক্ষার সঠিক ভেন্যু চিনে যথাসময়ে উপস্থিত থাকবেন- এটুকুই কাম্য।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুলাই, ২০১৬ রাত ১২:২৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজ যদি টেলিফোন থাকত, তাহলে কেমন হতো?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:২৪

আজ যদি টেলিফোন থাকত, তাহলে কেমন হতো?

হয়তো আজ টেলিফোনও অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মতো স্মার্ট হতো!



একসময় মানুষের দূর-দূরান্তে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল টেলিফোন। মোবাইল ফোনের মতোই টেলিফোন দিয়ে কথা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের শক্তি, ভাষার মাধুর্য....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫২

এমিরেটস, কাতার এয়ার লাইন্স ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট রিক্রুটমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে গ্রুপ ডিসকাশন। গ্রুপ ডিসকাশনের সারমর্ম হচ্ছে—৬-৮ জন কয়েকটি গ্রুপে একটি নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বলুন - "হ্যালো আল্লাহ্‌, আমি এখনো বেঁচে আছি!"

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৫৫

আপনার কাছে মনে হচ্ছে, আল্লাহ্‌ আপনার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।
তিনি আপনার দোয়া কবুল করছেন না।
আপনার কাছের মানুষকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন।
আপনার কোন চাকরী নাই। রিজিক ছোট হয়ে এসেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

উচ্চবংশীয় ছাগল!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৯



এককালে কেবল ঘড়িতেই বাজতো টিক টিক- টিক টিক;
বারবেলায় এসে দেখছি টিক টিক বলে কিছু নেই আর ঠিক ঠিক!
বরং 'টিকটক'- এ আকণ্ঠ বুদ হয়ে আছে আবালবৃদ্ধবনিতা!
মানুষের লম্ফঝম্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া কি ছিল?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৭



কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া হলো উদ্ভব। কারণ সৃষ্টি বা তৈরী কারক না থাকা। তাতে কী উদ্ভব হবে এটা অনিদৃষ্ট। কারণ এটা নিদৃষ্ট করার কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×