somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্লেইডিয়ান স্টারসিড কারা?

০৬ ই নভেম্বর, ২০২৫ দুপুর ১:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



Pleiadian Starseed হলো সেই সকল সত্তা বা entity, যারা প্লেইডিস (Pleiades) নক্ষত্রমণ্ডলে থাকে এবং সেখান থেকে এই পৃথিবীতে এসেছে। ওদের উদ্দেশ্য আমাদের চেতনা ও ভালোবাসার শক্তি বৃদ্ধি করা, পৃথিবীকে আরো উচ্চস্তরে (higher dimension)-এ উন্নীত করা। তারা সাধারণ মানুষের মতো মানবাকৃতি রূপে আমাদের মধ্যে বিচরণ করে। চেহারার দিক দিয়ে নর্ডিক (Nordic) দের মতন বৈশিষ্ট্য সস্পন্ন হয়। যেমনঃ উজ্জ্বল ত্বক, ধূসর বা সোনালি চুল, নীল বা সবুজ চোখ এবং অনেক লম্বা।
তারা ধীরে ধীরে আমাদের সঙ্গে আরোও যোগাযোগ স্থাপন করবে। ২০২৭ সালে আনুষ্ঠানিক ভাবে আমাদের সামনে আবির্ভূত হবে।

বৈশিষ্ট্য ও মিশন ~
তারা স্পিরিচুয়াল এবং টেকনোলজিক্যাল খুবই উন্নত ও আধুনিক।
তাদের মিশন হলো মানুষের চেতনাকে আরো উন্নত স্তরে বিকশিত করা। মানুষকে “উচ্চ চেতনায় মানবে” (higher dimensional conscious being) -এ উন্নীত করা। এবং পৃথিবীর পরিবেশ, সমাজিক ব্যবস্থায় আরোও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। তারা প্রচন্ড টেলিপ্যাথিক। তাই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ সাধারণত হয় চ্যানেলিং বা টেলিপ্যাথির মাধ্যমে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে Pleiades (প্লেইডি)~
অবস্থানঃ Pleiades নক্ষত্রগুচ্ছটি Taurus (বৃষ ) নক্ষত্রমন্ডলে অবস্থিত। নীলাম্বরী কৃত্তিকা (Pleiades) গুচ্ছনক্ষত্র। আন্তর্জাতিকভাবে এর পরিচিতি Pleiades নামে। ঋগ্বেদের ঋষিরা চিনতেন অগ্নি (দিক) বলে আর সিদ্ধান্তজ্যোতিষ-এ এটি কৃত্তিকা নামে পরিচিত।
দূরত্বঃ পৃথিবী থেকে প্রায় ৪৪৪ আলোকবর্ষ দূরে।
রূপঃ এটি একটি Open Cluster Star System — মানে এমন একটি নক্ষত্রগুচ্ছ যেখানে অনেকগুলো নক্ষত্র একই অঞ্চলে জন্ম নেয় এবং একসাথে থাকে। তবে তারা খুব ঘনভাবে সাজানো থাকে না—অর্থাৎ গুচ্ছটি “উন্মুক্ত”।
বয়সঃ প্রায় ১০ কোটি বছর পুরনো, অর্থাৎ তুলনামূলকভাবে তরুণ নক্ষত্রগুচ্ছ।
কৃত্তিকার দেবতা অগ্নি।
ভগবান অগ্নি নিজেকে পুড়িয়ে খাবার, আলো, উত্তাপ সৃষ্টি করে অপরের সেবায় ব্যবহার হয়। কৃত্তিকা নক্ষত্র নেতিবাচকতাকে পুড়িয়ে দেয়, যা মিশ্রিত হয় তা শুদ্ধ করে, এবং যা এখনও পাকা হয়নি তা রান্না বা প্রস্তুত করে। এই নক্ষত্র যুদ্ধ, যুদ্ধ এবং বিবাদের নিয়ম করে।

ঋগ্বেদে অগ্নি
পুরো ঋগ্বেদ জুড়েই ছড়িয়ে রয়েছে অগ্নি নামধারী কৃত্তিকার প্রতি অজস্র প্রার্থনা। পৃথিবী থেকে খালি চোখে অগ্নিকুণ্ডলীর মত দেখায় তাই ঋষিদের মননে এ অগ্নি বহু নামে অভিহিত।

