somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছোটগল্পঃ কাঠের টেবিল

২৫ শে জুন, ২০১৬ রাত ৩:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাইফুল পারভেজ এবার বিসিএস পরীক্ষা দিবে। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে সে কিছুতেই পড়ালেখায় মন বসাতে পারছেনা। তার ধারণা প্লাস্টিকের পড়ার টেবিলটাই যত নষ্টের মূল, এটা বদলে ফেললে পড়ায় মন বসবে। তাই সে ঠিক করলো একটা কাঠের টেবিল কিনবে। বন্ধু খালিদ কবিরকে ফোন দিল পরামর্শের জন্য। খালিদ কবির বলল এত টাকা খরচ করে নতুন টেবিল কিনার দরকার নেই, তারচেয়ে বরং একটা সেকেন্ড হ্যান্ড কিনলে ভাল হয়। পরামর্শটা তার মনে ধরলো।

পরদিন দুই বন্ধু মিলে সারা শহরের সেকেন্ড হ্যান্ড ফার্নিচারের দোকানগুলো চষে বেড়ালো। কিন্তু কোথাও মন মত টেবিল মিলাতে পারলনা। অবশেষে এক দোকানে বসে আড্ডা দেওয়া এক বাড়ির দারোয়ান জানালো তার মনিব কিছু ফার্নিচার বিক্রি করবে, যার মধ্যে একটি পড়ার টেবিলও আছে। তারা যদি সত্যি নিতে আগ্রহী হয় তবে সে তাদেরকে দেখাতে নিয়ে যেতে পারে।

সেগুন কাঠের তৈরি চার ফুট বাই তিন ফুটের বিশাল টেবিল। টেবিলের উপর অর্ধেকটা জুড়ে আবার বুকশেলফ বানানো। টেবিল দেখে দুই বন্ধুই খুব খুশি, তারা এরকম কিছুই খুঁজতে ছিল। খালিদ কবির বলল এই টেবিল যদি সাইফুল পারভেজ না নেয়, তাহলে সে নিজেই নিয়ে নিবে। দরদাম করতে গিয়ে তারা আরেক দফা অবাক। মালিক মাত্র দেড় হাজারে ছেড়ে দিতে রাজী! তারা তিন হাজার হলেও নিতে ইচ্ছুক ছিল। তাই আর কথা না বাড়িয়ে নিয়ে নিলো।

খুশি মনে টেবিল নিয়ে বাসায় ফিরে তাদের মাথা ঘুরে গেল। টেবিলটা কোন মতে সদর দরজা দিয়ে ঢুকানো গেলেও সাইফুল পারভেজের পড়ার রুমে কিছুতেই ঢুকানো যাচ্ছেনা। প্রাথমিক ভাবে ছোট দরজা বানানোর জন্য বাড়িওয়ালাকে অভিসম্পাত করলেও মায়ের বকুনি খেয়ে তারা বাস্তবতায় ফিরল। এটা সেটা ভাবার পর সিদ্ধান্ত হল টেবিল খালিদ কবির তার বাসায় নিয়ে যাবে। কিন্তু খালিদ কবির বাসায় গিয়ে দরজার মাপ নিয়ে দেখে এই টেবিল তার বাসায় ঢুকানোও সম্ভব নয়।

এদিকে সাইফুল পারভেজের মা তাকে সারাক্ষণ বকুনির উপর রাখল। কেন সে এত বড় বোকামি করল, কেন সে মাকে না জানিয়ে এত বড় টেবিল কিনে নিয়ে আসলো এবং এই টেবিল যেন অতিদ্রুত বাসা থেকে দূর করে। এত শখ করে টেবিল কিনে তা রুমে ঢুকাতে না পেরে সাইফুল পারভেজের মন এমনিতেই খারাপ ছিল, তার উপরে মায়ের বকুনি শুনে তার মাথা গরম হয়ে গেল। হঠাৎ এক ধরনের অভিমান ভর করলো তার ওপর। সে গলির মোড়ের দোকান থেকে একজন কাঠের মিস্ত্রী নিয়ে এলো। বাসায় এনে টেবিল দেখিয়ে মিস্ত্রীকে বলল,
- এটা আপনি নিয়ে যান।
- কী কাজ করতে হবে বলেন, এখানেই করতে পারবো। এত বড় জিনিস একবার দোকানে নিয়ে যাওয়া, আবার এখানে নিয়ে আসা অনেক ঝামেলার কাজ।
- আসলে টেবিলটা আমি কিনেছিলাম আমার রুমে বসানোর জন্য। কিন্তু রুমের দরজা ছোট হওয়ায় ভেতরে ঢুকাতে পারছিনা। তাই আপনাকে নিয়ে যেতে বলছি।
- ওহ, বুঝেছি। আপনি টেবিলটা সেল করতে চাইছেন।
- না, আমি এটা আপনাকে গিফট করতে চাইছি।
চরম অবিশ্বাসের দৃষ্টি নিয়ে কাঠমিস্ত্রি সাইফুল পারভেজের দিকে তাকিয়ে রইলো। এরকম কৌতুক সে আগে কখনো শুনেনি। তার অবিশ্বাসের দৃষ্টি দেখে সাইফুল পারভেজ তাকে আশ্বস্ত করলো,
- সত্যি বলছি, এটা আপনি নিয়ে যান। কোন টাকাপয়সা দিতে হবেনা।

কাঠমিস্ত্রির মুখে কৃতজ্ঞতার হাসি ফুটে উঠলো। সে জানালো, সন্ধ্যার পর সে ভ্যান নিয়ে এসে টেবিল নিয়ে যাবে। তার ফোন নাম্বারটা সাইফুল পারভেজকে দিয়ে বলল যদি কখনো কোন কাজে তাকে দরকার হয় শুধু একটা ফোন দিলেই হবে, সে চলে আসবে।

সন্ধ্যার আগেই সাইফুল পারভেজ বাসা থেকে বের হয়ে খালিদ কবিরকে ফোন দিল। তার একটি সিগারেট খাওয়া দরকার, সে আবার একা একা সিগারেট খেতে পারেনা।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুন, ২০১৬ রাত ৩:০৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×