somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বর্নাহত ভালোবাসা

২৪ শে এপ্রিল, ২০১৪ সকাল ১১:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



পা দুটো তার কখনো কখনো পাশের পা দুটোর দিকে বেঁকে যাচ্ছে। দিগভ্রান্ত হয়ে হাটছে বলে বেশির ভাগ সময়ই মনটা আটকে যাচ্ছে ঘড়ির কাটার বিপরীতে । বিপরীত লিঙ্গের পদযুগলের মৃদু সংঘর্ষে সম্বিত ফিরে পাওয়া মাত্রই আনাঁড়ি অভিনেতার মতো পদযুগলদ্বয়ের মালিকেরা পদযুগলদ্বয়কে বিপরীতদিকে চালাতে ব্যাস্ত হয়ে পড়ে।

ব্যাবধান তো বাড়েই সেটাকে কমাবার জন্য। সে ধর্ম মেনেই মৃদু আলিঙ্গন করে উর্ধবাহুযুগল, কখনোবা আঙ্গুলের পৃষ্ট। এভাবেই ব্যাবধান বাড়া কমাবার খেলা খেলতে খেলতেই সময় আর পথ দুটোই সামনের দিকে গড়াতে থাকে।

নীরবতা ভাঙ্গে নারীকন্ঠ -
-এভাবে আর কতো?

এমন পরিবেশের সাথে বেমানান মোটা স্বরটা শুধু একটা শব্দই বলতে পারে -
" অ্যাঁ? "

আবার সেই চিরায়ত পথচলা, সাথে সাথে নিষ্ঠুর নীরবতা...

কিছুকাল পর পর মুখ চাওয়া চাওয়ি করে তারা যেনো একে অপরের মনেরভাব বুঝে নিয়ে নীরবতাকে বৈধতাদানের খেলায় নেমেছে, কিন্তু সেখানে বাধ সাজে কিছু দীর্ঘ দীর্ঘশ্বাস।

এবারে মোটা স্বরটা নীরবতাকে গলা টিপে বলে -
- "ভালোবাসি ! "
- " কথাটা কি হাস্যকর শুনাচ্ছে না? "
- "তবুও ভালোবাসি ! "
- " এক সময় আমিও তো বাসতাম । অনেক বেশিই বাসতাম। "
- " এখন? "
- " ভালোবাসার অনুমতি নেই যে ! "

আবার নেমে আসে শশ্মানের নিষ্ঠুর পথচলা। সেই মৃদু স্পর্শ, সেই নটরাজদের নারকীয় অভিনয় - সব মিলিয়ে দুটো মস্তিষ্কই আজ বিকল হবার জোগাড়...

পদযুগলদ্বয়ের গতি কমে আসে। সামনেই একটা মন্দির । এক জোড়া চোখ সেখানে নিথর হয়ে পড়ে আছে, বাকি জোড়াটা বোধহয় ঝাপসা হয়ে বুজে আসতে চাচ্ছে। কিন্তু এখন তো চোখযুগলের সেই অধিকার নেই, সমাজ সে অধিকার শৈশবের পর থেকেই কেড়ে নিয়েছে।

দুর খেকেমাগরিবের আজানের সুললিত ধ্বনি ভেসে আসছে । এখন নীলাকে বিদায় দেবার পালা ...
হাতটা ছেড়ে দেয় সোহান । নীলা ধীর পায়ে এগিয়ে যেতে থাকে । পেছনে থাকে শুধু কিছু স্মৃতি । নীলা আচল দিয়ে মুখ ঢাকে আর সোহান পকেট থেকে একটা রুমাল আর এক প্যাকেট সিগেরেট বের করে । রুমালটা নীলার দেয়া ।
মায়াবী দিনগুলো যায় যায় করছে । বাসন্তী আগমনী গেয়ে উঠা কোকিলের প্রস্তুতির কথা জানিনে তবে দোকানিরা ঠিকই ফুলের পসরা সাজানো শুরু করে দিয়েছে । ভালোবাসার পসরার প্রতীকিয় ফুলগুলোর উপর পুনঃ পুনঃ দেয়া পানির ফোটাগুলা এতটাই জ্বলজ্বল করছে যেনো ভালোবাসার অমরত্বের ঘোষণা দেয়াই তাদের আপাত গুরু দায়িত্ব । এত সহজলভ্যতার মাঝেও কাঙ্খিত ফুলটির জন্য বারবার রাস্তার এপাশ ওপাশ করছে এক মায়াবিনী ।
-একটি কালো গোলাপ হবে,কালো গোলাপ?
-কি করবেন কালো গোলাপ দিয়ে?
-বাসর সাজাব !
-লাল গোলাপ নেন আপা,মানুষতো বাসর সাজাতে লাল গোলাপ নেয় ৷
-লাশের সাথে বাসর হবে তাই কালো গোলাপ চাই !
বিশেষ কারো জন্য ফুল কেনার জন্য এসেছে রোহান । ফুলের দোকানে দাড়িয়ে দাড়িয়ে মেয়েটির কথা শুনছিল রোহান । হঠাৎ কালো গোলাপের নাম শুনে কৌতূহলী হয়ে উঠে সে -
-এক্সকিউজ মি , কিছু মনে না করলে আপনার বাসর,কালো গোলাপ আর লাশের গল্পটা জানতে পারি ৷
-আরে তুমি রোহান না , সোহানের ছোট ভাই ?
-জ্বী,জ্বী ! কিন্তু আপনি ভাইয়াকে চিনেন কি করে?
-আমি নীলা!
মূ্হুর্তেই নিঃস্তব্দ হয়ে যায় চারদিক ।

