somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার সাথে কেন এমন হয় ?

০৩ রা জুলাই, ২০১৫ বিকাল ৫:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগামীকাল অনার্স ৩ য় বর্ষের শেষ পরীক্ষাটা আছে । এই ব ই টাই আমার নাই । ভাবছিলাম বন্ধুদের কাছথেকে ফটোকপি করে নিয়ে পড়বো । ব ই ছিলো না কারন ব ই কিনার টাকাই নাই ! গতকাল যখন ব ই নিতে যাবো ঠিক তখনেই বিদূত্‍ চলে যায় ! তাই তখন আনলামা না , ভাবছি সে আর একটু দেখুক । তারপর ও বিদুত্‍ আসলোই না । বাধ্য হয়ে বিদুত্‍ না থাকার পর ও ব ই টি আনতে গেলাম । মনে করলাম সে তো রোজা রাখছে , ইফতার করতে করতে আমার কাজ শেষ হবে । ব ই টি আনার সময় বন্ধুটিকে কথা দিয়ে আসছি রাত ৮ টার মধ্যে ব ই টি ফিরত দিয়ে আসবো । তারাতারি ব ই টা নিয়ে বাড়ী তে আসলাম । বন্ধুটি , বন্ধুটি বন্ধুটি বলছি কেন , সে আমার দূর সম্পর্কের চাচাতো বোন । সে কয়েকটি প্রশ্ন বের করতে পারেনি । বাড়ীতে এসে প্রশ্ন কয়টি বের করলাম । তখনো কিন্তু বিদূত্‍ আসেনি । দেখতে দেখতে রাত ৮ টা বেজে গেল । তখন ভাবলাম ব ই টি দিয়ে আসি , ৮ টার সময় ব ই টি ফিরত দেয়ার কথা আছে । ব ই টা যখন ফিরত দিলাম তখন ৮ বেজে ৯ মিনিট । ব ই টি যখন ফিরত দিয়ে বাড়ী আসলাম ঠিক তার ৫ মিনিট পর বিদূত্‍ আসলো ! হায়রে কপাল । তার কাছে আমার ফিরে না গিয়ে কি মনে করে ফটোকপির দোকানে ফোন দিলাম । দোকানদার জানাল আজ হবে না , মেশিন নষ্ট কাল সকাল সকাল হবে । ফটোকপির দোকানদার ও আন্য কেউ নয় , সে ও আমার সাথে পড়ে । তখন মনে মনে ভাবলাম যদি আবার ব ই টি আনতে যেতাম তা হলে কতো বোকামি টা ই না করতাম । মনকে শান্তনা দিলাম কাল সকলে হলেও তো হবে । আর কিছু না ভেবে বাড়ীতে এসে তারাতারি ঘুমিয়ে পরলাম ! এই ভেবে যে কাল রাতে ঘুম হবে না ,সারা রাত পড়তে হবে । পরের দিন(অর্থাত্‍ আজ ) সকালে উঠলাম উঠে ৯ টার সময় ফোন দিলাম , সে জানালো এখনো মেশিন ঠিক হয় নি ! মনটা আবার খারাব হয়ে গেল . আবার সে জানালো জুম্মার নামাজের পর হবে আসিস । তার পর ও মেনে নিলাম । এবার নামাজ শেষ করে ২ টা ১৫ মিনিটে ফোন দিলাম রিসিভ করলো না ,এ ভাবে কয়েক বার ব্যার্থ চেষ্টা করলাম । ৩ টার সময় আবার ফোন দিলাম , এবার রিসিভ করলো কিন্তু বিধী বাম , এখনো মেশিন ঠিক হয় নি ! তার উপর রাগকরলাম , অনেক কথার পর বল্রো ঠিক হলে আমি তোকে ফোন দিয়ে জানাচ্ছি । তার পর ও মনকে শান্তনা দিলাম , সারা রাত তো আছে , সাড়া রাত ই পড়বো ক্ষতি কি এটাই তো এ বছরের শেষ পরীক্ষা । আমার ঘুমালাম উঠে দাখি ৫ টা বাজে প্রায় , কিন্তু এখনো সে ফোন দেয়নি । ধরেই নিলাম এখনো মেশিন ঠিক হয় নি , নিজেকে বুঝালাম মেশিন ঠিক হলেতো সে ফোন দিতে চেয়েছে । এখন তাকে ফোন দিয়ে বিরক্ত করার মানেই হয় না । আজ ও ৬ টার সময় ফোন দিব ! এ দিকে আমার মনে পরে গেল , এই সময় ব ই নিলে সে চাচাত বোনের পড়ার ব্যাঘাত হতে পারে । নিজের উপর প্রচন্ড রাগ হলো , পৃথিবীটা এ সময় আমার কাছে যমের মতো মনে হতে লাগলো । এবার শক্ত হলাম । না হয় নাই , কালকে পরীক্ষায় যাওয়ার সময় পথেই ব ই টায় চোখ বুলাব , তাই তাকে আজকেই বলে দিতে হবে , কালকে ব ই টা নিয়ে আসিস তো । পাস করতে পারি আর নাই পারি , আগামী বছর মানউন্নয়ন দেব । এই কথা মনে হতেই বুকটা কেপে উঠলো ! এবার টাকার অভাবে ব ই ই নিতে পারলাম না , আর আগামী বার মান উন্নয়ন দিবে , নিজে নিজে কে বলছি , টাকা কি তোর বাপে দিবে ? এবার বাবার কথা মনে হলো আরে আমার তো বাবাই নাই ? গত ৮ বছর আগে ঘুমিয়ে গেছে ।

