somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শুভ বিবাহ, দোস্ত।

০৪ ঠা জুলাই, ২০১৯ ভোর ৪:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তোর বিয়েতে যেখানে সবচেয়ে বেশি আনন্দ করবো আমি, সেখানে কিনা আজ আমার ই চোখে অশ্রু!

তোকে বউয়ের সাঁজে দেখার খুব ইচ্ছে ছিলো, কিন্তু জীবন বৃত্তের আর্থিক পরিধিতে আমি সীমাবদ্ধ, আমি অসহায়!!!


বারবার তুমি আঘাত প্রাপ্ত হবে, ব্যথিত হবে, নীরবে কান্না করতে হবে কিন্তু কখনো মুখ ফিরিয়ে নেওয়া যাবেনা। তোমার অপূর্ণ ইচ্ছেগুলো বাস্তবায়ন করার জন্যই তোমাকে বেচে থাকতে হবে, লড়াই চালিয়ে যেতে হবে ভাগ্যের সাথে, ভাগ্যটাকে নিজের মতো করে গড়তে হবে। অপূরণীয় ইচ্ছে, আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্নগুলোকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে।

যখন কিছুই করার থাকবেনা তখন কান্না করবে একা একা, কাউকে সেটা উপলব্ধি করতে দিবেনা। তোমার অন্তর কতটা ব্যথিত হয় জীবন চলার পদে পদে স্বপ্নগুলোকে একটিবার ছোয়ার আশায়। তুমি কান্না করো, বেশি বেশি চোখের জ্বল ফেলো, এটাই তোমাকে এগিয়ে যেতে উদ্দীপনা যোগাবে। অশ্রুসিক্ত নয়নটাকে পরিলক্ষিত করতে না পারলে জীবনের সফলতার স্বাদ নিতে পারবেনা। তোমার লাইফে কখনো সফলতা আসতে পারে কিন্তু সেটা তোমাকে এক দন্ড হাসাতে ব্যর্থ হবে যদিনা আজকের কষ্টটাকে অনুভব করতে পারো।

কষ্ট করো, কষ্ট পাও, মানুষদের থেকে রিজেক্টেড হও তারপর কি হবে? খুব একাকি ফীল করবা, ডিপ্রেশন তোমার উপর ভর করবে, একটা সময় নিজেকে শেষ করে দিতে ইচ্ছে করবে। সবকিছুকে মেনে নাও, কিন্তু শেষের পদক্ষেপটা গ্রহণ করার পূর্বে যখন কেউ বাসায় থাকবেনা তখন ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে জোরে জোরে কান্না করো। নোনা জ্বলটাকে শেষ বিন্দুসহ উপ্রে ফেলো, একটা প্রশান্তি অনুভব করবে। উঠে পরো, চোখ দুটোকে মুছে দাও, নতুন করে চোখের পাতা মেলো, নতুন দৃষ্টিতে আয়নায় নিজেকে আবিষ্কার করো, নতুন উদ্দীপনা জাগ্রত করো, পিছন দেখার ব্যর্থ চেষ্টা থেকে বিরত থাকো, কারোর মাঝে নয় তোমারই মাঝে তোমাকে আবিষ্কার করো।




অর্থকষ্ট মানুষকে সম্পর্কের বাধন থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। অর্থকষ্ট মানুষকে বাস্তবতা চেনাতে সাহায্য করে কিন্তু সেগুলোকে মেনে নিতে কেন নয়!

মনে পরে আজ থেকে কয়েক বছর আগের কথা, যখন নতুন করে আবার বেচে থাকার জন্য প্রেরণা পেয়েছিলাম। আমার কি দোষ ছিলো! আর দশটা ছেলের মতো আমিও ছিলাম হয়ত আমার জীবনের বৃত্তটা অন্য সবার থেকে ভিন্ন ছিলো কিন্তু আমিও তো মানুষ ছিলাম, তাই নয় কি! আমিও তো অবুঝ ছিলাম!

সময়ের আবর্তনে যাকে প্রিয় মানুষের কাতারে স্থান দেওয়া হয়, যার জন্য হৃদয় কুঠুরিতে একটি স্বপ্নের বাংলো ধীরে ধীরে তৈরি করা হয় সেইসব মানুষদের চোখের বিষ হওয়া যে কতটা বেদনার সেটা ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ জানেনা!

