somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঋণ খেলাপির দায়ে প্রাইভেট চা বাগান মালিকরা জর্জরিত (চা শিল্পাঞ্ঝল -৮)

২২ শে মে, ২০০৭ রাত ৮:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেশের চা উৎপাদনে বিপর্যয়ের মূল কারণ হচ্ছে নতুন প্লান্টেশন হচ্ছে না। চা চাষের জন্য বরাদ্দকৃত ভূমির প্রায় অর্ধেক এখনো অনাবাদি রয়েছে। চা চাষের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা কর্মচারী, চা শ্রমিক, চা বিজ্ঞানী ও চা বোর্ডের শ্রীমঙ্গলস্থ প্রকল্প ইউনিটের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে তারা এ অবস্থা সৃষ্টি ও চা বাগানগুলোর উৎপাদন না বাড়ার জন্য বাগান কতৃêপকে দায়ী করেন।
তাদের মতে, বাগানগুলোয় নতুন চা গাছ লাগানো হচ্ছে কম। ফলে চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন হচ্ছেনা। শ্রীমঙ্গলস্থ চা বোর্ডের প্রকল্প ইউনিটের (পিডিইউ) এক কর্মকর্তা জানান, অধিকাংশ চা বাগানে চা গাছগুলো অত্যাধিক পুরনে ও বয়স্ড়্গ হয়ে গেছে। বয়স্ড়্গ গাছে ফলন ভালো হয়না। একটি চা গাছের বয়স ৪০ বছর পার হওয়ার পর থেকে তার উৎপাদন মতা এক-চতুর্থাংশ এবং ৬০ ভচর পার হলে ৭৫ শতাংশ হারিয়ে ফেলে। সাধারণত ৬০ বছরের অধিক বয়সী চা গাছ বাগান থেকে উঠিয়ে নতুন গাছ লাগানো পরামর্শ দেয়া হয়। অথচ দেশের চা বাগানগুলোয় এখনো প্রায় এক-তৃতীয়াংশ চা গাছই ৬০ বছরের বেশী বয়সী। ফলে উৎপাদনে এক বিরুপ প্রভাব পড়েছে। দিন দিন কমছে চায়ের সার দেশে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৬২টি চা বাগানের জন্য বরাদ্দকৃত জমির পরিমাণ ১ লাখ ১৪ হাজার ৬৫৫ হেক্টর। এর মধ্যে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত চা চাষ হয়েছে ৫০ হাজার ৮৯৬ হেক্টর জমিতে। যা বরাদ্দকৃত জমির প্রায় অর্ধেক। এর মধ্যে গত ৫ বছরে পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাও জেলায় নতুন চা বাগান প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ৫টি। এসব এলাকায় প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমি নতুন করে চা চায়ের আওতায় এসেছে।
শ্রীমঙ্গলস্থ বাংলাদেশ চা গভেষনা ইন্সটিটিউডের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চা বিজ্ঞানী জানান, অধিকাংশ বাগান যদি দ্রুত তাদের পুরনো তথা মেয়াদোত্তীর্ণ চা গাছের স্থলে নতুন চা গাছ না লাগায় তাহলে কয়েক বছর পর উৎপাদন আরো কমবে। কারণ দিন দিন উৎপাদনম চা গাছের পরিমাণ কমছে। তাছাড়া চা বাগানগুলোতে উচ্চ ফলনশীল চা গাছেরও অভাব রয়েছে । অধিকাংশ চা বাগানের নার্সারী বাগানগুলো মানসম্পন্ন নয়। সাধারণ মানের বীজের চারা গাছে হেক্টর প্রতি যেখানে ২ থেকে আড়াই হাজার কেজি চা উৎপন্ন হয়, সেখানে একটি ভালো কোন জাতের পূর্ণবয়স্ড়্গ চা গাছ থেকে হেক্টর প্রতি ফলন আসে প্রায় ১০ হাজার কেজি। তিনি আরো জানান, ২০০৫ সালে বিটিআরআই থেকে অবমুক্ত বিটি-১৭ জাতের কোন চা গাছের বার্ষিক হেক্টর প্রতি ফলন ১ হাজার ৮৭৩ কেজি। চা বাগানগুলোর প্রতি বছর আড়াই শতাংশ হারে চা আবাদ বৃদ্ধি নিয়ম থাকলেও বাস্তবে গড় আবাদ বৃদ্ধির পরিমাণ মাত্র ১ শতাংশের কাছাকাছি। তাও বিদেশী কোম্পানীর মালিকানদিন চা বাগানগুলো সবচেয়ে বেশী নতুন চা আবাদ করছে। জানা যায়,দেশে বর্তমানে ৪৪টি রুগ্ন তালিকাভূক্ত চা বাগান রয়েছে। এ সব বাগানের মালিকরা একদিকে ঋণ এবং বাগানের ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধে যেমন খেলাপী হচ্ছে, তেমনি চা বাগানের উৎপাদন বৃদ্ধিতেও তাদের খুব একটা গরজ নেই বলে চা বাগান ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত লোকজন অভিযোগ করেন।
বাংলাদেশ টি এস্টেট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অবসারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, বিশেষ করে নতুন চা বাগান মালিকরা বাগান কিনে প্রথমেই গাছ কাটার দিকে নজর দেন। তারা বাগানের গাছের টাকা দিয়েই নতুন প্লান্টেশন করতে চান। ঋণের টাকা দিয়ে ইটভাটি ময়দা মিল করার মত ঘটনাও অতিতে গঠেছে। এছাড়াও বর্তমানে চা চাষের চেয়ে অধিক লাভজনক রাবার চাষের প্রতি বাগান মালিকরা বেশি ঝুকছেন। অধিকাংশ চা বাগানের প্রায় ১০ শতাংশ ভূমিতে রাবার চাষ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

