আমাদের এক ভার্সিটি বাসে প্রায়ই একটা মজার কান্ড দেখতে পাই। ঐ বাসের ড্রাইভারকে 'মামা' বলে ডাকা যায় না। যতবার ডাকা হয় প্রতিবারই তিনি ক্ষেপে যান। ক্ষেপে গিয়ে বাসে টাঙ্গানো একটা নোটিশের দিকে আঙ্গুল তাক করে বলেন,"মামা ডাকেন কেন? নোটিশটা পড়তে পারেন না?"
নোটিশে লিখা
"অনুগ্রপূর্বক এই বাসের ড্রাইভারকে কেউ মামা বলে সম্বোধন না করে ভাইয়া বলে সম্বোধন করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষ থেকে এটাই আমাদের কাম্য।
-অনুরোধক্রমে কর্তৃপক্ষ।"
প্রায় একই ধরনের ঘটনা শুনতে পেলাম এক ছোট ভাইয়ের কাছ থেকে। সে এক কোচিংয়ে ভর্তি কোচিং করছে। ওখানের কিছু শিক্ষক তাদের স্টুডেন্টদের উপর খুব ক্ষেপে গিয়েছে। কারনটা এবার 'মামা' নয়, 'স্যার'। শিক্ষকদের 'ভাইয়া' না ডেকে 'স্যার' ডাকায় তারা অপমানিতবোধ করেছে বোধহয়। তবে সেই কোচিংয়ের 'ভাইয়া'-রা আমাদের বাসের মত 'নোটিশ থেরাপি'কে কাজে লাগাতে পারেন। এতে সাপও মরবে, লাঠিও ভাঙ্গবে না।
তবে শুধু ড্রাইভার 'ভাইয়া' আর কোচিং শিক্ষক 'ভাইয়া'দের সচেতন হলে হবে না। রিকশাওয়ালা ভাইয়েরা 'খালি', তরকারীওয়ালা ভাইয়েরা 'তরকারী' আর মুরগিওয়ালা ভাইয়েরা 'এই মুরগি' এইজাতীয় সম্বোধন থেকে নিজেকে রক্ষা করতে আরো সচেতন হতে হবে। তবে ওই ক্ষেত্রে 'নোটিশ থেরাপি' খুব বেশি কার্যকর না হলে প্রয়োজনে 'শাউটিং থেরাপি' গ্রহন করতে হবে। ওই সময় "যামু না" বা "বেঁচুম না" জাতীয় তৎক্ষনাৎ প্রতিবাদ জানাবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুলাই, ২০১৩ রাত ১১:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