-ও আপনি তাহলে সেই নীলা , ঢাকা ভার্সিটিতে পড়েন?
-হুম !
রবীন্দ্রনাথই সম্ভবত বলেছিলেন কারো সম্পর্কে কিছু বলার আগে তার সম্পর্কে ছোট্ট একটা বর্নণা দিয়ে দিতে। নীলা, ছোট্ট নামটারই প্রেমে পড়ে গিয়েছিলো সোহান। যতটুকু লম্বা হলে একটা বাঙালী ললনাকে লম্বা বলা যায় ঠিক ততটুকুনই লম্বা, হলদে বরন গা, গোলাপী ঠোট দুটোর ঠিক উপরে একটা তীল যেনো গোল চেহারাটার মায়া বাড়িয়ে দিয়েছে শতগুনে। ঘন কালো কেশবিন্যাস যখন বাতাসে উড়ে তখন সেই কেশবাগানে হারিয়ে পথ হারায় পথিক, সময় যেনো থমকে যায় ক্ষনিকের জন্য। গোল গোল কাজলমাখা আঁখিগুলো যখন ড্যাব ড্যাব করে কারো দিকে তাকিয়ে থাকে তখন মুখ দিয়ে কথা বলাই দায় হয়ে পড়ে, যেনো ট্রাকিয়া আর ভোকাল কর্ডটা কেও কেটে নিয়ে গেছে। আর তার ঠোটের কোনে বাকা চাঁদের মতো এক চিলতে হাসি নীলাকে বানিয়ে দিয়েছে বহু পুরুষের প্রথম হৃদসম্রাজ্ঞী। ঠিক এমনটাই লিখা আছে সোহানের ডায়েরীতে ।

কিন্তু আজ নীলাকে দেখার পর সোহানকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মিথ্যুক মনে হলো রোহানের। কঙ্কালসার একটি দেহ, চোখের নিচে কালো দাগ, এলোমেলো চুল আর ঘোলাটে দুটে চোখ। ভাবতেই অবাক লাগে এই মেয়ের প্রেমে পড়েছিল তার ভাই।
- জানো রোহান ! তোমার ভাইয়ার সাথে কথা হয়েছিল কোনো এক ১৪ই ফেব্রুয়ারিতে বিয়ে করব আমরা। কিন্তু তা আর হয়ে উঠেনি,তাইতো প্রতি ১৪ই ফেব্রুয়ারিতে আমি কালো গোলাপ খুঁজি বাসর সাজাতে ৷ বাকিটা জীবন কালো গোলাপ নিয়েই কাটিয়ে দিব ৷
(এই বলে কাঁদতে শুরু করে নীলা)
কিন্তু রোহানের তো এখন কাঁদলে হবে না । তার অনেক কাজ বাকি । নীলাকে দাঁড় করিয়ে রেখে রোহান নিয়ে আসল সোহানের শেষ চিরকুটটি ! সোহানের শেষ চিরকুটটি পেয়েছিল শুধু রোহান,সেখানে লিখা ছিল -
" নীলা, তুমি যেমন জানো, তেমনি আমিও জানি, তোমার আমার প্রেম শাশ্বত, ধ্রুব ঠিক আমাদের অস্তিত্বের মতো। কিন্তু ঐ ধর্ম, ঐ সমাজ আমাদের এক হতে দিলো না। সমাজের চোখে আমরা পাপী হিন্দু মুসলিম প্রেমিকযুগল হিসেবে। সমাজের বোঝা কাঁধে নিয়ে বেঁচে থাকা যায় কিন্তু তুমি বিনে আমার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা দায়। ভালোবাসা বুকে পুষে বেঁচে থাকতে হয়তো অনেকে পারে, কিন্তু আমি নই। আবার দেখা হবে, সমাজ বিহীন এক ভালোবাসার রাজ্যে। যেখানে তোমার আর আমার মাঝে থাকবে শুধুই ভালোবাসা! "


১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×