তাদের মতে, বাগানগুলোয় নতুন চা গাছ লাগানো হচ্ছে কম। ফলে চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন হচ্ছেনা। শ্রীমঙ্গলস্থ চা বোর্ডের প্রকল্প ইউনিটের (পিডিইউ) এক কর্মকর্তা জানান, অধিকাংশ চা বাগানে চা গাছগুলো অত্যাধিক পুরনে ও বয়স্ড়্গ হয়ে গেছে। বয়স্ড়্গ গাছে ফলন ভালো হয়না। একটি চা গাছের বয়স ৪০ বছর পার হওয়ার পর থেকে তার উৎপাদন মতা এক-চতুর্থাংশ এবং ৬০ ভচর পার হলে ৭৫ শতাংশ হারিয়ে ফেলে। সাধারণত ৬০ বছরের অধিক বয়সী চা গাছ বাগান থেকে উঠিয়ে নতুন গাছ লাগানো পরামর্শ দেয়া হয়। অথচ দেশের চা বাগানগুলোয় এখনো প্রায় এক-তৃতীয়াংশ চা গাছই ৬০ বছরের বেশী বয়সী। ফলে উৎপাদনে এক বিরুপ প্রভাব পড়েছে। দিন দিন কমছে চায়ের সার দেশে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৬২টি চা বাগানের জন্য বরাদ্দকৃত জমির পরিমাণ ১ লাখ ১৪ হাজার ৬৫৫ হেক্টর। এর মধ্যে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত চা চাষ হয়েছে ৫০ হাজার ৮৯৬ হেক্টর জমিতে। যা বরাদ্দকৃত জমির প্রায় অর্ধেক। এর মধ্যে গত ৫ বছরে পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাও জেলায় নতুন চা বাগান প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ৫টি। এসব এলাকায় প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমি নতুন করে চা চায়ের আওতায় এসেছে।
শ্রীমঙ্গলস্থ বাংলাদেশ চা গভেষনা ইন্সটিটিউডের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চা বিজ্ঞানী জানান, অধিকাংশ বাগান যদি দ্রুত তাদের পুরনো তথা মেয়াদোত্তীর্ণ চা গাছের স্থলে নতুন চা গাছ না লাগায় তাহলে কয়েক বছর পর উৎপাদন আরো কমবে। কারণ দিন দিন উৎপাদনম চা গাছের পরিমাণ কমছে। তাছাড়া চা বাগানগুলোতে উচ্চ ফলনশীল চা গাছেরও অভাব রয়েছে । অধিকাংশ চা বাগানের নার্সারী বাগানগুলো মানসম্পন্ন নয়। সাধারণ মানের বীজের চারা গাছে হেক্টর প্রতি যেখানে ২ থেকে আড়াই হাজার কেজি চা উৎপন্ন হয়, সেখানে একটি ভালো কোন জাতের পূর্ণবয়স্ড়্গ চা গাছ থেকে হেক্টর প্রতি ফলন আসে প্রায় ১০ হাজার কেজি। তিনি আরো জানান, ২০০৫ সালে বিটিআরআই থেকে অবমুক্ত বিটি-১৭ জাতের কোন চা গাছের বার্ষিক হেক্টর প্রতি ফলন ১ হাজার ৮৭৩ কেজি। চা বাগানগুলোর প্রতি বছর আড়াই শতাংশ হারে চা আবাদ বৃদ্ধি নিয়ম থাকলেও বাস্তবে গড় আবাদ বৃদ্ধির পরিমাণ মাত্র ১ শতাংশের কাছাকাছি। তাও বিদেশী কোম্পানীর মালিকানদিন চা বাগানগুলো সবচেয়ে বেশী নতুন চা আবাদ করছে। জানা যায়,দেশে বর্তমানে ৪৪টি রুগ্ন তালিকাভূক্ত চা বাগান রয়েছে। এ সব বাগানের মালিকরা একদিকে ঋণ এবং বাগানের ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধে যেমন খেলাপী হচ্ছে, তেমনি চা বাগানের উৎপাদন বৃদ্ধিতেও তাদের খুব একটা গরজ নেই বলে চা বাগান ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত লোকজন অভিযোগ করেন।
বাংলাদেশ টি এস্টেট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অবসারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, বিশেষ করে নতুন চা বাগান মালিকরা বাগান কিনে প্রথমেই গাছ কাটার দিকে নজর দেন। তারা বাগানের গাছের টাকা দিয়েই নতুন প্লান্টেশন করতে চান। ঋণের টাকা দিয়ে ইটভাটি ময়দা মিল করার মত ঘটনাও অতিতে গঠেছে। এছাড়াও বর্তমানে চা চাষের চেয়ে অধিক লাভজনক রাবার চাষের প্রতি বাগান মালিকরা বেশি ঝুকছেন। অধিকাংশ চা বাগানের প্রায় ১০ শতাংশ ভূমিতে রাবার চাষ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
চা বাগান,বাংলা,চা খারখানা ও চা পকরিয়া করনের কিছু দৃশ্য
চলবে...
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মে, ২০০৭ সকাল ১০:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




