somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাহসী হও বন্ধু: চার্লি চ্যাপলিন

০৯ ই অক্টোবর, ২০১৩ সকাল ৭:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চার্লিকে একবার একজন প্রশ্ন করেছিলেন- আপনার ছবির ছবির হাসি-কান্না দুটোরই সংমিশ্রণ থাকার কারণ কী?

চ্যাপলিন তখন বললেন, ‘আমাদের বাড়ির সামনে দিয়ে রোজ দলে দলে ভেড়া নিয়ে যায় কসাইখানায়। একদিন কেমন করে একটা ভেড়া দলছুট হয়ে রাস্তায় গিয়ে পড়ে। এই না দেখে হৈ চৈ। লোকজন দাঁড়িয়ে গেছে মজা দেখতে। ভেড়ার মালিকেরা চেষ্টা করছে ভেড়াটাকে ধরতে। কিন্তু কিছুতেই ভেড়া ধরা দেবে না। ছুটোছুটি। এই সব কান্ডকারখানা দেখে আমার খুব হাসি পাচ্ছিল। অবশেষে ভেড়া ধরা পড়লো। পড়তেই হবে। ভেড়া তো ভেড়াই। মানুষের চালাকি কি তার বোঝার ক্ষমতা আছে!! বোকা ভেড়াটাকে কাঁধে নিয়ে একজন কসাইখানার দিকে চলল। ভেড়ার পরিণতি ভেবে হঠাৎ আমার মনটা খারাপ হয়ে গেলো। তাই-তো! একটু আগে যে ভেড়ার ছুটোছুটি দেখে আমি হাসছিলাম, তার পরিণতি এখনই মৃত্যু। আর থাকতে পারলাম না। ছুটে ভেতরে গিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়লাম। মাকে বললাম, মাগো, ওমা ওরা ভেড়াটাকে মেরে ফেলবে।
তিনি একবার জীবন সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘জীবন মানেই দ্বন্দ্বের সমন্বয়। এটা শিখতে আমাকে বই পড়তে হয়নি।
চার্লির চলচ্চিত্র নিয়ে কাজ করেছেন প্রায় ৫০ বছরেরও অধিক। সে হিসেবে তাঁকে বলা হয় প্রকৃতির বরপুত্র। বাল্যকাল কেটেছে অত্যন্ত দরিদ্রতার মধ্যে দিয়ে। ফুটপাথে রাত কাটানো এমনকি পচা খাবার কুড়িয়েও খেতে হয়েছে চার্লিকে। বাল্যকালেই বুঝে গেছেন এই পৃথিবী বড় নিষ্ঠুর ও নির্মম। বাল্যকাল থেকেই জীবন যুদ্ধ শুরু করেছেন করেছেন বলেই চার্লি চ্যাপলিন হয়ে উঠেছেন। তিনি একবার জীবন সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘জীবন মানেই দ্বন্দ্বের সমন্বয়। এটা শিখতে আমাকে বই পড়তে হয়নি। ’
চার্লির ছবিগুলো আজও মানুষকে মুগ্ধ করে ফেলে। মানুষকে অনুপ্রেরণা জোগায়। তেমনই একটি ছবি ‘দি গ্রেট ডিকটেটর’। এটি চ্যাপলিনের সাতাত্তরতম ছবি। ছবিটি তিনি হিটলারকে নিয়ে বানিয়েছেন। এই ছবিটিতে চার্লির দেয়া একটি ভাষণ আছে। ছবিটি প্রদর্শিত হয় ১৯৪০ সালে। কিন্তু ছবির সেই ভাষণটি এখনও বর্তমানের প্রেক্ষিতের সাথে মিশে যায়।

ভাষণটি তাহলে পড়ে ফেলা যাক :

