১৯৯৯ সালে এনটিসির ১৩টি বাগানে চা উতপাদন হয়েছিল ৪৫ লাখ ৩৪ হাজার ১৫৫ কেজি, যা ছিল ১৯৯৮ সালের চেয়ে সাড়ে ৯ লাখ কেজি এবং ১৯৯৭ সালের চেয়ে ৮ লাখ কেজি কম। উৎপাদনের হাসের ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে। ১৯৮০ সালে এনটিসির বাগানে গড় উৎপাদন ছিল হেক্টর প্রতি ১ হাজার ৬৩ কেজি। ২০০৪ সালে হেক্টরপ্রতি উৎপাদন কমে ৯৪২ কেজিতে নেমে আসে। এ সময়কালে এনটিসির ১৩টি চা বাগানের উপাদন বৃদ্ধির লক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচী নেয়া হয়। সরকার নিয়ন্ত্রিত এ প্রতিষ্ঠানটিকে দেওয়া হয় বিপুল অঙ্কের ব্যাংক ঋণ। এনটিসিকে দেওয়া দীর্ঘ মেয়াদের ঋণের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ২৬ কোটির টাকার উপরে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। কিন্তু তারপারও চা বোর্ড নির্ধারিত প্রতিবছর শতকরা আড়াইভাগ চা চাষ সম্প্রসারণ করতেও সক্ষম হয়নি এনটিসি। ২০ বছরে এসব বাগানে বার্ষিক শতকরা ১ শতাংশ চা চাষও বাড়েনি। অন্যদিকে এসব বাগানে অধিক বয়সি ও উৎপাদনে অক্ষম চা গাছের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে দেশি-বিদেশী মালিকানাধীন অন্যান্য কোম্পানীর তুলনায় এনটিসির চা উৎপাদন হßাস পেয়েছে। ২০০৫ সালে দেশের চায়ের বাম্পার ফরন হওয়ার পরও এনটিসির জগদীশপুর, কোরমা ও পুটিয়া চা বাগান রীতিমত লোকসান গোনে। সম্প্রতি এ সম্পর্কিত এক প্রতিবেদনে চা শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এবং চা শিল্প মনিটরিং না তাকা এবং কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা না থাকাকে দায়ী করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এনটিসির সাত সদস্যের পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ চারজন সদস্যই সরকার মনোনীত। তারা সাধারণত হয় রাজনৈতিক নেতা, না হয় আমলা। এনটিসি সূত্রে জানা গেছে, এসব বাগানে ম্যানেজার ও সহকারী ম্যানেজার পদ মর্যাদার ৪৪ জন কর্মকর্তা, ২২০ জন কর্মচারী এবং ১১ হাজার নিবন্ধিত শ্রমিক রয়েছে। এনটিসির কারখানাগুলোতে যন্ত্রপাতি থাকলেও সেগুলোর অধিকাংশই সেকেলে এবং ত্রুটিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
চলবে...
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে মে, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




