somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজও লাভের মুখ দেখেনি ন্যাশনাল টি কোম্পানী (চা শিল্পাঞ্ঝল-৭)

২২ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কতৃপক্ষের দায়সার দায়িত্ব পালন এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে যথাসময়ে উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ন্যাশনাল টি কোম্পানী (এনটিসি)। ঋণে জর্জরিত এ প্রতিষ্ঠান বিগত বছরগুলোর তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ কমে গেছে। জানা যায়, ১৯৭৭-৭৮ অর্থবছরে দেশের ৯টি বৃহত আকারের চা বাগান নিয়ে ন্যাশনাল টি কোম্পানীর যাত্রা শুরু করে। এনটিসির ৬ লাখ ৬০ হাজার শেয়ারের মধ্যে ৫৪ শাতংশের মালিক প্রাইভেটভাবে নিয়ন্ত্রিত। বর্তমানে এনটিসির শেয়ারের মার্কেট ভ্যালু প্রায় ৫৯০ টাকা। কোম্পানির বাগানগুলো হচ্ছে চন্ডিছড়া চা বাগান, তেলিয়াপাড়া চা বাগান, পারকুল চা বাগান, চাম্পারায় চা বাগান, লাক্কাতুরা চা বাগান, মদন মোহনপুর চা বাগান,প্রেমনগর চা বাগান, বিজয়া চা বাগান, মাধবপুর চা বাগান, জগদীশপুর চা বাগান, কোরমা চা বাগান এবং পুটিয়া চা বাগান। এছাড়া এনটিসির একটি বিক্রয় কেন্দ্র রয়েছে।
১৯৯৯ সালে এনটিসির ১৩টি বাগানে চা উতপাদন হয়েছিল ৪৫ লাখ ৩৪ হাজার ১৫৫ কেজি, যা ছিল ১৯৯৮ সালের চেয়ে সাড়ে ৯ লাখ কেজি এবং ১৯৯৭ সালের চেয়ে ৮ লাখ কেজি কম। উৎপাদনের হাসের ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে। ১৯৮০ সালে এনটিসির বাগানে গড় উৎপাদন ছিল হেক্টর প্রতি ১ হাজার ৬৩ কেজি। ২০০৪ সালে হেক্টরপ্রতি উৎপাদন কমে ৯৪২ কেজিতে নেমে আসে। এ সময়কালে এনটিসির ১৩টি চা বাগানের উপাদন বৃদ্ধির লক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচী নেয়া হয়। সরকার নিয়ন্ত্রিত এ প্রতিষ্ঠানটিকে দেওয়া হয় বিপুল অঙ্কের ব্যাংক ঋণ। এনটিসিকে দেওয়া দীর্ঘ মেয়াদের ঋণের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ২৬ কোটির টাকার উপরে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। কিন্তু তারপারও চা বোর্ড নির্ধারিত প্রতিবছর শতকরা আড়াইভাগ চা চাষ সম্প্রসারণ করতেও সক্ষম হয়নি এনটিসি। ২০ বছরে এসব বাগানে বার্ষিক শতকরা ১ শতাংশ চা চাষও বাড়েনি। অন্যদিকে এসব বাগানে অধিক বয়সি ও উৎপাদনে অক্ষম চা গাছের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে দেশি-বিদেশী মালিকানাধীন অন্যান্য কোম্পানীর তুলনায় এনটিসির চা উৎপাদন হßাস পেয়েছে। ২০০৫ সালে দেশের চায়ের বাম্পার ফরন হওয়ার পরও এনটিসির জগদীশপুর, কোরমা ও পুটিয়া চা বাগান রীতিমত লোকসান গোনে। সম্প্রতি এ সম্পর্কিত এক প্রতিবেদনে চা শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এবং চা শিল্প মনিটরিং না তাকা এবং কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা না থাকাকে দায়ী করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এনটিসির সাত সদস্যের পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ চারজন সদস্যই সরকার মনোনীত। তারা সাধারণত হয় রাজনৈতিক নেতা, না হয় আমলা। এনটিসি সূত্রে জানা গেছে, এসব বাগানে ম্যানেজার ও সহকারী ম্যানেজার পদ মর্যাদার ৪৪ জন কর্মকর্তা, ২২০ জন কর্মচারী এবং ১১ হাজার নিবন্ধিত শ্রমিক রয়েছে। এনটিসির কারখানাগুলোতে যন্ত্রপাতি থাকলেও সেগুলোর অধিকাংশই সেকেলে এবং ত্রুটিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
চলবে...
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে মে, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৩৩
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'মাহাথিরনোমিক্স'- মালয়েশিয়াকে যেভাবে নিজ পায়ে দাঁড় করালো (পর্ব - ১)

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১২:৪৭



আমাদের প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া গেলেন। এটা খুব ভালো এক মুভ ছিলো। সারা বিশ্বকে একটি বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। কিন্তু, সারা বিশ্বে মালয়েশিয়াকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার অগ্রনায়ক মাহাথির মোহাম্মদের সাথে তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোসাইপুর ১৯৭১

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:৫০



জুন মাসের পড়ন্ত বিকেল, ভ্যাপসা গরমে আগন্তুক ঘেমে একাকার। গায়ে ময়লা হাফ শার্ট আর নীল ফুলপেন্ট। শার্টের রঙ কোনো এক সময় হয়তো সাদা ছিলো, ময়লা হতে হতে এখন প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিউইয়র্কের ডায়েরী: ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া থেকে লং-আইল্যান্ড

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৫৪


আমাদের সামার ভেকেশন চলছে এখন। প্রায় তিন মাসের ছুটি। এই ছুটিতে বসে না থেকে নিউইয়র্কের একটি ন্যাশনাল ল্যাবে জয়েন করলাম ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি হিসেবে! গবেষণা করে যে পৃথিবীকে উদ্ধার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মোহমায়া

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬



খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।

ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।


হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই  ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন্তব্যে অনন্য রাজীব নূর

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৩২



অনন্য রাজীব নুর মন্তব্য বেলায়
পাওয়া ও দেওয়ায় লক্ষ করে পার
সম্মুখে এগিয়ে চলে গন্তব্যে অপার
প্রতিটি পোষ্টের ক্ষেত্রে তার আছে টান।
মন তার দোলে চলে আনন্দ ভেলায়
ব্লগেতে নিশ্চুপ দেখে পোষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

×