somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একদিন ইলিশ পান্তা, দরিদ্রের প্রতি ভালবাসা নাকি বিদ্রুপ?

১৪ ই এপ্রিল, ২০১৪ রাত ৮:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একজন স্কুল শিক্ষিকা তার
ক্লাসে জিজ্ঞেস করলেন,
১লা বৈশাখে কে কে পান্তা ইলিশ
খাও? ক্লাসে দু’জন
ছাত্রীবাদে সবাই হাত
তুললো, এবং ঘোষণা করল
তারা ঐদিন পান্তা ইলিশ
খায়। শুধু তাই নয়
সাথে পোড়া মরিচ পিয়াজ ও
থাকে। তারা উচ্ছসিত
হয়ে আরো বলল, আম্মু
সকালে গরম ভাত
রান্না করে তাতে পানি ঢেলে দেন,
খেতে খুব মজা লাগে।
ভাত কেন পান্তা হয়?
কারা প্রতি ভোরে পান্তা খেতে বাধ্য
হয়? নতুন বছরের ১ম
দিনে যারা বাঙ্গালী সংস্কৃতি পালনের
নামে, পান্তা ইলিশের
নামে হৈ হুল্লোড় করে, লাল
সাদা পোশাকে উল্লাস করে;
তারা কি এ প্রশ্নগুলোর
উত্তর নিয়ে সামান্যতম
চিন্তা করে?
বর্তমান প্রজন্ম বছরের
১ম দিন পান্তা ভাতকে(ইলিশ
সহযোগে) আনন্দোপকরণ
মনে করে, গরম
ভাতে পানি ঢেলে কৃত্রিম
পান্তা বানিয়ে খায়। অথচ
যারা নিত্যদিন পান্তা খায়,
তারা কেন পান্তা খায়?
পান্তা তাদের খাদ্য
তালিকায় কিসের চিহ্ন বহন
করে? দুর্ভাগ্য! বর্তমান
প্রজন্মের কাছে দরিদ্রের
পান্তাকাহিনী অজ্ঞাতই
রয়ে যাবে! বুয়া খালা অনেক
দিন আমার বাসায়; প্রায়ই
সে বলে,“মারে! পান্তা ভাত
আর খিচুড়ি আমি একটুও
দেখতে পারিনা, অভাবের
সংসারে এসব
খেতে খেতে আর
ইচ্ছা করেনা।” আমার এক
আপনজনের কাছে শোনা,
গ্রামে এক বাড়ীতে এক
লজিং মাস্টার থাকেন।
সকালে নাস্তার সময় তার
বন্ধু উপস্থিত। বন্ধু
দেখে লজিং মাস্টার
পান্তা ভাত খাচ্ছেন,
তাতে পানির পরিমাণ এত
বেশী যে ভাত দেখা যাচ্ছেনা।
বন্ধু বলল-কি খাচ্ছ?
লজিং মাস্টার উত্তর
দিলেন, ডুব দিয়ে ভাত ধরছি।
পরবর্তীতে এই
লজিং মাস্টার
বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার হন
এবং সরকারী উচ্চপদস্থ
কর্মকর্তা হয়েছিলেন।
দারিদ্রতা পালিয়ে যায় তার
জীবন থেকে। যাই হোক,
লজিং মাস্টার পান্তা ভাতের
অথৈ পানিতে ডুব দিয়ে ভাত
ধরার চেষ্টা করলেও, কেউ
কেউ ক্ষুধার সাথে সংগ্রাম
করতে যেয়ে, শুধু পানিই খায়;
ভাত ধরার অবস্থাটুকুও
থাকেনা।
আমার প্রতিবেশীর
মেয়ে গল্পচ্ছলে বলল,
“আমাদের বাসায় এক
কাজের মেয়ে ছিল।
তাকে বলেছিলাম, ঘরে যখন
খাবার থাকেনা তখন
তোমরা কি খাও? ও
বলেছিল, ক্ষেত
থেকে কাঁচামরিচ
তুলে চিবিয়ে চাপকল
থেকে পেটভরে পানি খাই।”
ওদের কারো এক বেলা,
কারো আধ বেলা, কারো এক
বেলারও রান্নার সংস্থান
থাকেনা। যাদের কোন রকম
এক বেলার চাল-লাকড়ির
যোগাড় থাকে, তারা এক
বেলা গরম ভাত
খেয়ে উদ্বৃত্ত
ভাতে পানি ঢেলে দেয়,
পান্তা বানায়; সংরক্ষণের
জন্য, তীব্রগরমে নষ্টের
ভয়ে।
পরবর্তী ওয়াক্তে সেটা খেয়ে,
ক্ষুধা নিবৃত্তি করে।
কারো কারো হাড়িতে পুরুষ
ও শিশুদের ভাত দেওয়ার
পরে, পরিমাণে তেমন
থাকেনা তখন দরিদ্র
গৃহিনী তলানী ভাতটুকুর
সাথে বেশী করে ভাতের
পানিটুকু মিলিয়ে নেন। কোন
কোন অঞ্চলে পান্তার ঐ
পানিকে ‘আমানী’ বলে।
অল্পভাতের সাথে ‘আমানী’
চুমুক দিয়ে পেট ভরান তারা ।
এই যে দারিদ্যের
সাথে সংগ্রাম, বেঁচে থাকার
যুদ্ধ যাদের; তাদের নিত্য
ভোরের খাবার পান্তা। কৃষক
সূর্য উঠার
আগে মাঠে যাবেন কাজে;
কিষাণী বড় থালায় ভাত
বেড়ে দেন। সাথে পেয়াজ,
লবণ,
কাঁচা অথবা পোড়া মরিচ।
কৃষক কখনও খেয়ে যান,
কখনও গামলায় ভরে,
গামছায় বেঁধে সাথে নেন কাজ
এগিয়ে পড়ে খাবেন বলে।
পান্তা বাংলাদেশের দরিদ্র
জনগোষ্ঠীর, কিষাণ-
কিষাণীর নিত্য খাবার।
যারা এক দিন পান্তা খায়,
উল্লাস করে, ঐ একদিনই
তারা দরিদ্র কৃষকের কষ্টের
স্মৃতিটুকু মনে করে।
পান্তা শুধু শুধুু খেতে ভাল
লাগেনা বলে তার
সাথে আবার যুক্ত হয় ইলিশ
ভাজা বা ইলিশ রান্না। কেন?