অগ্নির বিভিন্ন নাম
জাতবেদা (জীবনশক্তি বিদিত/জ্ঞাত), হুতাশন (যজ্ঞাহুতি ভক্ষক), বহ্নি (যজ্ঞের হবি বাহক), তনুনপাৎ (জীবদেহের উত্তাপরূপী অগ্নি), নরাশংস (মানব প্রশংসিত), দাবানল (বনের আগুন), শম্পাৎ (বিদ্যুতাগ্নি), বারবানল বা বড়বা (সমুদ্র-বারিতে প্রজ্বলিত অগ্নি), শমী (বনস্পতির দহন), জমদগ্নি (ক্রোধাগ্নি), চিত্রভানু (সূর্যরশ্মি)।

অগ্নিদেব - আগুনের দেবতা
অগ্নি হলো একটি সংস্কৃত শব্দ যার অর্থ হলো আগুন । তিনি দশদিকপাল দেবতার অন্যতম অগ্নিকোণস্থ দেবতা।
অগ্নি আগুনের দেবতা এবং যজ্ঞের গ্রহীতা। অগ্নিকে দেবতাদের বার্তাবহ মনে করা হয়। তাই হিন্দুরা বিশ্বাস করেন, যজ্ঞকালে অগ্নির উদ্দেশ্যে আহুতি প্রদান করলে সেই আহুতি দেবতাদের কাছে পৌঁছে যায়।
অগ্নি চিরতরুণ, কারণ আগুন প্রতিদিন নতুন করে জ্বালানো হয় এবং তিনি অমর। তার দুই বা তিনটি মুখ। তার চার হাত। তার অস্ত্রের নাম আগ্নেয়াস্ত্র।

পৌরাণিক বর্ণনা
মার্কণ্ডেয় পুরাণে বলা হয়েছে: "হে পাবক, তোমার দ্বারাই সব কিছু সৃষ্ট হয়, তোমার দ্বারাই বর্ধিত হয়, তোমাতেই সকলের উদ্ভব, অন্তকালে তোমাতেই লীন হয়"।
অগ্নি শুধুমাত্র আগুনের দেবতা নন। তিনি পবিত্রতা, শুদ্ধিকরণ –এর দেবতা। অগ্নি যজ্ঞের মাধ্যমে দেবতা ও মানুষের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী হিসেবে বৈদিক ধর্মে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করেন।

আধ্যাত্মিক দৃষ্টিতে ~
প্লেইডিয়ান - দের সভ্যতা একটি উচ্চ ডাইমেনশানের সভ্যতা। তারা শান্তি প্রিয় ও আধ্যাত্মিক ভাবে এগুনো এক জাতি। যারা (ধারণা করা হয়) 5D (fifth dimension)এ বসবাস করে। আমরা যেমন third dimension (3D)-এ বসবাস করি; এ মহাবিশ্বের সবচেয়ে lowest dimension - এ। তারা সবসময়ই পৃথিবীর মানুষের সঙ্গে টেলিপ্যাথিক শক্তির মাধ্যমে যোগাযোগ রাখেন। যারা আধ্যাত্ম সাধনা করেন তারা তাদের উপস্থিতি অনুভব করেন তাদের সাথে কথা বলেন।

“Starseed” এর ধারণা অনুসারে, কিছু আত্মা Pleiades থেকে এসেছে এই পৃথিবীতে মানুষরূপে — যাদের Pleiadian Starseeds বলা হয়। তাদের মাঝে অনেকেই বলেন, এই পৃথিবী তাদের "আসল বাড়ি" মনে হয় না । তারা যেন “ভিন্ন জায়গা থেকে এসেছে, অন্য কোন নক্ষত্র থেকে”। তারা একাকিত্ব বা গভীর হোম-সিকনেসে ভুগে। (এখানে “home” মানে তাদের মূল তারকামণ্ডল যেখান থেকে তাদের সত্তার উৎপত্তি)।
তাদের মাঝে উচ্চ সংবেদনশীলতা অনুভূত হয়। যেমনঃ
• আলো, শব্দ বা বিশৃঙ্খল পরিবেশে তাদের অস্বস্তি হয়।
• তারা সহজে ক্লান্ত হয়ে পড়েন যখন আশেপাশে নেতিবাচক শক্তি থাকে। তারা নিজের চারপাশে শান্ত ও সুষম পরিবেশ রাখতে ভালোবাসেন।

