somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

৭১

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০১০ দুপুর ১২:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পালাও
যে যেদিকে পারছে ছুটছে। পিতৃপ্রদত্ত প্রাণটা আর সাথে মুল্যবান যা পারা যায় তাই নিয়ে আপাতত খান সেনাদের থেকে যতটুকু দূরে যাওয়া যায় তার চেষ্টা। গ্রামের পর গ্রাম খালি।আর যারা ছুটতে গিয়ে খান সেনার রাইফেলের আওতায় পড়েছে তারা মাটিতে শুয়ে আছে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় লাল ছোপ নিয়ে। অনেকে আবার যেতে পারেনি বিশেষত মেয়েরা। যারা প্রথম গুলিতে মারা যায়নি তাদের জন্য অপেক্ষায় রয়েছে বীভৎস মরন।মনে মনে ভাবে রাজাকার মতিন। এমন সময় চারিদিকে হাসির রোল উথল।মতিন ঘুরে সেদিকে এগিয়ে গেল ব্যাপারটা দেখার জন্য।কাউকে ঘিরে জটলা পাকিয়ে খান সেনারা হাসাহাসি করছে। মাঝখানে পরে বেচারা সেলিম এমন ভাবে ঠক ঠক করে কাপছে যে ঠিকমত দাঁড়াতে পারছে না।
"শালা ভীতুর ডিম একটা, খান সেনারা ধরেছে বলে কি লুঙ্গি ভিজিয়ে ফেলতে হবে" মনে মনে ভাবে মতিন।
মতিন জটলা থেকে দূরে সরে এল। সবসময় মোজাফফর স্যারের আশেপাশে থাকতে হবে আর স্যারকে খুশি রাখতে হবে।
এমন সময় দুজন খান সেনা কবিরকে ধরে নিয়ে এল। মতিন মনে মনে খুশি হল। শালা পাকিস্তানের নামে বহুত খারাপ খারাপ কথা বলে আর এর আগে নাকি লুকিয়ে মুজিবুরের ভাষণ শুনতে গিয়েছিল।
"স্যার এ্যা মুক্তি হ্যায়" কবিরকে দেখিয়ে মোজাফফর স্যারকে বলল মতিন।
কিন্তু কবিরের চোখে ভয়ের লেশমাত্র দেখতে পেলনা মতিন। কবির কেমন যেন নির্লিপ্ত চোখে চারদিক ঘুরেফিরে দেখছে। জুলেখার উপর চোখ পরা মাত্র কবিরের চোখে ভয়ের ছায়া দেখতে দেখতে পেল মতিন।
"ও এই ব্যাপার" মনে মনে ভাবল মতিন।
মতিনের মনে একটা শয়তানি বুদ্ধি খেলে গেল। সে এগিয়ে মোজাফফর স্যারের কানে কানে কিছু বলা মাত্র স্যার মুচকি হাসল। আসলেই ভাল বুদ্ধি।
"এ উল্লুকে পাঠ্যাকে ভি ইদার লেআও" সেলিমকে দেখিয়ে বলল মোজাফফর। আদেশ যথারীতি পালিত হল।
সেলিম আর কবিরকে সামনে রেখে জুলেখাকে বুকে টেনে নিল মোজাফফর। মুহূর্তে দৌড়ে আসার চেষ্টা করল কবির। সাথে সাথে অন্তত পনেরটা বুলেট কবিরকে দুহাঁটু ভেঙ্গে বসিয়ে দিল।
তারপর স্যার তার ইউনিফর্ম খুলে জুলেখার উপর ঝাপিয়ে পরলেন।
পরমুহুর্তে মোজাফফর স্যার তার পিঠে থুথুর স্পর্শ পেলেন। চমকে পিছনে তাকিয়ে তিনি দেখতে পেলেন সেলিমের ঠোঁটে থুথু লেগে আছে।
পরক্ষনেই মোজাফফর একটা সত্য আবিস্কার করলেন আর কেঁপে উঠলেন।
ভয়ে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গার্মেন্টসের ভিতরে লুকানো বাস্তবতা—যা আমরা কখনো দেখি না

লিখেছেন Sujon Mahmud, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৫২



সকাল ৬টা। ঘুম ভাঙার আগেই যেন জীবন তাকে টেনে তোলে। রহিমা চোখ খুলেই কিছুক্ষণ ছাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। মনে হয়—
আরেকটা দিন, আবার সেই একই লড়াই।

রহিমা একজন গার্মেন্টস কর্মী। বয়স মাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেই কথিত “তৌহিদী জনতা আজ কোথায়?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭

সেই কথিত “তৌহিদী জনতা আজ কোথায়?
--------------------------------------------
আজ বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে উত্তেজনা ইরান বিভিন্ন আরব রাষ্ট্র, ইসরায়েল,মার্কিন সংঘাত নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমাদের দেশের সেই কথিত “তৌহিদী জনতা”, যারা সামান্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২৫

Photo - আপলোড না হওয়ায় ইমেজ লিংক:

“দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা”

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সে সময় রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে গঠিত উপদেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইস্টার ফ্রাইডে এবং যিসাসের শেষ যাত্রা: জেরুজালেমের স্মৃতিবিজড়িত পথে

লিখেছেন সৈয়দ নাসের, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৪




দিলু নাসের
আমার এই তিনটি ছবির সঙ্গে পৃথিবীর খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বেদনাবিধুর ইস্টার ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। প্রতিটি ছবিই যেন এক একটি অধ্যায়, একটি যাত্রার, যা শুরু হয়েছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ঘটনা নয়, এগুলো আগে থেকেই তৈরি করা মৃত্যু

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:০৫

চারপাশ থেকে কালো ধোঁয়া ঘিরে ধরছে। দুই চোখ প্রচণ্ড জ্বলছে । সুন্দর করে সাজানো হলরুমের প্লাস্টিক, ফোম, সিনথেটিক সবকিছু পুড়ে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে বিষাক্ত গ্যাসে। ঘরের অক্সিজেন প্রতি সেকেন্ডে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×