দেশের চা শিল্পাঞ্চলের বিশাল এক জনগোষ্ঠী শিক্ষার আলোর বাইরে থাকছে। এ জন্য চা বাগান মালিকরাই দায়ী। নিয়ম আছে প্রতিটি চা বাগানে একটি প্রাইমারী স্কুল থাকার। কিন্তু বাস্তবে তা নেই। সারা দেশের চা বাগানগুলোর মধ্যে মাত্র তিনটি সরকারী প্রাইমারী স্কুল রয়েছে। বাকি চা বাগানের অনেকটিতে বাগান কতৃপক্ষ চালিত নামে মাত্র স্কুল থাকলেও তাতে কোন শিক্ষার পরিবেশ নেই। চা বাগানে নিয়োজিত শিক্ষকরা দায়সারভাবে স্কুলে গিয়ে হাজিরা দেন। ছাত্ররা কেউ এলে কিছুই পড়ান না বরং দফতরী কাজে নিয়োজিত হন। তারা মূলত সূযোগ খোঁজেন কিভাবে স্কুলে শিক্ষক থেকে বাগানের দাফতরিক কাজে স্থায়ী নিয়োগ পেতে পারেন। এদিকে বাগানের শ্রমিকরাও তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে উতসাহী হয়না। এ বিষয়টি মনিটরিং করার কেউ নেই। গরীব চা শ্রমিকরা বাচ্চাদের অধিকাংশ সময় বাগানের জঙ্গল পরিষ্কারের কাজে, না হয় লাকড়ি কুড়ানোর কাজে জড়িয়ে পড়ে। বাগনের কাজ করলে কিশোরদের ২৬ টাকা করে দেওয়া হয়। লাকড়ী কুড়ালেও ৭০-১০০ টাকার লাকড়ী কুড়িয়ে আনে, যা পাশ্ববর্তী বাজারে নিয়ে বিক্রি করে পরিবারের খরচ মেটায়। এছাড়া বাগান কর্তৃপক্ষ কৌশলে বাগানে লেখাপড়ার পরিবেশ যাতে না থাকে সে জন্য শিশু শ্রমকে উৎসাহিত করেছে বলে সচেতন শ্রমিকরা অভিযোগ করেন।
এদিকে বাগানগুলোয় সরকারী প্রাইমারী স্কুল স্থাপনের কোন উদ্যোগেও নেওয়া হচ্ছে না। এ ব্যাপারে বিভিন্ন সময়ে সরকারের প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের সরকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সরকারী প্রাইমারী স্কুল করতে হলে স্কুলের নামে ভুমি রেজিষ্ট্রি করে দিতে হয়। কিন্তু বাগানগুলোর মালিকপক্ষ সে ব্যাপারে রাজি না থাকায় সরকারীভাবে উদ্যোগ নেয়া যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে চা শ্রমিক নেতারা বলেছেন, সরকার চাইলে প্রাইমারী স্কুলের জন্য জায়গা দিতে বাগান কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করতে পারে। কারণ জায়গা তো সরকারের। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা মাখন লাল কর্মকার বলেন, আসলে চা বাগানে সরকারী প্রাইমারী স্কুল স্থাপন করতে কোন সরকার ও বাগান কর্তৃপ কেউই আন্তুরিক না। কেউই চায়না চা শ্রমিকের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া শিখুক। তারা এ ব্যাপারে বিভিন্ন পর্যায়ে তদবীর করে আরো কয়েকটি বাগানে সরকারী স্কুল স্থাপন করা যায় কি না তা চেষ্টা করছেন।
চলবে....

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




