তালাইমারী ট্রাফিক মোড়ের সামনে খাঁড়ায়া আছি। রাস্তার উপ্রের একটা চায়ের দোকানেত। বসার জায়গা নাই। দোকানদার মামায় একটা খাটাশ । চায়ে ডাইলখোরগো লাহান চিনি বেশি দেয়। দুধ কম। আর সবচে বেশি যেইডা কম, সেইডা হইলো চা-পাতা।
চায়ে চুমুক দিতে দিতে বিরক্তি কাটাইতে সামনের দিকে তাকাইলাম। রাইতের রাজশাহী ম্যালা সোন্দর। দেখলেই উৎসব উৎসব ফিলিং হয়। একটু দূরে ভাতের হোটেল মূলত। একটু হাই-ফাই লেভেলের। তার পাশে একটা মিষ্টির দোকান। দোকানের সামনে একটা পিচ্চি মাইয়া খাঁড়ায়া আছে৷ বয়স ৮/৯ হইবো। টোকাই-মোকাই হইবো। দোকানের কাঁচের সেলফে রাখা কোনো মিষ্টির দিকে চায়া আছে মনে হয়। একদৃষ্টিতে না। ঘুইরা ঘুইরা। কতক্ষণ দেখলাম বিষয়টা।
কাপের চা শ্যাষ করতে করতে আয়া পড়লো যাগো লাইগা ওয়েট করতাছিলাম। বেঞ্চ ততক্ষণে দুইডা খালি হইছে। অগো লগে আরো দুই রাউন্ড চা চললো। আড্ডাবাজিতে ডুইবা ঐ পিচ্চির কথা ভুইলাই গেলাম।
একসময় আড্ডা ভাঙলো। রুমে ফিরা ঘুম দেয়া লাগবো। চইলা আসার সময় মনে পড়লো মাইয়াটার কথা। একবার দেইখা আসতে মন চাইলো। মিষ্টির দোকান বন্ধ হওনের সময় হয়া গেছে। পিচ্চি মাইয়াটা একটু দূরে খাঁড়ায়া আছে। একপাশে একটা কুত্তা কান চুলকাইতাছে। দোকানের লোকে আইসা ঐদিনের ময়লা বড় ডাস্টবিনে ফালায়া দিয়া গেল। কুত্তাটা দিকে আগায়া গেল। ময়লার কিছু অংশ মাটিতে পইড়া গেছিলো বড় ডাস্টবিনে ফালানির সময়। একটা মোড়ানো টিস্যু পেপার চাটতাছে কুত্তাটা। টিস্যুর ভিতর থিকা মিষ্টির টুকরা বাইর হইয়া আইলো ঐটার চাটাচাটিতে। মনে হয় কেউ ফালায় রাইখা দিছিলো প্লেটে জুঠা কইরা। মাইয়াটা চায়া চায়া দেখতাছে কুত্তার খাওয়া।
আমি আর খাড়াইলাম না। ফিরার রাস্তা ধরলাম। মেসের গেইটের কাছাকাছি আসার সময় মনে একটা কথা খেইলা গেল, "মাইয়াটা মানুষ না হইয়া কুত্তা হইয়া জন্মাইলে আইজ মিষ্টিটা খাইতে পারতো।"

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




