somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মল্লিকা আন্টির খপ্পরে

১৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সুমনা সেই ছোট্টবেলা থেকে চেনে তার মল্লিকা আন্টিকে। একটু ছোটখাটো ধাঁচের চাইনিজ চেহারার, অত্যাধুনিক সোসাইটি গার্ল বলেও পরিচিতি আছে তার সমাজে। ববকাট চুল, আপ্যায়নে পারদর্শী, স্বাদের রান্না তৈরি করে বন্ধু মহলের রাঁধুনি হিসেবেও মল্লিকা আন্টির যথেষ্ট নাম। সেই আট বছর বয়সে সুমনা শুধু দেখেছে মল্লিকা আন্টি বাড়িতে দর্জি রেখে জামা সেলাইয়ের অর্ডার নিচ্ছেন। তার তৈরিকৃত ডিজাইনে চারিদিকে প্রশংসার ঝড় বইছে। তখন তো আর বুটিক শিল্পের এত উন্নতি ছিল না সেই ১৯৭৯ সালের কথা। তার নির্দেশিত কাজ দেখার জন্য সুমনার আম্মা একদিন মল্লিকা আন্টির বাড়ি গেলেন। কত কথা তাদের। কথার ফুলঝুরি। যেমন স্মার্ট মহিলা, তেমনি কথার মালা গেঁথে মানুষের মন মাতিয়ে রাখতে পারেন। কিন্তু সুমনার যেন কিছুতেই মন ওঠে না । ওই ছোট্ট বয়সেই আন্টিকে যত দেখে তত তার কেমন জানি অস্বস্তি বোধ হয়। মনে হয় আন্টি যেন ওই মেয়েগুলোর মতন। কোন মেয়েগুলো?
বুঝেও বুঝে উঠতে পারে না সে নিজে, সেই আট বছর বয়সে। কিন্তু তার মন কথা বলে ওঠে। মন তাকে জানিয়ে দেয় মল্লিকা আন্টি ঠিক ঐ মহিলাগুলোর মতন যারা খারাপ কাজ করে বেড়ায়। কিন্তু খারাপ কাজটা কি তা আবার সুমনা নিজেই বুঝে উঠতে পারে না। তবুও তার মন যে এই কথাই বলে। আন্টিদের হাঁটু পর্যন্ত লম্বা তখন। ঐ বয়সে মাথা উঁচু করে তাকাতে হয় আন্টির দিকে।
সে তাকায়।
কথা বলার ধরণ দেখে অবাক হয়। বাবা গো! কি স্পিডে যে কথা বলে যেতে পারেন এই মহিলা। একদম অনর্গল। কটকটি বেগমও বলা যেতে পারে ওনাকে।
স্বামীটা তার সারাদিন অফিসে থাকে। তাকে সময় দেয় না বলে অভিযোগ আছে। আন্টির স্বামীর জাওয়ানি ভাবটায় এখন একটু ভাটা পড়েছে। কিন্তু মল্লিকা আন্টি ? তিনি তো একদমই ইয়াং। তিনি অভিযোগ করেন পাশের বাড়ির আনিসা আন্টিকে। আনিসা আন্টির স্বামী আবার প্রচন্ড রকমের জওয়ানি ভাব সম্পন্ন। সেই তুলনায় আবার আনিসা আন্টি বুড়িয়ে গেছেন। আসলে আনিসা আন্টি অনেক বয়স্ক, আঙ্কেলের তুলনায়। আনিস আন্টির স্বামীর জাওয়ানি ভাবটা দেখে মল্লিকা আন্টি বলে বেড়ায়, আনিসার স্বামী কার কার সাথে শোয়? মানে ইনডাইরেক্টলি বলতে চায় যে, তার সাথে কেন শোয় না? মল্লিকা আন্টির সাথে অসুবিধাটা কোথায়? তার - কি কমতি আছে? ইনজেকশন নিয়ে ইদানিং সে আরো জোয়ান হয়েছে। বিভিন্ন ধরণের ইনজেকশন নেয়। একটা হাঁটুতে নেয়, একটা কাঁধে নেয়, একটা গলায় নেয়। আরো কত ধরণের কত কিছু! জন্মগত ভাবে পাহাড়ি অঞ্চলের চিনাদের রক্ত আছে তার শরীরে। তাই চামড়া এই বয়সেও অনেক মসৃণ। তাছাড়া আলু, পটল, ঘি, মাখন, তেলের বীজ নাকি, বীজের তেল কিসব যেন সারাদিন মাখে। এতে তার কাস্টমাররাও তো খুশি হয়। একদম পার্লার খোলার মত করে ব্যবসা করে -তা নয়। তবে নারী সাপ্লাই -এর কাজ করতে করতে ঘটকালিটা রপ্ত করে ফেলেছে।


