বাংলাদেশ চা বোর্ডের দেওয়া তথ্য মতে, ২০০৬ সালে দেরিতে বৃষ্টিপাত এবং র্দীঘ খরার কারণে আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ চা উৎপাদন কম হয়। ২০০৫ সালে যেখানে উৎপাদন হয়েছিল ৫ কোটি ৬৪ লাখ কেজি চা, ২০০৬ সালে সে পরিমাণ গিয়ে দাড়ায় ৫ কোটি কেজিতে। ফলে ২০০৫ সালে ৯০ লাখ কেজি চা রফতানি করে ৭৪ কোটি ২৬ লাখ ২০ হাজার টাকা আয় হলেও পরের বছর ২০০৬ সালে ৪৭ লাখ ৯০ কেজি চা হাজার টাকা, যা আগের বছরের চেয়ে ২৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা কম।
চা ব্যাবসায়ীরা জানান, বিদেশের বাজারে বাংলাদেশের চায়ের ভালো চাহিদা রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের বাগানগুলো বিদেশের চাহিদা মত চা সরবরাহ করতে পারেনা । এছাড়া দেশের অভ্যন্তরেও চায়ের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় চায়ের দাম বেড়ে গেছে। ফলে, চট্টগ্রামস্থ চায়ের নিলাম বাজারে বিদেশী ক্রেতারা এদেশের ক্রেতাদের সঙ্গে দরের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েন। বিভিন্ন চা ব্যাবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, গত বছরে চায়ের বাজার ছিল বেশ চড়া। এক বছর আগেও যে চায়ের প্রতি কেজির দাম ছিল ৭৮ টাকা, তা গত বছর ১৪৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। এছাড়া ভালো ব্রøান্ডের চা গত বছর প্রতি কেজি ১৩০-১৫০ টাকা পর্যন্ত সারা বছরই বিক্রি হয়েছে।
চা উৎপাদন ও রফতানী বানিজ্যের সঙ্গে জড়িত লোকজন মনে করছেন, দেশের অভ্যন্তরে দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, মানুষের মধ্যে চা পানের প্রবনতা বৃদ্ধি এবং সে অনুপাতে চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধি না পাওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। প্রতি বছর যেখানে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ছে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ হারে, সেখানে উৎপাদন বাড়ছে মাত্র ১ থেকে ১ দশমিক ৫ শতাংশ হারে। ফলে প্রতি বছর প্রায় ৪ শতাংশ হারে ঘাটতি বাড়ছে। এ হিসেবে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে অব্যাহত এ ঘাটতির কারণে দেশীয় উৎপাদন ও চাহিদা সমান হয়ে যেতে পারে বলে আশংঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এ অবস্থা চলতে থাকলে ২০১৫ সালের দিকে বাংলাদেশ আর চা রফতানি করতে পারবেনা। উপরন্ত ২০২০ সালের দিকে বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশেও চা আমদানীও করতে হতে পারে।
এদিকে একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, চায়ের গুনগত মান খারাপ হওয়ায় আন্তজার্তিক বাজারে দিন দিন বাংলাদেশী চায়ের দাম এবং মান কমছে। প্রাপ্ত তথ্য মতে, ১৯৯৭-৯৮ অর্থ বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশী প্রতি কেজি চায়ের গড় দাম ছিল ১ দশমিক ৮৯ ডলার। কিন্তু ১৯৯৮-৯৯ সালে এ দর ১ দশমিক ৪৭ ডলার, ১৯৯৯-২০০০ সালে ১ দশমিক ১৮ ডলার এবং ২০০০-০১ সালে ১ দশমিক ২৬ ডলারে গিয়ে দাড়িয়েছে। এ সময়কালে চা রফতানি করে বৈদেশিক মূদ্রা আয়ের পরিমাণও কমেছে। চা চাষের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন বাগানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, চা শ্রমিক, চা বিজ্ঞানী এবং চা বোর্ডের শ্রীমঙ্গলস্থ প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিটের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে তারা এ অবস্থা সৃষ্টির জন্য বাগান কতৃêপকে দায়ী করেন। উল্লেখ্য, সারা দেশের ছোট-বড় ১৬২ টি বাগানের মধ্যে মৌলভীবাজার জেলায় ৯২ টি, হবিগঞ্জ জেলায় ২২টি, সিলেটে ২০টি, বৃহত্তর চট্টগ্রামে ২৩টি, ব্রানবাড়িয়ায় ১টি পঞ্চগড়-ঠাকুরগাও এলাকায় ৫টি চা বাগান রয়েছে। এসব বাগানে চা চাষের জন্য বরাদ্দকৃত জমির পরিমাণ ১ লাখ ১৪ হাজার ৬৫৫ হেক্টর। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত চা চাষ হচ্ছে ৫০ হাজার ৮৯৬ হেক্টর জমিতে, যা বরাদ্দকৃত জমির প্রায় অর্ধেক।
চলবে...
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে মে, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




