somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শাশ্বত অধিকারগুলো আদায়ের শিক্ষা যখন মাতৃভাষা দিবস।

২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দিবসটি কিন্তু বাংলা ভাষা দিবস নয়, মাতৃভাষা দিবস। মায়ের ভাষা তথা নিজের ভাষায় কথা বলার অধিকারের প্রতি সম্মান ও সমর্থন প্রদানের দিবস। সালাম বরকত রফিক জব্বার বাংলা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছেন বললে তাদেরকে ছোট করা হবে, বরং বাংলা হোক, ইংরেজী হোক, হিন্দী কি মারাঠী অথবা হোক তা উর্দু- তারা পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের স্ব স্ব ভাষায় কথা বলার অধিকার আদায়ে জীবন দিয়েছেন। সুতরাং বাংলার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে গিয়ে আমরা কেউ অন্য ভাষার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করিনা। ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছোট্ট শিশুটি হিন্দীতে মনের ভাব প্রকাশ করুক, এটাই আমাদের কামনা। আবার পাকিস্তানের লাহোরের স্কুল বালকটি উর্দুতেই মনের ভাব প্রকাশ করুক, আজকের দিবসে আমাদের এটিই চাওয়া। নিজ জাতির কল্যাণই আমদের একমাত্র চাওয়া নয়, একই সাথে পৃথিবীর প্রতিটি মানব ও প্রতিটি জাতির কল্যাণই আমাদের প্রত্যাশা। সেজন্যই, 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস'- নামকরণটি যথার্থই হয়েছে।


উপরের কথাগুলো সকলেই জানেন, আমি শুধু স্মরণ করেছি মাত্র। আমরা নিজের কল্যাণ ও মর্যাদার আলোচনা করতে করতে অনেক সময় অন্যের প্রতি অজান্তেই বিদ্বেষাক্রান্ত হয়ে পড়ি। তা থেকে সাবধান থাকতেই এ স্মরণ করা।

শুধুই কি মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার? না। মোটেই না। প্রতিটি অধিকার আদায়ে সংগ্রামী হওয়ার আহ্বান আজকের এই দিবসে। প্রতিটি অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনে উৎসাহিত করার জন্যই আজকের এই দিবস।

বলাই বাহুল্য, আমার সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন আমার অধিকার। আকাশ ও পৃথিবীর মালিক মানুষের জন্য যে জীবন বিধান দিয়েছেন সে অনুযায়ী চলতে চাওয়া আমার জন্য দোষের নয়, বরং অধিকার। আমার সে অধিকারে কোন ব্যাক্তি বা গোষ্ঠি বাধা হয়ে দাঁড়ালে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রেরণা জোগায় আজকের এ দিবস। বিশাল আকাশ যিনি সৃষ্টি করেছেন, কোটি কোটি নক্ষত্র যার সৃষ্টি, তেজস্বি মার্তণ্ড যার কথায় আলোক ছড়ায়, আমাকে যিনি সৃষ্টি করেছেন, প্রতি মুহূর্তে পালন করছেন, বাঁচিয়ে রেখেছেন- তার বিধানের প্রতি আত্মসমর্পন করতে উদ্বুদ্ধ করে আজকের এই দিবস। কেননা তা মানুষের অধিকার ও দায়িত্ব। আর কায়েমী স্বার্থবাদীরা যারা স্রষ্টার বিধান পালনে ও প্রতিষ্ঠায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাদেরকে বোঝানো এবং প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার প্রেরণা যোগায় সালাম বরকত রফিক আর জব্বারের রক্তফোঁটাগুলো। এই ভুখন্ডের মানুষগুলোর এই শাশ্বত অধিকার আদায়ে অগ্রগামী হতে ৫২র ভাষা সৈনিকেরা সবসময়ই প্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবে।