সুমনার জন্যও পাত্র ঠিক করে ফেলেছে। সুমনাদের পছন্দ না এতে। কিন্তু কি হয়েছে? সুমনাদের পক্ষ থেকে তো টাকা চাইতেও পারে না। কিন্তু ছেলেপক্ষ বলেছে লক্ষ টাকা দেবে যদি এই বিয়েটা ঘটিয়ে দেয়। তাই মল্লিকা আন্টির আজকাল বেশি বেশি ফোন আসে সুমনাদের বাসায়। সেই ছোট্ট বেলায় দেখা মল্লিকা আন্টিকে সে সব সময় অশুভ মনে করে। আজও তার অশুভই মনে হয়। কিন্তু অশিক্ষিত মহিলার হাই সোসাইটিতে স্মার্টভাবে চলা দেখে অবাকও হয়। কি যে এক যন্ত্রণা শুরু হয়েছে। সুমনাকে জোর করে আবিদুরের সাথে বিয়ে দিয়েই ছাড়বে।
তাই তার বাড়িতেই পাত্র দেখার আয়োজন করে ফেলল ঝটপট। পাত্রপক্ষ বলে তার ৪২ বছরের চেনা। সুমনা যথারীতি ড্রইয়ং রুমে অতিথিদের সামনে বসল আর প্রমাদ গুনতে থাকল। এই বুঝি পাত্রের বড় বোন অম্বা তাকে সাধারণ জ্ঞানের বই থেকে রাজধানীর নাম না ধরে বসে। ধরলে তো নিশ্চিত পারবে না। সাধারণ জ্ঞান যে কিছুই নেই তার জানা। পাত্রের উল্টো দিকে মুখোমুখি বসে পাত্রকে এক নজর দেখে প্রথমেই সুমনার মনে হলো, ছেলেটা যেন ভচকানো টাইপের। এই তাহলে সেই ছেলে? এত বিরক্তি লেগেছিল প্রথম দেখায়। খাবার টেবিলে গিয়েও সামনা সামনি বসে খেয়াল করল, ছেলেটি খাবার যেন তার মুখে নিজে নিজে পুরতে পারছে না। বা, মুখে পুরতে যেন তার কষ্ট হচ্ছে। পাত্রের জ-লাইনে সমস্যা আছে মনে হয়। মানে জন্মগত ভাবে যে পাত্রের চোয়াল বাঁকা তা তো সুমনার জানার কথা নয়। অথবা পাত্র বোধহয় খুব লাজুক। লজ্জার ঠ্যালায় খাবার মুখে তুলতে পারছে না। আর কটকটি বেগম এই লাজুক লতার মাঝেই বোধহয় তার জন্য একটা 'ভালো' ছেলে খুঁজে পেয়েছেন। সুমনার জন্য ভালো পাত্র তিনি এনে দিয়েছেন। পাত্র দেখা শেষে বিমর্ষ চিত্তে বাড়ি ফেরার পথে সুমনাদের গাড়ির চাকা পাংচার হয়ে গেল।
ভ্যোম পটাশ্‌।
এতগুলো বিরক্তিকর ঘটনার পর মেয়েপক্ষ যখন পিছিয়ে গেল, মল্লিকা বেগমের তো মাথা খারাপ হবার জোগাড়। পাত্রপক্ষের দেয়া অগ্রিম এতগুলো টাকা ফেরত দিতে হবে? কিছুতেই না। তাই জোর জবরদস্তি করে সুমনার সাথে বিয়ের ঘটনাটা মল্লিক আন্টি ঘটিয়েই ফেলল। সুমনা পড়ল মল্লিক আন্টির খপ্পরে। সেই ছোটবেলা থেকে এই শয়তান টাইপের, জানোয়ার সুলভ মল্লিকা বেগমের হাত থেকে তার শেষ রক্ষা হলো না।


