somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক মিনিটের গল্প

২১ শে এপ্রিল, ২০১৫ বিকাল ৫:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হোম মিনিস্টার সমাচার

লিখা এবং প্রকাশকালঃ ২১-০৪-২০১৫


-ভাইরে মহা মুসীবতে আছি। মাথার উপর ঠাডা পড়লেও এত বিপদ মনে হয় হত না।
-মন খুইলা কইয়া পালান কি হইছে।

বউরে নতুন ফেইজবুক চালানো শিখায়ে দিছি। ভাবলাম সারাদিন ফেইজবুক নিয়ে থাকবে, আমি তার নানাবিদ ঘ্যানর ঘ্যানর থেকে বেঁচে যাব। কিন্তু আমার কপালে সুখ সইল না। গোসল করার সময় গায়ে সাবান থাকা অবস্থায় বাড়িওয়ালা চাচা যদি টেপের পানি বন্ধ করে দিত, তাতেও আমি এত বিরক্ত হইতাম না।
এই ধরেন, গতকাল দুপুরের দিকে বউকে ফোন দিছি, জিজ্ঞাসা করলাম, “ভাত খাইছ?”
বউ বলল, “Facebook আস, Inbox এ বলতেছি, চেক inbox”.
মাথায় মড়ার উপর ডাইরেক খাজিলিক পড়ল। এই অফিস এর নিদারুণ ব্যস্ততার মধ্যে আমাকে তখন facebook এ লগিন করতে হয়েছে। নতুবা রাতে আর বাসায় ফিরতে হত না। হোটেলে থাকতে হত।

-এই ধরেন, গত পরশু রাতে আপনার ভাবি স্বপ্ন দেখছে, আমি নাকি 'কলার চামড়ায় স্লিপ কাইটটা পইড়া গেছি'। আর কি, সারারাত জামাই মরা কান্না। নিজেও ঘুমায় নাই, আমারেও ঘুমাতে দেয়নি। সকালে মুসীবতটা আরও ব্যাপক আকারে রূপ ধারণ করেছে।
বউ বলল আমাকে অফিসে যেতে দেবে না।
আমি মিনতি নিয়ে বললাম, "কেন, জান!!!"।
বউ বলল, "পথে তোমার বিপদ হবে, তুমি যে কোন জায়গায় উশটা খেয়ে পড়বা"।

আমি বললাম, “যে জিনিস পালতেছি। এর থেকে আর বড় বিপদ আর কি থাকতে পারে, যেখানে আমি প্রতি সেকেন্ডে ৩ বার করে উশটা খাচ্ছি”।
বউয়ের পেজটিজ হঠাৎ করে খাঁড়া হয়ে গেল। ১ মিলি সেকেন্ডে গালটারে রেডিম্যাট আড়াই ইঞ্ছি ফুলিয়ে ফেলল।
এবার দেখি আমার মাথায় ঠাডার উপর বিদ্যুৎ চমকায়।
তাড়াতাড়ি বললাম, “বাসায় যে ৬ টা love bird পালতেছি, সেগুলোর কথাই তো বললাম, জান”।
কিন্তু যেই লাউ, সেই কদু। গাল ফুলাটা কিঞ্চিৎ কমেও না, বাড়েও না। পরে আমার সার্ধের বাহিরে অনেক কিছু দেব প্রমিস করে বহু কষ্টে জলন্ত আগ্নেগিরির উপর কিঞ্চিৎ জল ঢালতে সক্ষম হলাম।

তারপর ভয়ে ভয়ে বললাম, “এখন office এ যেতে হয় যে জান!!!”
কিন্তু কোন মতেই বউকে অফিসে যাব বলে রাজী করাতে পারলাম না।

-"না , তোমাকে যেতে হবে না। তোমার ফোনটা দাও তো"। এই বলে আমি ফোনটা তাকে দেয়ার অপেক্ষা না করে, আমার হাত থেকে ফোনটা নিয়ে নিল। ফোন নিয়েই কারে যেন ফোন দিল। আমি একটু দূর থেকে বউকে দেখছিলাম। ফোনে কার সাথে যেন হেসে হেসে কথা বলছে”।

কথা শেষ করে এসে আমাকে বলল, "তোমাকে যেতে হবে না। আমি শিপু ভাইয়ের সাথে কথা বলে নিয়েছি"।

আমি নির্বাক হয়ে থাকলাম।
শিপু ভাই এর প্রথম পরিচয় হল, উনি আমার অফিসে আমার ইমেডিয়েট বস। তার থেকে বড় পরিচয় হল, শিপু ভাই আমার বউ এর বান্ধবীর মামাতো বোনের জামাই। বউয়ের জ্বালায় আমার সব সময় শিপু ভাইয়ের ২য় পরিচয়টাই মাথার ভিতর রাখতে হয়। আর এই জন্য অফিস এ গেলে আমার জ্বালাটা দ্বিগুণ বেড়ে যায়। শিপু ভাইকে আমি মাঝে মাঝে যখন ভুলে সবার সামনে “শিপু ভাই” বলে ডেকে ফেলি, শিপু বস আমার দিকে তখন কটমট করে তাকায়। কখন যে এই বেটা আমার চাকুরী খাই ফেলে টেন্সানে আছি।

-এই শুন”, বউ আমাকে ডাকল।
-আমি বললাম, “বল জান”
-আমি কিন্তু শিপু ভাইদের সবাইকে দাওয়াত করেছি। তুমি কিন্তু না করতে পারবে না।

আমি আসমান থেকে ডাইরেক জমিনে পড়লাম।
খাইছে!! কয় কি!!! মনে মনে বললাম দাওয়াত তো কইরাই পেলছ। এখন “না” করমু ক্যামনে!!!

