“ভারতীয় উপমহাদেশকে শক্ত হাতে দীর্ঘস্থায়ী শাসন করতে হলে এখানে এমন একটি মধ্যবিত্ত উচ্চশিক্ষিত সম্প্রদায় গড়ে তুলতে হবে, যারা হবে রক্ত-মাংসে খাঁটি বাঙালি কিন্তু চিন্তা-চেতনায় সম্পূর্ণ ব্রিটিশ। “
উপরোক্ত বক্তব্যটি আমার নয়, ১৮৩৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে লর্ড বেন্টিংকের সময়ে এই উপমহাদেশে সামরিক সচিব হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত থমাস বেবিংটন ম্যাকলের
আজকে যখন এদেশের বুদ্ধিজীবী শ্রেণী বছরের ছয়মাস ইংল্যান্ডে, আমেরিকায় কিংবা কানাডার মত উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে অতিবাহিত করেন আরামে আয়েসে আর বাকি ছয়মাস হতভাগ্য বাংলাদেশে বাস করেন এবং একের পর এক এদেশের সমাজকে ব্রিটিশ সমাজের আদলে কিংবা পশ্চিমা বিশ্বের তথাকথিত বেহায়া সংস্কৃতির আদলে গড়ে তোলার প্রবল বাসনা ব্যক্ত করেন। আমার গ্রামের নিরীহ,নিষ্পেষিত সরল মানুষগুলোর কথা একটিবারের জন্য না ভেবে যখন হোমো সেক্সুলিয়াটিকে এদেশে বৈধতা দেয়ার পাঁয়তারা করেন।যখন তাঁরা এদেশের সবচেয়ে প্রেস্টিজিয়াস জব বিসিএস ক্যাডার সার্ভিসকে থোড়াই কেয়ার করেন কিংবা জঙ্গিবাদকে পরোক্ষভাবে উসকে দেয়ার তালে ব্যস্ত থাকেন তখন আমার মনে হয় ম্যাকলে সাহেব সফল হয়েছেন।
ম্যাকলে সাহেব আমার সমাজ,সংস্কৃতিকে ধ্বংস করার জন্য আপনাকে ঘৃনাভরা একরাশ অভিনন্দন। তবে আপনি সফল, আপনি পেরেছেন আপনার সেই কাঙ্ক্ষিত দালাল চক্র সৃষ্টি করতে।
আজকে যাঁরা এইসব দালালি করছেন তাঁদের সামাজিক মর্যাদা হয়ত আকাশচুম্বী আমরা তাদেরকে হয়ত কখনও ছুতেও পারবোনা তাই বলে তারা যে অন্যায় করেন, অযৌক্তিক মতবাদ ইচ্ছামত প্রচার করেন, সে কথাটুকুও বলতে পারবনা তা কি করে হয়!
জীবনে কখনও ওবামা কিংবা বুশ হতে পারবনা তা জানি, তাই বলে ওদের ইরাক নীতি কিংবা আফগান,সিরিয়া,লিবিয়া নীতি যে অন্যায়,অযৌক্তিক এবং নৃশংস ছিল তা যে বুঝিনা তা বলি কি করে? থ্রি হান্ড্রেড প্লাস রান যে একটা ফাইটিং স্কোর সেটা বোঝার জন্য নিশ্চয় হাথুরু সিংহে হওয়ার দরকার পড়েনা। সুতরাং আমরা ওই দালালী চক্রের সদস্য না হলেও অন্তত এটুকু বুঝি যে তাদের সব যুক্তিই সুযুক্তি না বরং এর অধিকাংশ কুযুক্তি তা নির্দ্ধিধায় বলা যায়। বিদেশী প্রভুদের দালালিরই একটি অংশ তাঁদের এহেন আচরণ তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ নেই।
আচ্ছা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক কিংবা ছাত্র মানেই যে মহাঙ্গানী,মহাসত্য ব্যক্তি, মহান আদর্শিক কোন মানুষ কিভাবে বিশ্বাস করব! তাহলে একাত্তরে কেন এইসব বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ঙ্গানী গুনী ছাত্র-শিক্ষক ধর্মব্যবসায়ী পাকিস্তানকে সাপোর্ট করেছিলেন? এদেশের সবচেয়ে বড় রাজাকারও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। আচ্ছা, এখনও কেন প্রায়শ এদের নামে এই স্ক্যান্ডাল, সেই স্ক্যান্ডাল (বলতে অস্বস্তি লাগছে) উঠে, যদি সবাই নিষ্পাপ ফেরেশতা হয়ে থাকেন?
সুতরাং তরুণ প্রজন্মকে আজ দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে হবে, দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করতে হবে, এদেশটা এখন আর ব্রিটিশ কিংবা পাকিস্তানীদের না, এদেশটা আমার আপনার এদেশটা বাঙালিদের, বাঙালির ঐতিয্যের ধারক বাহক এদেশ অতএব এদেশকে আমরা সাজাবো আমাদের মত করে, বাঙালির মনের মাধুরি মিশিয়ে।
লেখক : মারুফ হোসাইন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