সেই ২০ বছরের সুমনা কি তার থেকে তিন গুণ বয়সী, দুনিয়া ভেজে খাওয়া মল্লিক আন্টির সাথে পেরে উঠবে? সুমনার বাবা মা -ই তো পারলো না। মল্লিক বেগম যে অপ্রতিরুদ্ধ। স্মার্ট। সোসাইটি গার্ল।
কিন্তু মল্লিক আন্টির উৎসাহ মিইয়ে গেল টাকা লেনদেন শেষ হয়ে গেলে। পরে ধুরন্ধর শ্বশুর তার চতুরতা দিয়ে শুরু করল সুমনার স্বামীর জায়গাটা দখল করতে। মানে শ্বশুর তার ছেলের জায়গা নেবে। সুমনা তার ছেলের বউ হবে না। এখন যেন তারই বউ হয়ে যাবে। টাকা দিয়ে কেনা না ? হাবাগোবা কুমড়ো পটাশ ছেলে যদি না পারে, সে নিজেই ছেলের বউয়ের উপর চড়ে বসবে। এক রাতেই বাচ্চা এনে দেবে পেটে। তখন আর এই মেয়ে যায় কোথায়?
হ্যা, শ্বশুরের যুক্তি আছে বটে। শ্বশুর মহাশয় ছেলের পাগল ভাব ঢাকবার জন্য বাড়িতে শুরু করল হম্বিতম্বি।
প্রথম শর্ত।
বিয়ে হয়েছে যেহেতু, বউ এবার তার বাড়ির মেয়ে। বাপের বাড়ি কখনোই যেতে পারবে না। আর ল্যান্ডফোনের সেই জামানায় কথা বলতে চাইলেও মেয়েকে তার ঘরে রাখা ফোনে কথা বলতে হবে, তার সামনে বসে। তখন যদি শ্বশুর ঘরের দরজা বন্ধও করে দেয়, কারোর কি কিছু বলার আছে? ছেলে তো অবুঝ আট বছরের শিশুর মতন। বিশাল ঘুষ দিয়ে তাকে বিদেশী কম্পানিতে চেয়ার টেবিল জোগাড় করে দিয়েছে তার বাবা। ছেলে ওখানে যেয়ে সকালে বসে থাকে। খাবারের সময় টিফিন বক্স খুলে খাবার মুখে পুরতে যখন পারে না, তখন খাবারগুলো মুখ থেকে পড়ে টেবিলে রাখা অফিসের দরকারি কাগজপত্রে দাগ মাখিয়ে একাকার করে ফেলে। অফিসে তার আরো কত কীর্তি! পিয়নরা তার প্রাণের বন্ধু, তার কাছের মানুষ। তার সম পর্যায়ের কেউ তার বন্ধু নয়। ঠাট্টা মশকরা পিয়নরাই করে। তারা বলে, 'আবিদুর ভাই, নিয়ে যান এই গিফট্‌ বাড়িতে। ভাবীর জন্য পেটিকোট বানিয়ে দিবেন।' পিয়নরা যখন সুমনার পেটিকোট নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে ঠাট্টা করে,আবিদুরের খারাপ লাগে না । আবিদুরের মনটা খুবই সহজ সরল। পিয়ন, দারোয়ানরা তার সাথে খুবই ভালো, শুধু কর্মকর্তা গোছের লোকগুলো খ্যাক খ্যাক করে।
কেন সে কাজ পারে না, কেন সে এত অবুঝ, এসব দেখেও বড়কর্তারা মুখ বুজে তাকে সহ্য করতে বাধ্য হয়। কারণ কি?
কারণ,রড়কর্তারা তার বাবার কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়েছে না ? শর্ত একটাই। একটা চেয়ার আর একটা টেবিল। অফিস শুরুর সময় আসবে, অফিস শেষ হলে চলে যাবে।