আমি দুঃখিত, আমি সম্রাট হতে চাই না। সম্রাট হওয়ার ব্যবসা আমার না। আমি শাসনও করতে চাই না। আমি দেশ দখলও করতে চাই না। আমি সবাইকে সাহায্য করতে চাই। সে ইহুদী-খ্রীষ্টান, সাদা-কালো যাই হোক না কেন। কিন্তু আমাদের লোভ আমাদের হৃদয়কে বিষাক্ত করে দিয়েছে, পৃথিবীটা ঘৃণায় ছেয়ে গেছে। আমরা যন্ত্রসভ্যতার অভিশাপ চাই না, আমরা চাই মানবিকতা। যন্ত্র আমাদের নির্মম ও কঠোর করে তুলেছে। আমরা অনেক কিছু ভাবি কিন্তু অনুভব করি কম।

অ্যারোপ্লেন কিংবা রেডিও বিশ্ববাসীকে কাছাকাছি এনে দিয়েছে, পৃথিবীকে ছোট করে দিয়েছে। এসব আবিষ্কারের মূল উদ্দেশ্য ছিল মানবকল্যাণ, বিশ্ব ভ্রাতৃত্ববোধ, সবার মধ্যে ঐক্যের বন্ধন। এসব আবিষ্কারের ফলেই এ মুহূর্তে আমার কণ্ঠও পৌঁছে যাচ্ছে সারা বিশ্বের লাখ লাখ নারী-পুরুষ, নিপীড়িত মানুষের কাছে। আমার কণ্ঠ যে শুনতে পাচ্ছে- তাকেই বলছি, হাল ছেড়ো না।

মানুষ মানুষে ঘৃণা একদিন দূর হবেই। স্বৈরাচারী শাসকদের মৃত্যু হবেই। জনগণের কাছ থেকে ওরা যে ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে সে ক্ষমতা একদিন আবার জনগণ ফেরত পাবে।

হে সৈনিক ভাইয়েরা, তোমরা ওই সব ক্ষমতালোভী শয়তানের ডাকে সাড়া দিও না। ওরা তোমাদের দাস করে রেখেছে, তোমাদের স্বাধীন চিন্তাকে নষ্ট করে তোমাদের বুদ্ধিহীন পশুতে পরিণত করছে। প্রিয় সৈনিকভাইয়েরা, দাসত্বের জন্য যুদ্ধ করো না, যুদ্ধ করো স্বাধীনতার জন্য। আসুন, আমরা গণতন্ত্রের নামে ঐক্যবদ্ধ হই। একটা সুন্দর সুস্থ পৃথিবীর জন্য আমরা একতাবদ্ধ হই। আর এই গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে স্বৈরাচারীরা মানুষকে মিথ্যা কথা বলে ক্ষমতা দখল করেছে। মনে রেখো স্বৈরাচারী শাসক সব সময় নিজেকে মুক্ত রেখে সবাইকে দাসে পরিণত করে। এসো, আমরা যুদ্ধ করি একটি নতুন পৃথিবীর জন্য। যেখানে বিজ্ঞান ও প্রগতি একসঙ্গে বন্ধুর মতো এগিয়ে যাবে এবং পৃথিবী সুখের স্বপ্নের দিকে অগ্রসর হবে।

মনে রেখো, মেঘ একসময় কেটে যায়, সূর্য আলো ছড়ায়। আমরাও তেমনই অন্ধকারের জাল ছিঁড়ে আলোর মুখোমুখি হব। আমরা এক নতুন পৃথিবী গড়ব। আমরা এমন এক সুন্দর উজ্জ্বল পৃথিবী গড়ব, যেখানে মানুষ তার লোভ, নিষ্ঠুরতাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাবে, ছাড়িয়ে যাবে নিজেকে। মানুষ উড়ে যাবে রংধনুর দিকে, আশার আলোর দিকে, উজ্জল ভবিষ্যতের দিকে। এমনই অসীম ক্ষমতাধর আত্মা বিরাজ করে তোমার, আমার, আমাদের সবার মাঝে। তাই হতাশ না হয়ে সাহসী হও বন্ধু।

সংগ্রহীত।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১



এবছর দেশে আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে।
আমড়ায় আছে প্রচুর ফাইবার যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এক কেজি আমড়া মাত্র ৫০ টাকা। এক কেজি আপেল ৩৫০ টাকা। মালটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×