তাদের মাঝে সৃজনশীল ও শিল্পপ্রবণতা দেখা যায়।
• তারা সঙ্গীত, আঁকা, লেখালেখি, নৃত্য বা যে কোনো সৃজনশীলতার মাধ্যমে আবেগ প্রকাশ করেন।
• তারা শিল্পের মাধ্যমে শিল্পী সত্তাকে প্রস্ফুটিত করে মানুষের হৃদয়ে তাদের শৈল্পিক স্পর্শ আনতে চান।

তাদের পৃথিবীর প্রতি গভীর ভালোবাসা থাকে।
• পরিবেশ সংরক্ষণ, টেকসই জীবনযাপন, প্রাণীর অধিকার এবং প্রকৃতির সঙ্গে সাদৃশ্য বজায় রাখার বিষয়গুলো তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
• তাঁরা প্রায়ই “Healers of Earth” হিসেবে বিবেচিত।

তারা উচ্চতর অন্তর্দৃষ্টি (Intuition) -র অধিকারী হয়।
• অনেকেই বলেন, তাদের অন্তরজ্ঞান এবং ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় ‘sixth sense’ খুবই প্রখর হয়।
• তারা ভবিষ্যৎ অনুমান, স্বপ্নে পাওয়া বার্তা , মানুষের Aura অনুভব করার মতো শক্তির অধিকারী হয়।

তাদের সম্পর্ক ও জীবনধারা উচ্চমানের হয়। যেমনঃ
• তারা সম্পর্কগুলোতে গভীর ভালোবাসা ও সংযোগ চান। তবে প্রায়ই আঘাত পান কারণ সবাই তাদের মতো গভীরভাবে আত্মাকে অনুভব করে না।
• প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এমন স্থানে সময় কাটাতে তারা ভালোবাসেন। বন জংগল, নদী, পাহাড়, ঝর্ণা তাদের মানসিক ভারসাম্য পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে।

পৌরাণিক মতে (Greek Mythology)
“Pleiades” নামটি এসেছে গ্রিক পুরাণ থেকে।
তারা ছিলেন টাইটান Atlas ও Oceanid Pleione-এর সাত কন্যা:
Maia
Electra
Taygete
Alcyone
Celaeno
Sterope
Merope
এই সাত কন্যাকে দেবতারা আকাশে তারারূপে স্থান দেন, যাতে তারা নিরাপদ থাকে। এই প্রতিটি নক্ষত্রই এক একটি সত্তা। কোন মাটির গোলক নয়, আগুনের পিন্ড রূপে প্রতীয়মান হলেও সম্পূর্ণ জাগ্রত সত্তা। বোধহীন ও প্রানহীন বস্তু নয় ।

সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ দুপুর ২:২৯
১৭টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'বাবু': একটি শব্দের উদ্ভব ও এগিয়ে চলা

লিখেছেন আবু সিদ, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:০৮

'বাবু' আমাদের প্রতিদিনকার জীবনে বহুল ব্যবহৃত একটি শব্দ। কয়েক শ' বছর আগেও শব্দটি ছিল। বাংলা ভাষাভাষীরা সেটা ব্যবহারও করতেন; তবে তা ভিন্ন অর্থে। 'বাবু' শব্দের উৎপত্তি ও বিবর্তনের ধাপগুলো এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কেমন হবে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



সামনের গণভোট ঘিরে অনেক অপপ্রচার চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাঁচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কি রকম হবে? নির্বাচন কমিশনের ওয়েসবাইট থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে, গণভোটের ব্যালটটি উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহতারাম গোলাম আযমই প্রথম We Revolt বলেছিলেন !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৫৮


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। দলটির দাবি, অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ্‌কে কীভাবে দেখা যায়?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

যে কোন কিছু দেখতে হলে, তিনটি জিনিসের সমন্বয় লাগে। সেই জিনিসগুলো হচ্ছে - মন, চোখ এবং পরিবেশ। এই তিন জিনিসের কোন একটি অকেজো হয়ে গেলে, আমরা দেখতে পারি না। চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শতরুপা

লিখেছেন মোঃ ফরিদুল ইসলাম, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২

তুমি কি কোন স্বপ্ন রাজ্যের পরী?
কিভাবে উড়ো নির্মল বাতাসে?
ঢেড়স ফুলের মতো আখি মেলো-
কন্ঠে মিষ্টি ঝড়াও অহরহ,
কি অপরুপ মেঘকালো চুল!
কেন ছুঁয়ে যাও শ্রীহীন আমাকে?
ভেবে যাই, ভেবে যাই, ভেবে যাই।
তুমি কি কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×