ভালো মন্দ মিলিয়েই মানুষ হয়। একটা মানুষ মানুষ হিসেবে পরিণত হয় / রূপান্তর লাভ করতে পারে ভালোবাসার দ্বারা। ভালোবাসা যেমনি একজনকে পুর্নাঙ্গ রূপে মানুষ হিসেবে গঠন করতে সমর্থ হয় ঠিক তেমনি কলি থেকে ফুল ফুটার পূর্বেই একটা অবুঝ নিষ্পাপ জীবনের ইতি টানতেও পরোয়া করেনা। ব্যর্থতার স্টেজে সাপোর্টিভ কাউকে পাওয়াটাকে সরাসরি সৃষ্টিকর্তার গিফট হিসেবে দেখি। সেই মানুষটা হতে পারে পরিবার কিংবা আত্নীয়স্বজনের মধ্যে কেউ অথবা এমন একজন অচেনা কেউ যে কিনা একটা সময়ে রক্তের সম্পর্কের চেয়েও কোনো অংশে পিছিয়ে থাকেনা।

তোকে কখনো কিছু বলা হয়নি যেটা এখন বলতেছি-
জীবনের বৃত্তটা যখন উল্টো পথে ঘোরা শুরু করে দেয় তখন সফলতা অর্জন তো দূরের কথা জীবনের বৃত্তের গতিপথে স্থির থাকতে পারাটাই মূখ্য, ট্র‍্যাকে নিজের অস্তিত্বের জানান দিতে পারাটাই তখন সাফল্যের একমাত্র মানদণ্ড হয়ে দাঁড়ায়। ঘুরে দাড়াতে পারিনি ঠিক, কিন্তু ট্র‍্যাকে তো টিকে ছিলাম। এখন সেটাও পারবো কিনা জানিনা, খুব সঙ্কায় আছি!

এতোদিন তোর উপর খুব অধিকার খাটিয়েছিলাম, অনেকটা সময় একসাথে কাটিয়েছিলাম, না বলা কথা গুলো জমা রাখার মতো একটা সুইস ব্যাংক পেয়েছিলাম যেটাতে শুধুমাত্র আমারই একাউন্ট ছিলো, ছিলো প্রাইভেসি, ছিলো গাইডলাইন, ছিলো কথাগুলো বলার একটা ওপেন প্লাটফর্ম। আমার আমির বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে যেখানে সমর্থ ছিলাম। আজ তোর গায়ে হলুদ গেলো, আগামিকাল বিয়ে। আগামিকাল আর বলছি কেন, রাত তো প্রায় শেষের দিকে। আজকেই তুই অন্য কারোর হয়ে যাবি। আজ থেকে তোর উপর আমার সেই অধিকারটুকু ও হারালাম যেটার বলে মন খুলে কথা শেয়ার করতে পেরেছিলাম, নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে সমর্থ হয়েছিলাম।

মনে হচ্ছে আবার একা হয়ে যাচ্ছি, ফিরে যাচ্ছি কয়েকবছর পূর্বে যেখানে তুই বলে কিছুই ছিল না, যেখানে আজ তুই থাকার পর ও হয়তো আগামীকাল চাইলেও থাকতে পারবিনা।

আমি জানি কালকে তোর বিয়ের অতিথিদের মধ্যে আমাকে খুঁজে বেড়াবি, আমাকে দেখতে না পেয়ে আমার উপর প্রচন্ড রাগ অভিমান দু'টোই করবি। কিন্তু আমি কি করবো বল! জীবন চলার পথে মানুষ কখনো এমন অসহায় হয়ে যায় যে যেখানে ক্ষুদ্র ইচ্ছেগুলো বাস্তবায়ন করার জন্য ও সবকিছু বিলিয়ে দিতে হয় কখনো বা তারপর ও সেটার দেখা মেলেনা আর এটাতো আমার অন্যতম ইচ্ছেগুলোর একটি ছিলো, এতো সহজেই কি আর সেই আশা পূরণ হবে!

তোকে দেওয়া কথামতো তোর বিয়েতে তোর শাড়িটি পৌছিয়ে দিতে পারবোনা, তোর স্বপ্ন পূরণ করা ছাড়া তোর সামনে উপস্থিত হয়ে আমার স্বপ্ন কিভাবে পূরণ করি বল!


রাতটা ঘুমের জন্য হলেও সবার জন্য তা নয়, কারোর জন্য এটা স্মৃতিচারণ করার সময়, কারোর জন্য স্বপ্নগুলোতে রঙ তুলির সাহায্যে আঁচড় কাটবার সময়, কারোর জন্য ব্যর্থ হাতের শৈল্পিক ছোয়ায় মোড়ানো গৃহে কাউকে অভ্যর্থনা জানানোর পরিকল্পনা আঁটবার সময়, কারোর জন্য বা শুধুই কাঁদবার সময়!


