somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সূর্য উঠার মেহনত !

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১২:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ছেলেটির কথায় খুব অবাক হলেন হল প্রভোস্ট।
-" তুমি এখন কোন শতাব্দীতে বাস করছো? এই বিংশ শতাব্দীতে সেই মধ্যযুগীয় ধারণাগুলো অচল।"
ছেলেটি ভড়কে গেলো না। বরং খুবই ধীর স্থিরভাবে তুলে ধরলো মৃত্যুর পরের কথা। কবর, হাশর, জান্নাত, জাহান্নাম এক এক করে এমনভাবে তুলে আনলো, খ্রিস্টান প্রফেসরের অন্তরেও যেন ভেসে উঠলো আখিরাত। অনেকদিন তাকে এই কথাগুলো কেউ বলে নি।
খ্রিস্টানরা এমনিতেই আখিরাতে বিশ্বাসী।
ছেলেটির প্রতি অন্যরকম শ্রদ্ধা জাগলো তাঁর।নিজের ধর্মকে, নিজের বিশ্বাসকে কেউ এমনভাবে এখনও আঁকড়ে ধরতে পারে তাঁর ধারনাই ছিলো না।

সেই ভারতবর্ষ থেকে প্যারিসে পড়তে আসা একটা ছেলে কেবল হালাল-হারামের কথা চিন্তা করে আলাদা খাচ্ছে! অথচ ইচ্ছে করলেই ক্যান্টিনে খেতে পারতো।
আসলে এই ব্যতিক্রমের কারন জানতেই ছেলেটিকে ডেকেছেন হল প্রভোস্ট।
-" ঠিক আছে মাই চাইল্ড! তোমার কোন সমস্যা হলে আমাকে বলো। আমি চেষ্টা করবো তোমার জন্যে কিছু করতে।"
ছেলেটি প্যারিসে রওয়ানা হওয়ার আগে নিজামুদ্দীনের বড়দের কাছে পরামর্শ চেয়েছিলো। আল্লাহর রাস্তায় সময় লাগিয়ে তার বুঝে এসেছে পরামর্শের গুরুত্ব।
বড়গন তাকে দুটি জিনিসের পাবন্দী করতে বলেছিলেন। প্রথমটি নামাজের সময় হলে আযান দিয়ে নামাজ পড়া, আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে হালাল খাওয়া।

ছেলেটি সর্বপ্রথম ইউনিভার্সিটি ঢুকেই দেখলো তার রুমমেট একটা মেয়ে। ফরাসী ভাষা শিখানো ও ফ্রান্সের কালচারের সাথে পরিচিত করানোর উদ্দেশ্যে বহিরাগত ছাত্রদের ক্ষেত্রে এমন করা হয়ে থাকে।
নামাজের সময় হতেই যেই না সে 'আল্লাহু আকবার' বলে আযান শুরু করেছে, মেয়েটি ভয়ে সেই যে গেলো আর আসে নি। সম্ভবত সে আর আসবেই না। আর এমন একটা অসামাজিক ছেলের সাথে কেই বা থাকবে! পুরো ইউনিভার্সিটিতে কোন মসজিদ নেই।বরং কোন মসজিদ নেই পুরো ফ্রান্সে। একবার কিং ফায়সাল ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের কাছে একটা মসজিদ বানানোর অনুমতি চেয়েছিলেন।ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এই শর্তে অনুমতি দিয়েছিলেন, বায়তুল্লাহর কাছাকাছি একটা গীর্জা করতে দিতে হবে।
ছেলেটি আযান দিয়ে রুমেই নামাজ পড়ে। আস্তে আস্তে তার রুমে নামাজী বাড়ছে। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মুসলিম ছেলেরা আযান শুনে জামাতে নামাজ পড়তে আসছে। এক পর্যায়ে মুসল্লি এত বেড়ে গেলো, তার রুমে জায়গাই হয় না।
সে হল প্রভোস্টের কাছে গেলো মসজিদের আবেদন নিয়ে। হল প্রভোস্ট কথা রাখলেন। সিনেটে প্রস্তাবটি পেশ করলেন। প্রস্তাব পাশ হয়ে গেলো। এটি প্যারিসে প্রথম মসজিদ।

মসজিদে এখন শুরু হলো কাজ। দাওয়াতের মেহনত।নিজামুদ্দীন থেকে জামাত গেলো সেখানে। আস্তে আস্তে মেহনত ছড়িয়ে পড়লো প্যারিসে, এরপর পুরো ফ্রান্সে।
এর প্রায় বারো বৎসর পর। ছেলেটি নিজামুদ্দীন থেকে জামাত নিয়ে ফ্রান্সে এসেছে। বিমানবন্দরেই সে যা দেখলো, তাতে অবাক হলো। সে যখন পড়াশুনার জন্যে এখানে এসেছিলো, তখন এ অবস্থা ছিলো না।এখন বিমানবন্দরেই দাঁড়িওয়ালা পুরুষ, হিজাব পরিহিত মহিলা দৃষ্টিগোচর হচ্ছে।
'ফ্রান্সের এ পরিবর্তন কিভাবে হলো?'
একজনকে সে তা জিজ্ঞেসও করলো।

-"কয়েক বছর আগে আমাদের এখানে এক ভারতীয় পড়তে এসেছিলো। সানাউল্লাহ নামের সেই ছেলেটির মেহনতে প্যারিসে প্রথম মসজিদ হয়। সেই থেকেই ফ্রান্সে মুসলমান বাড়ছে। আর এখন এই পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা আপনি দেখছেন।"
মহান রবের কাছে শোকরিয়া জানায় ছেলেটি।দু'ফোঁটা আনন্দাশ্রুও কি তার চোখ থেকে বের হয় নি?
সেদিনের ছেলেটা আজ আলীগড় ইউনিভার্সিটির প্রফেসর।
দাওয়াতের কাজের বড় মুরুব্বীও।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১২:৫৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×