বাঙ্গালী কৃষকের
প্রতিদিনের
পান্তা একদিনও তাদের
মুখে এমনি রোচেনা?
সাথে রকমারী ইলিশের
আয়োজন লাগে? একদিন
কৃষকের
প্রতি ভালবাসা প্রদর্শন,
তাও ইলিশ সহযোগে? কৃষক
কি সারা বছর ইলিশ
চোখে দ্যাখে?
এটা ওদের
প্রতি ভালবাসা নয়
বরং বিদ্রুপ আর কটাক্ষ!
কৃষক! তোমার
পান্তা একদিনও আমাদের
মুখে ভালো লাগেনা, তাই
পান্তার সাথে ইলিশ
নিয়ে তোমাকে স্মরণের
কোশেশ
করি বাঙ্গালী সংস্কৃতি হিসাবে।
উপরে উপরে ইলিশ
পান্তা খেয়ে, লাল
সাদা কাপড় পড়ে,
পহেলা বৈশাখ পালন করে,
বাঙ্গালী সংস্কৃতি ভালবাসায়
গদগদভাব! ঐ কৃষক
সারা বছর হাজার
টাকা কেজির ইলিশ চাখতেও
পারেনা, কেন? কেন ইলিশের
এত দুর্মূল্য? এই ক’বছর
আগেও যেখানে দরিদ্র ইলিশ
কেনার সামর্থ রাখতো, কেন
এখন পারছেনা?
উত্তরাঞ্চলে পানির
অভাবে ধানের
জমি ফেটে চৌচির
হয়ে যাচ্ছে।
জমি ফেটে চৌচির
হচ্ছে না কৃষকের হৃদয়
ফেটে চৌচির হচ্ছে? সেই
সাথে জীবন মরণ
বাড়তি কষ্ট যোগ হয়েছে,
সীমান্ত কৃষকের। বিএসএফ
যখন তখন
ধরে নিয়ে যাচ্ছে কৃষকের
হালের বলদ, অপহরণ
করছে কৃষককে, তার
সন্তানকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে,
কখনও চোখ তুলে নিয়ে লাশ
বানিয়ে ফেলে রাখছে।
ভারতীয় বি এস এফের
অত্যাচারে জর্জরিত
সীমান্ত কৃষক শ্রেণী। শুধু
তাই নয়, দরিদ্র জেলেরাও
ভারতীয় জেলেদের
অত্যাচারে অতিষ্ঠ।
বাংলাদেশের পানিসীমায়
ভারতীয় জেলেরা অনুপ্রবেশ
করে, লুট
করে নিয়ে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকার
মৎস্য সম্পদ। ইলিশের
অগ্নিমূল্যের এটাই কারণ।
আজ ৩০ শে চৈত্র। আমার
বাবু বাইরে হতে এসে বলছে,
আম্মু
এদিকে ছেলেপেলে ১লা বৈশাখ
উদযাপনের নামে ব্যস্ত,
অথচ মুখে হিন্দী গান,
রেকর্ডে বাজাচ্ছে হিন্দী গান
।
তাই, একদিন ইলিশ
পান্তা খেয়ে, লাল
সাদা কাপড় পড়ে,
হিন্দী গানে সয়লাব
হয়ে যাওয়ার নাম
বাঙ্গালী সংস্কৃতিকে ভালবাসা নয়।
দেশকে ভালবাসা ঈমানের
অঙ্গ। তাই সংস্কৃতির
নামে ‘লাল-সাদা’ কাদের
ষড়যন্ত্র এটা বুঝতে হবে;
তাদের আগ্রাসন
হতে দেশকে রক্ষার জন্য,
দেশের কৃষকসহ সবার
শান্তির জন্য। অকাট
মূখের্র মত পান্তা ইলিশ
খেয়ে বাঙ্গালী সংস্কৃতির
প্রতি ভালবাসা প্রকাশ নয়।
কৃষক চাষ কাজে কেন নায্য
পানি বঞ্চিত? পদ্মার চর
কেন ধুধু মরুভূমি?-বর্তমান
প্রজন্মের এসব প্রশ্নের
উত্তর
জানা থাকা প্রয়োজন। দেশ
ও জাতিকে সত্যিকার
ভালবাসলে, প্রত্যেক
দেশপ্রেমিক কে অন্যায়
আগ্রাসনের
প্রতিরোধে সোচ্চার
হতে হবে।
থাকতে হবে ঈমানের
বলে ঐক্যবদ্ধ। এটাই দেশ
ও জাতির প্রতি প্রকৃত
ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×