কিন্তু মুখে মিষ্টি হাসি টেনে বললাম, “তা, উনারা কয়জন আসবেন?”
-এই, ধর ১৫ জনের মত তো হবেই। আমার বউ ও মিষ্টি করে বলল।

আমার জমিনে পতনের আর কিছু বাকি থাকল না।

এবার মনের বিরুদ্ধে জোর করে আবার মিষ্টি করে হেসে বললাম, “শিপু ভাইয়েরা তো ২ জন। তো, ১৫ জন হল কিভাবে?”

ওমা, সেকি গো!!! সে কি তুমি জান না! শিপু ভাইদের পাশে আরও ২ টা ফ্লাট আছে তো। আমি যখন গতবার শিপু ভাইদের বাসায় গেছিলাম। তখন তাদের পাশের সবার ফ্লাটে গেছিলাম। ভাবি-গুলো না যা ভাললল। তারা আমাকে জ্বাল-মুড়ি খেতে দিয়েছে!!, লেমন টি খেতে দিয়েছে!!!। তোমাকে বলে বুঝাতে পারব না, তারা কত ভাল!!!। এখন তুমিই বল, আমি যদি তাদের একসাথে দাওয়াত না করি, ব্যাপারটা অনেক খারাপ হয়ে যায় না। সন্মান কি আমাদের থাকবে, বল বল?

আমার হঠাৎ করে যেন পানির তৃষ্ণা বেড়ে গেল।

অনেক কষ্টে নিজেকে কন্ট্রোল করে হাসিমুখে বউকে জিজ্ঞাসা করলাম, তা, হঠাৎ করে তাদের দাওয়াত করলে কেন গো?”
ওমা!!!, সে কি বল গো। দাওয়াত না করলে কি আজকে তোমার ছুটিটার ব্যবস্থা করে দিতে পারতাম? - এই বলে আমার বউ একটা বিজয়ের হাসি দিল।

এবার আমার শরীর গরম হয়ে জ্বর আসার অবস্থা হল। মনে মনে বললাম, "ও মোর গিন্নিরে (OMG!), আজ অফিসে গেলে আসা-যাওয়া, খাওয়া-দাওয়া বাবদ সর্বোচ্ছ যেখানে আমাকে ৩০০ টাকা গুনতে হত, সেখানে তুমি মিনিমাম ৫০০০ টাকা ইনস্ট্যান্ট গযব করার ব্যবস্থা করে আসছ"।
আমি অনেকটা জোর করে হেসে বউকে জিজ্ঞাসা করলাম, “তোমাকে কি একটা প্রশ্ন করতে পারব?”
-yes, of-course . – বউ বলল। বউকে ব্যাপক খুশি মনে হল।

আমি একটু আশার সঞ্চার করে, অনেকটা রিস্ক নিয়ে বউকে জিজ্ঞাসা করলাম, “তুমি যে আমাকে নিয়ে ‘কলার চামড়ায় স্লিপ খেয়ে পড়া’র স্বপ্নটা দেখেছো, সেটা কি আজকের দিনে কলার চামড়ায় স্লিপ খেয়ে পড়ে গেছি, সেটা দেখেছো, নাকি আগামীকাল পড়ে যাব, সেটা দেখেছো? –

বউ তো মহা টেন্সানে পড়ে গেল।

“সেটা তো পরিষ্কার কিছু দেখিনি। শুধু দেখলাম, কলার চামড়ায় স্লিপ খাইছ” – বউ আমার দিকে অনেকটা টেন্সান নিয়ে তাকিয়ে বলল।
-তাহলেও তো আমি আজ উশঠা না খেয়ে, কালও তো অফিসে যাওয়ার সময় উশঠা খেতে পারি। - আমি অনেকটা টেন্সানে আছি, এমন ভাব করে বললাম।

মনে হল আমার কথাটায় কিছুটা কাজ দিয়েছে।

আমি দেখলাম, আমার বউ হঠাৎ করে আমার প্রতি দায়িত্বশীল হয়ে গেল।

-"তোমাকে আজ ছুটি কাটাতে হবে না। এখনি রেডি হও। তাড়াতাড়ি অফিস এ যাও। এমনিই অনেক দেরী হয়ে গেছে"।, বউ বলল।

তাহলে যে শিপু ভাইদের দাওয়াত দিয়েছ, সেটা কি এখন ‘না’ করে দেবে? – আমি অনেকটা সাহস এবং রিস্ক নিয়ে বউকে আবার জিজ্ঞাসা করলাম।

-"না, সেটা না করতে যাব কেন!!! তারা তো শুক্রবারে আসতেছে। আমি এখনই ওদের পাশের ফ্লাটের সবাইকে ফোন করে দাওয়াত দিয়ে দেব। এই নিয়ে তোমাকে টেন্সান করতে হবে না", আমার দায়িত্বশীল বউ আমাকে আশ্বস্ত করল।

আর কি, মনের দুঃখ মনে রেখেই আগামী শুক্রবার আমার বাসায় একটা মিনি-মেজবান দেয়ার মানসিক প্রস্তুতি নিলাম।
২ কুল হারানোর শোক নিয়া অফিসের পথে রওয়ানা করলাম।
বুঝলেন ভাই, টেন্সানে আছি... :(
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে এপ্রিল, ২০১৫ দুপুর ১২:১১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×