চা বাগান,বাংলা,চা খারখানা ও চা পকরিয়া করনের কিছু দৃশ্য

চলবে...

সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মে, ২০০৭ সকাল ১০:৪৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'মাহাথিরনোমিক্স'- মালয়েশিয়াকে যেভাবে নিজ পায়ে দাঁড় করালো (পর্ব - ১)

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১২:৪৭



আমাদের প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া গেলেন। এটা খুব ভালো এক মুভ ছিলো। সারা বিশ্বকে একটি বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। কিন্তু, সারা বিশ্বে মালয়েশিয়াকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার অগ্রনায়ক মাহাথির মোহাম্মদের সাথে তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোসাইপুর ১৯৭১

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:৫০



জুন মাসের পড়ন্ত বিকেল, ভ্যাপসা গরমে আগন্তুক ঘেমে একাকার। গায়ে ময়লা হাফ শার্ট আর নীল ফুলপেন্ট। শার্টের রঙ কোনো এক সময় হয়তো সাদা ছিলো, ময়লা হতে হতে এখন প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিউইয়র্কের ডায়েরী: ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া থেকে লং-আইল্যান্ড

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৫৪


আমাদের সামার ভেকেশন চলছে এখন। প্রায় তিন মাসের ছুটি। এই ছুটিতে বসে না থেকে নিউইয়র্কের একটি ন্যাশনাল ল্যাবে জয়েন করলাম ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি হিসেবে! গবেষণা করে যে পৃথিবীকে উদ্ধার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মোহমায়া

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬



খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।

ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।


হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই  ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন্তব্যে অনন্য রাজীব নূর

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৩২



অনন্য রাজীব নুর মন্তব্য বেলায়
পাওয়া ও দেওয়ায় লক্ষ করে পার
সম্মুখে এগিয়ে চলে গন্তব্যে অপার
প্রতিটি পোষ্টের ক্ষেত্রে তার আছে টান।
মন তার দোলে চলে আনন্দ ভেলায়
ব্লগেতে নিশ্চুপ দেখে পোষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

×