দেশের চিকিৎসকদের প্রায় সবাই শহরমুখী। অবস্থাদৃষ্টে বলা যায়, তারা চিকিৎসা সেবা নয় বরং অর্থকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। হাসপাতালের চেয়ে প্রাইভেট চেম্বারই তাদের কাছে বেশি প্রিয়। এক্ষেত্রে কর্মস্থলে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি হরহামেশাই শুনতে পাই যা আদৌ কাম্য নয়। এ প্রেক্ষিতে অরেকটি বিষয় হচ্ছে রোগীর প্রতি সহানুভূতিশীল ও সংবেদনশীল হওয়া। চিকিৎসকদের মাঝে এর অভাব প্রকট। চিকিৎসকদের কথায় ও চালচলনে রোগী আশ্বস্ত হবে এমনটি এদেশে সচারচার আশা করা যায় না।
অনেক ডাক্তার ক্লিনিক বা হাসপাতাল গড়ে তুলে দালাল চক্রের সহায়তায় ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে। একজন ডাক্তার ক্লিনিকের সঙ্গে যুক্ত থাকলে স্বাভাবিকভাবেই তিনি চাইবেন সেখানে রোগী সমাগম ঘটুক। রোগী ভেড়ানোর অনেক পদ্ধতি আছে, তিনি তখন তা প্রয়োগ করবেন। হাসপাতালে আসা রোগীকে তিনি বলবেন-- জানেন তো, এটা সরকারি হাসপাতাল এখানে আপনার সঠিক চিকিৎসা হবেনা। তার নিয়োগ করা দালালরাও একই কথা বলবে। এটা চিকিৎসা সুলভ কাজ নয়। যেসব ডাক্তার এসবে জড়িত, তারা এন্টি ডেমোক্রেটিক। চিকিৎসার বানিজ্যিকীকরণে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে ডাক্তাররা। ডাক্তাররা কোন ক্লিনিক বা হাসপাতালে রোগী পাঠালে নির্ধারিত অংকের কমিশন পান। আবার কোন প্যাথলজি বা ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে রোগী পাঠালে ১ হাজার টাকার মধ্যে একজন ডাক্তার প্রায় ৪০০ টাকা পান। ৬০০ টাকার মধ্যেই যদি সব টেষ্ট করা যায়, তাহলে রোগীর কাছ থেকে ৪০০ টাকা বেশি নিয়ে ডাক্তারদের দেয়া হচ্ছে কেন?
ডাক্তারদের ব্যাবসায়ী নীতির কারনে, এখন দেশের পয়সাওয়ালা বহু রোগী বিমানে চড়ে বিদেশের হাসপাতালে যাচ্ছেন। এতে দেশের শত শত কোটি টাকা বাইরে চলে যাচ্ছে। এমন হয়তো হতো না, যদি আমাদের দেশের ডাক্তারগণ একটু সেবায় মনোযোগী হতেন। একটু দেশপ্রেমিক হতেন একটু ধার্মিক হতেন। সব কিছুর পাও সুশাসন ছাড়া এসব সমাধান সম্ভব নয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