অফিসে ইতিহাস করে প্রতিদিন বাসায় এসে আবিদুর গাল ফুলিয়ে হপ্‌ করে বসে থাকে।
কেন?
কারণ সে অফিসে বকা খেয়েছে। বস্‌ তাকে বকা দিয়েছে। এসব ঢাকা দিতে শ্বশুর গজগজ করতে করতে বাড়ি মাথায় করে। সুমনা ছিমছাম এক জীবন থেকে হঠাৎ এমন একটি জ্বলন্ত উনুনে এসে যখন পড়েছে তখন তার পরিবার এক পর্যায়ে হতাশ হয়ে, বাধ্য হলো মল্লিকা বিবির শরণাপন্ন হতে। আফটার -অল মল্লিক আন্টি তো এই বিয়ের ঘট্‌কি ছিল। আবিদুরের পাগল পাগল স্বভাব আর তার বাবার এবনরমাল আচরণ, অস্বাভাবিক ব্যবহার, সাইকোপ্যাথিক অ্যাটিচিউড সবকিছু জানালো তাকে। সব শুনে সাথে সাথে মল্লিকা আন্টির উত্তর,'এখন বিয়ে হয়ে গেছে। She should take control over the situation of her own.'
ওরে বাবা!
কি সহজ সমাধান! ৪২ বছর ধরে তোমার চেনা পরিবারের একমাত্র ছেলে যে পাগল তা কিভাবে না জেনে থাকো গো তুমি?
তারপরও অবশেষে একদিন সুমনার পরিবারের কথা শুনে,তথ্য গোপন করার ভিত্তিতে হোক অথবা না হোক, টাকা পয়সা খাওয়ার পর্ব শেষ হয়ে গেলেও মল্লিকা আন্টি ওরফে কটকটি বেগম, কটকট করতে করতে তার সেই স্বভাবগত ভাব নিয়ে হাজির হলেন সুমনার শ্বশুর বাড়িতে। তার শ্বশুর শাশুড়ির সাথে দেখা করতে এলে সুমনা এসে বসলো তাদের সামনে। সুমনার এই প্রথম চোখে পড়লো এক অদ্ভুত ব্যাপার। হম্বিতম্বিবাজ শ্বশুর, যে কিনা বাড়িতে মানসিক প্রতিবন্ধী স্ত্রী ও ছেলেকে সারাদিন ধমকা ধমকির উপর রাখে, সেই লোকটি মল্লিকা বেগমের সামনে খুব নরম সুরে তার স্ত্রীর সাথে আলাপ শুরু করেছে। তার বোকাসোকা স্ত্রীখানাও যেন হঠাৎ করে চালাক হয়ে গেছে। স্বামীর সুর ধরতে পেরেছে নিমিষেই। সে ও একই সুরে আলাপ চালাচ্ছে তার স্বামীর সাথে। আহ্‌ লোক দাখানো সে কি মহব্বত দু'জনার। একেই বলেই ড্রইং রুম বিহেভিয়্যার। এই ভণিতা শুধু ড্রইয়ং রুমের জন্যই সংরক্ষিত। তার বাইরে নয়। তার বাইরে রয়েছে তাদের ভয়াল বীভৎস রূপ যা জানতে হলে তাদের সাথে থাকতে হবে দিনের পর দিন। তবুও সুমনা মল্লিকা বিবির সামনে তাদের কিঞ্চিত উষ্মা লক্ষ্য করল। তার কারণ হলো, লেনদেন তো শেষ হয়ে গেছে, আবার তোমার এখানে কি মল্লিকা বিবি? কিছুক্ষণ বাতচিৎ করে আলাপ চারিতা শেষ করে মল্লিকা বিবি ফিরে গেলেন বাড়িতে । তারা বুঝিইয়ে দিলেন লেনদেন শেষ, এবার বাড়ি ফিরে যাও।


প্রতারক শ্বশুর আগে কয়টা খুন খারাবি করেছে সুমনা তো জানেনা। ৭১ -এ বলে অনেক মানুষও মেরেছে। এবার ২৫ বছর পর আরেকটা না হয় মারবে। সুমনাকে এবার টার্গেট। কেউ টের পাবে না। খাবারে আর্সেনিক মেশালে সাধারণ জ্বর, পেট খারাপ হয় । ডাক্তার শ্বশুর সেগুলো জানে। সুতরাং ঐ আর্সেনিক মেশানো খাবার যদি সুমনাকে খাওয়াতে পারে, তাহলে তো শরীর খারাপের ঠ্যালায় মেয়েটি পটল তুললে, কেউ জানবেও না কিভাবে সে মরল ।
কিন্তু ঘরের ধোয়া পাতলার সব কাজ সুমনাকে একাই করতে হয়। তার প্রতিবন্ধী স্বামী অতিরিক্ত কাপড় নোংরা করে। কাজের লোকেরা সেসব নোংরা কাপড় ধুতে চায় না। সেগুলো ধোয়ার কাজও সুমনার । কিন্তু আর্সেনিক খাওয়ানোর ফলে সুমনার হাতে এখন সাবান পানি লাগানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। হাতের চামড়া খুলে এসেছে মাংসপেশী থেকে। সুমনা ডাক্তারের শরণাপন্ন হলে তারা বললেন, 'মনে হয় আর্সেনিক পয়জনিং। এ তো কেস প্রেজেন্টেশান করার মতো।' অতএব সুমনার এখন জীবন সংশয়। কোন রকমে শ্বশুরের আঙ্গুল গলিয়ে, তার প্রাণটুকু নিয়ে, সে বেরিয়ে এলো সেদিন ঐ বাড়ি থেকে ।
কিন্তু মল্লিক আন্টি নাখোশ। শ্বশুর বাড়িতে থাকতে পারবে না কেন? এ কেমন কথা? এখন সবই তো, তারই হাতের মুঠোয়।
সে কেন পারবে না?
কেন?
শ্বশুরবাড়িকে সে কন্ট্রোল করবে। এতে অসুবিধা কোথায়?'


