somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উৎপাদন সংকটের কারণে ২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে চা আমদানীর আশংঙ্কা (চা শিল্পাঞ্ঝল-৬)

২১ শে মে, ২০০৭ রাত ৮:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় গত বছর বাংলাদেশ থেকে বিদেশে চা রফতানির পরিমাণ ৪৭ শতাংশ কমেছে। ফলে ২০০৬ সালের আগে ২০০৫ সালের তুলনায় ২৭ কোটি ৩০ লাখ টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় কমেছে। যা অর্থনীতির চাকাকে তির সম্মুখিন করে দিয়েছে।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের দেওয়া তথ্য মতে, ২০০৬ সালে দেরিতে বৃষ্টিপাত এবং র্দীঘ খরার কারণে আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ চা উৎপাদন কম হয়। ২০০৫ সালে যেখানে উৎপাদন হয়েছিল ৫ কোটি ৬৪ লাখ কেজি চা, ২০০৬ সালে সে পরিমাণ গিয়ে দাড়ায় ৫ কোটি কেজিতে। ফলে ২০০৫ সালে ৯০ লাখ কেজি চা রফতানি করে ৭৪ কোটি ২৬ লাখ ২০ হাজার টাকা আয় হলেও পরের বছর ২০০৬ সালে ৪৭ লাখ ৯০ কেজি চা হাজার টাকা, যা আগের বছরের চেয়ে ২৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা কম।
চা ব্যাবসায়ীরা জানান, বিদেশের বাজারে বাংলাদেশের চায়ের ভালো চাহিদা রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের বাগানগুলো বিদেশের চাহিদা মত চা সরবরাহ করতে পারেনা । এছাড়া দেশের অভ্যন্তরেও চায়ের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় চায়ের দাম বেড়ে গেছে। ফলে, চট্টগ্রামস্থ চায়ের নিলাম বাজারে বিদেশী ক্রেতারা এদেশের ক্রেতাদের সঙ্গে দরের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েন। বিভিন্ন চা ব্যাবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, গত বছরে চায়ের বাজার ছিল বেশ চড়া। এক বছর আগেও যে চায়ের প্রতি কেজির দাম ছিল ৭৮ টাকা, তা গত বছর ১৪৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। এছাড়া ভালো ব্রøান্ডের চা গত বছর প্রতি কেজি ১৩০-১৫০ টাকা পর্যন্ত সারা বছরই বিক্রি হয়েছে।
চা উৎপাদন ও রফতানী বানিজ্যের সঙ্গে জড়িত লোকজন মনে করছেন, দেশের অভ্যন্তরে দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, মানুষের মধ্যে চা পানের প্রবনতা বৃদ্ধি এবং সে অনুপাতে চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধি না পাওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। প্রতি বছর যেখানে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ছে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ হারে, সেখানে উৎপাদন বাড়ছে মাত্র ১ থেকে ১ দশমিক ৫ শতাংশ হারে। ফলে প্রতি বছর প্রায় ৪ শতাংশ হারে ঘাটতি বাড়ছে। এ হিসেবে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে অব্যাহত এ ঘাটতির কারণে দেশীয় উৎপাদন ও চাহিদা সমান হয়ে যেতে পারে বলে আশংঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এ অবস্থা চলতে থাকলে ২০১৫ সালের দিকে বাংলাদেশ আর চা রফতানি করতে পারবেনা। উপরন্ত ২০২০ সালের দিকে বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশেও চা আমদানীও করতে হতে পারে।
এদিকে একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, চায়ের গুনগত মান খারাপ হওয়ায় আন্তজার্তিক বাজারে দিন দিন বাংলাদেশী চায়ের দাম এবং মান কমছে। প্রাপ্ত তথ্য মতে, ১৯৯৭-৯৮ অর্থ বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশী প্রতি কেজি চায়ের গড় দাম ছিল ১ দশমিক ৮৯ ডলার। কিন্তু ১৯৯৮-৯৯ সালে এ দর ১ দশমিক ৪৭ ডলার, ১৯৯৯-২০০০ সালে ১ দশমিক ১৮ ডলার এবং ২০০০-০১ সালে ১ দশমিক ২৬ ডলারে গিয়ে দাড়িয়েছে। এ সময়কালে চা রফতানি করে বৈদেশিক মূদ্রা আয়ের পরিমাণও কমেছে। চা চাষের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন বাগানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, চা শ্রমিক, চা বিজ্ঞানী এবং চা বোর্ডের শ্রীমঙ্গলস্থ প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিটের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে তারা এ অবস্থা সৃষ্টির জন্য বাগান কতৃêপকে দায়ী করেন। উল্লেখ্য, সারা দেশের ছোট-বড় ১৬২ টি বাগানের মধ্যে মৌলভীবাজার জেলায় ৯২ টি, হবিগঞ্জ জেলায় ২২টি, সিলেটে ২০টি, বৃহত্তর চট্টগ্রামে ২৩টি, ব্রানবাড়িয়ায় ১টি পঞ্চগড়-ঠাকুরগাও এলাকায় ৫টি চা বাগান রয়েছে। এসব বাগানে চা চাষের জন্য বরাদ্দকৃত জমির পরিমাণ ১ লাখ ১৪ হাজার ৬৫৫ হেক্টর। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত চা চাষ হচ্ছে ৫০ হাজার ৮৯৬ হেক্টর জমিতে, যা বরাদ্দকৃত জমির প্রায় অর্ধেক।
চলবে...
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে মে, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৫৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'মাহাথিরনোমিক্স'- মালয়েশিয়াকে যেভাবে নিজ পায়ে দাঁড় করালো (পর্ব - ১)

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১২:৪৭



আমাদের প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া গেলেন। এটা খুব ভালো এক মুভ ছিলো। সারা বিশ্বকে একটি বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। কিন্তু, সারা বিশ্বে মালয়েশিয়াকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার অগ্রনায়ক মাহাথির মোহাম্মদের সাথে তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোসাইপুর ১৯৭১

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:৫০



জুন মাসের পড়ন্ত বিকেল, ভ্যাপসা গরমে আগন্তুক ঘেমে একাকার। গায়ে ময়লা হাফ শার্ট আর নীল ফুলপেন্ট। শার্টের রঙ কোনো এক সময় হয়তো সাদা ছিলো, ময়লা হতে হতে এখন প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিউইয়র্কের ডায়েরী: ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া থেকে লং-আইল্যান্ড

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৫৪


আমাদের সামার ভেকেশন চলছে এখন। প্রায় তিন মাসের ছুটি। এই ছুটিতে বসে না থেকে নিউইয়র্কের একটি ন্যাশনাল ল্যাবে জয়েন করলাম ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি হিসেবে! গবেষণা করে যে পৃথিবীকে উদ্ধার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মোহমায়া

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬



খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।

ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।


হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই  ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন্তব্যে অনন্য রাজীব নূর

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৩২



অনন্য রাজীব নুর মন্তব্য বেলায়
পাওয়া ও দেওয়ায় লক্ষ করে পার
সম্মুখে এগিয়ে চলে গন্তব্যে অপার
প্রতিটি পোষ্টের ক্ষেত্রে তার আছে টান।
মন তার দোলে চলে আনন্দ ভেলায়
ব্লগেতে নিশ্চুপ দেখে পোষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

×