বাংলাকে সমৃদ্ধ করেছে উপন্যাস, গল্প, নাটক- আরো কত কি। একই সাথে মহান প্রভুর অমোঘ বাণী আল কুরআণের অনুবাদ ও ব্যাখ্যাকে যারা ঘাম ও শ্রমের বিনিময়ে বাংলায় উপস্থাপন করেছেন, নিসন্দেহে তারাও বাংলাকে সমৃদ্ধ করেছেন। আজও যারা নিরবে নিরলসভাবে বিশ্বপ্রভুর দেয়া কল্যাণময় জীবন ব্যবস্থাকে বাংলা ভাষাভাষিদের জন্য সহজ করে দিচ্ছেন একের পর এক গ্রন্থ লিখে কি অনুবাদ করে- তারা বাংলাকে সমৃদ্ধ করেছেন এবং করেছেন সম্মানিত, কোন সন্দেহ নেই। যেহেতু তাদের কাজের স্বীকৃতি দেয়ার লোকের সংখ্যা যথেষ্ঠ কম, তাই এই পোস্টের মাধ্যমে তাদের প্রতি বিশেষভাবে শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রদর্শন করছি। জ্ঞানের অন্যান্য শাখায় যারা অবদান রাখছেন, তাদের স্বীকৃতি তো সকলেই দিচ্ছেন, আমরাও আবার দিচ্ছি।

সত্যি কথা বলতে, বাংলাদেশের মানুষ মাতৃভাষায় মনের ভাব প্রকাশের পূর্ণ অধিকার আজো ফিরে পায়নি। আদালতে বিচার চাইতে, ব্যাংকে কাজ করতে, অথবা একটি চাকরি পেতে মাতৃভাষা এদেশের মানুষের খুব বেশি কাজে লাগেনা। বহুবিধ যোগ্যতা থাকা সত্বেও ইংরেজীতে একটু দূর্বলতায় আটকে থাকতে হয় গ্রামগঞ্জের অসংখ্য সরল সহজ মানুষকে। তারা না পায় ইংরেজীর যথার্থ শিক্ষা, না পায় বাংলার যথার্থ মূল্যায়ন। এ পরিস্থিতির সত্ত্বর অপোনোদন আমাদের সকলের কাম্য।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৪৬
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ম্যাজিস্ট্রেট

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



আমাদের এলাকায় নতুন একটা ওষুধের দোকান হয়েছে।
অনেক বড় দোকান। মডেল ফার্মেসী। ওষুধ ছাড়াও কনজ্যুমার আইটেম সব পাওয়া যায়। আমি খুশি এক দোকানেই সব পাওয়া যায়। আমাদের এলাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ্‌কে কীভাবে দেখা যায়?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

যে কোন কিছু দেখতে হলে, তিনটি জিনিসের সমন্বয় লাগে। সেই জিনিসগুলো হচ্ছে - মন, চোখ এবং পরিবেশ। এই তিন জিনিসের কোন একটি অকেজো হয়ে গেলে, আমরা দেখতে পারি না। চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকে জুলাইযোদ্ধাদের উপর পুলিশের ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।

লিখেছেন তানভির জুমার, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:১৪

জুলাই যারা ঘটিয়েছে, তাদের উপর পুলিশের কী পরিমাণে ক্ষোভ, এটা ইলেকশনে যাস্ট বিএনপি জেতার পরই টের পাবেন।
আমি বলছি না, বিএনপির ক্ষোভ আছে।
বিএনপি দল হিসেবে অকৃতজ্ঞ হতে পারে, কিন্তু জুলাইয়ের উপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাশা : বাংলাদেশের নতুন জাতীয় খেলা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৩৯


"ও শ্যামরে, তোমার সনে একেলা পাইয়াছি রে শ্যাম, এই নিঠুর বনে। আজ পাশা খেলব রে শ্যাম।" প্রয়াত হুমায়ূন ফরীদির কণ্ঠে ছবিতে যখন এই গান শুনেছিলাম ,তখন কেউ ভাবেনি যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহার এবং আমার পর্যবেক্ষণ

লিখেছেন জীয়ন আমাঞ্জা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭

বিএনপির প্রতি আমার যথেষ্ট ভালোবাসা কাজ করে, এবং ভালোবাসা আছে বলেই আমি তার প্রতিটি ভুল নিয়েই কথা বলতে চাই, যাতে সে শোধরাতে পারে। আপনিও যদি সঠিক সমালোচনা করেন, সত্যকে সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×