তারও অনেকদিন পরের কথা। সুমনা কিছুটা সুস্থ এখন। এক বিয়ের অনুষ্ঠানে মল্লিকা আন্টির সাথে দেখা হয়েছে তার। সে তো আর জানে না যে, জানোয়ার প্রকৃতিরই এই জীবটি এখন কেন এত খাপ্পা তার উপর! কিভাবে জানবে? মল্লিকা বেগমের মন সে কিভাবে পড়বে? তাই সেই বিয়ের আসরে, যখন দুজনেই বউ দেখতে গিয়ে একসাথে, সুমনা যতই তাকে আন্টি বলে ডাকে, আন্টি তো আর শুনে না। মল্লিকা বেগম বউকে দেখতে পেলেও সুমনাকে আর দেখতে পায় না। কারণ সুমনার শ্বশুরের সাথে যে তার লেনদেন শেষ। সুতরাং সুমনাদের সাথেও তার লেনদেন শেষ। কিন্তু সেই লেনদেন তো ছিল পাত্র পক্ষদের সাথে। মেয়ে পক্ষদের সাথে নয়। তাহলে চিনতে পারছে না কেন?
মেয়ে পক্ষর সাথে কি আদৌ লেনদেন হয়েছিল? নাকি সুমনার অজান্তেই মল্লিকা আন্টি, লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে তাকে বেচে দিয়েছে অনেক আগেই। পেয়েছে কারি কারি টাকা। সেই টাকা দিয়ে হংকং, সিঙ্গাপুর শপিং করে এসেছে হয়তোবা।
সুতরাং সুমনা পর্ব শেষ।
এবার ধরবে সে কোন নতুন একটা শিকার। মল্লিকা আন্টির খপ্পর থেকে কারোরই যে রেহাই নেই।
........

লেখার শুরু ২৬/১০/২০২৫
লেখার শেষ ১৬/০৪/২০২৬

অন্যান্য লেখাঃ
স্টিকি ওরফে কাঠি বেগম
কাঠির কোপ
অম্বা যখন ননাস
আঁচিল
বিয়ে বাড়ির তত্ত্ব
বাবা ছেলের এক রা...
ঝড়ে বক মরে  
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৪:৫৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজ্ঞানীরাও একেশ্বরবাদী হতে পারেন - আইজ্যাক নিউটন তা প্রমাণ করে গিয়েছেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:৪০



প্রত্যেক মহান বিজ্ঞানীই নিজের জীবনে ধর্ম নিয়ে গবেষনা করে গিয়েছেন। এমনটাই আমার বিশ্বাস ছিলো। সামুতে আমি এই নিয়ে আগেও লিখেছি। তারপরও, কয়েক দিন স্টাডি করার পরে বুঝতে পারলাম-... ...বাকিটুকু পড়ুন

মত প্রকাশের স্বাধীনতা

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৮



আমাদের দেশের সাধারণ ও অসাধারণ জনগণ সহ সকল প্রকার সংবাদ মাধ্যম “মত প্রকাশের স্বাধীনতা”র জন্য প্রায় যুদ্ধ করছেন। মত প্রকাশের সামান্য নমুনাচিত্র হিসেবে একটি সংবাদের ভিডিও চিত্র তুলে ধরছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের "ইসলামী" বই - নমুনা ! আলেমদের দায়িত্ব

লিখেছেন ঢাকার লোক, ১০ ই মে, ২০২৬ সকাল ৮:৪৭

আমাদের দেশের বিখ্যাত চরমোনাইয়ের প্রাক্তন পীর সাহেব, মাওলানা ইসহাক, যিনি বর্তমান পীর রেজাউল করিম সাহেবের দাদা, এর লেখা একটা বই , "ভেদে মারেফাত বা ইয়াদে খোদা"। এ বইটার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম কর্ম

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১০ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:১৩



আপনার দিনের পর দিন ধর্মীয় লেখা পোস্ট করার কারণে -
হয়তো, আপনার কম্পিউটারটি স্বর্গে যেতে পারে।
কিন্তু, আপনার নিজে স্বর্গে যেতে হলে -
আপনার নিজের ধর্ম কর্ম করতে হবে।


ঠাকুরমাহমুদ
ঢাকা, বাংলাদেশ



...বাকিটুকু পড়ুন

×