ডায়েরি লেখাতো সেই কবেই ছেড়ে দিয়ে ছিলাম, ডায়েরি ছেড়ে ডিজিটাল স্ক্রিন বেছে নিয়েছিলাম যেখানে স্পর্শ করলেই অনুভূতি গুলো পৃষ্ঠা বন্দী হয়ে যায়। অনুভূতি গুলোতে কখনো কাউকে প্রবেশ করতে দেইনি, খুব যতন করেই রেখে ছিলাম। কিন্তু আজ আর সেগুলোকে আগলে রাখতে পারছিনা, প্রকাশ করতে হচ্ছে, অনেকটা বাধ্য হয়েই, তাই আমিও প্রকাশ করে দিচ্ছি সবার সামনে যেখানে ও নেই, যেখানে তোর মতো কোনো বন্ধু নেই, যেখানে আমার আমিটা নেই, যেখানে আমার সত্তা, অস্তিত্ব কোনোটাই নেই!

ছাদের উপরের পানির ট্যাঙ্কিতে বসে আছি, রাত ৪ টা ০৮ বাজে, (দূরের কোথা থেকে যেন ফজরের আজানের সুর ভেসে আসছে, অনেকদিন পর ফজরের আজান শুনতে পেরেছি ঘুমাতে পারিনি বলে।) কখনো আকাশের পূর্ণিমা চাঁদের দিকে তাকিয়ে আছি কখনো বা স্ক্রিনের দিকে, ঠিক পূর্ণিমা ছিলো কিনা তা জানিনা, চশমা পরা নেই খালি চোখে ওকে নিয়ে চাঁদ দেখতে চাওয়ার স্বপ্নটাকেও কবর দিতে হয়েছে। আকাশের ও এখন মন খারাপ, এক দু'ফোটা করে অশ্রু ঝরাচ্ছে। স্ক্রিনটায় স্পর্শ করলেও এখন আর অনুভূতি গুলো লেখা হয়ে ভেসে উঠছে না, কিসের জ্বলে যেনো ভিজে গেছে, অনেকটা স্যাঁতস্যাঁতে, পানির মতো.... কিন্তু বৃষ্টির নয়!
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুলাই, ২০১৯ ভোর ৪:১২
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই বিপ্লব নাকি জুলাই CDI?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:২৯



আমি মনে করি জুলাই বিপ্লবের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ সাধারণ জনগণ। যাদের মধ্যে দেশপ্রেম, মায়-মমতা আছে, যারা অন্যায়-অবিচার দেখলে প্রতিবাদ করেন, তারাই এই আন্দোলনের মূল শক্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুসলমানের সন্তানের নাম জিকো কীভাবে হতে পারে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৫৫


ছোটো মামার মুখে একটা নাম প্রায়ই শুনতাম, জিকো। তখন বুঝতাম না এটা কে, শুধু জানতাম এই মানুষটা নাকি ফুটবল মাঠে জাদু দেখাতেন। পরে জেনেছি তার আসল নাম আর্থার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাতৃভূমিকে ছোট করে প্রতিবেশী দেশকে মহান দেখানোর উদ্দেশ্য কি?

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২১



বহুদিন ব্লগে ঘোরাঘুরি করা হয় না। গত সপ্তাহে কি মনে হলো, ভাবলাম একটু ঘোরাঘুরি করি। তো ঘুরতে ঘুরতে কিছু পোষ্ট পড়লাম; কিছু মন্তব্যও নজরে আসলো, বিশেষভাবে দুইটা মন্তব্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ নিত্য তোমার অন্বেষণে

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২২

জানি,
তুমি ছড়িয়ে আছো চতুর্দিকেই,
তবুও,
মন খারাপে তাকাই আমি আকাশপানেই
দিনে তাকাই, রাতেও তাকাই,
আলোয় তাকাই , কালোয় তাকাই,
তাকাই মানে তোমায় খুঁজি,
খুঁজতে খুঁজতে চোখ বুঁজি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

এদেরকে না রুখলে চড়া মূল্য দিতে হবে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬



মাহবুব আজিজ, আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম, শাওন, মঞ্জুরুল পান্না, শম্পা রেজা, কালচারাল ফ্যাসিস্ট ফরিদুর রেজা শাইখ সিরাজ এদেরকে এখনই বন্ধ করতে হবে না হলে বাংলাদেশকে চড়া মূল্য দিতে হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×