আচ্ছা কেউ বলতে পারেন , আমার সাথে কেন সব সময় এমন হয় ?
শুধু আজ নয় এরকম হীনম্মনতায় আমাকে প্রায় ভূগতে হয় । আমি জানী এর থেকে পরিত্রানের একমাত্র উপায় টাকা টাকা এবং টাকা । যা আমার কাছে এখন সোনার হরিণের চেয়েও অনেক বেশী । আমি যে এরকম ছিলাম তা কিন্তু নয় । খুব বেশী না এক বছর আগেও আমি মানুষকে আমার টাকায় পড়াশুনা করিয়েছি । কোথা থেকে বড় ভাইটা এসে সব উল্টাপাল্টা করে দিল । গত চার বছর থেকে কৌশলে আমায় শোষণ করে করে এখন আমাকে পথের ভিকারির চেয়েও নিচে এনে দাড়করিয়েছে । সব কিছু কেড়ে নিয়ে আমাকে এভ্যারেস্টের খাদের কিনারায় ফেলে সবাই চলেগেছে ।
কিন্তু , এখনো আমি শক্তি , সাহস আর মনোবল হরাই নি । আমি জানি আর দু ই এক বছর পর আমার মহামারী দূর্যোগ থাকবেনা । আবার আমি পূর্রের আবস্তায় ফিরে যেতে পারবো , শুধু সময়ের আপেক্ষা ।
জানি আজ রাতে পড়া না পড়লেও , ঘুম হবে না একটু ও ! তখন কি করবো জানেন ? এই লেখা টি আমি বিভিন্ন ব্লগে দিলাম , তাতে আপনারা কে কি বন্তব্য করলেন তাই দেখে রাত পার করবো !
* এই হতোভাগার ব্লগ টি পরে আপনি আপনার অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট করলেন , এর দায় পুরোটাই আমি নিলাম , এ জন্য ধন্যবাদ আপনাদের সকলকে !

*আমার এই ব্লগ পোস্ট টি আমার সকল ব্লগ আইডিতে একযোগে প্রকাশিত হলো ।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুলাই, ২০১৫ বিকাল ৫:২১
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

never give up!!! চেষ্টাটা যেন শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত হয়....

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১০



অনেকেই নিজের ভাগ্যকে দোষ দেন। বলেন- ''ভাই, ভাগ্য বিড়ম্বনায় আজ আমার এই অবস্থা।'' অনেককে এও বলতে শুনেছি- ''আজ ভাগ্য সহায় থাকলে অনেক দূর এগিয়ে যেতাম।''
.
এইসব মানুষদের আমি বলি- ''শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না - সরকারের পদক্ষেপ প্রশংসনীয়

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫




মিরপুর-১ রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে এমপি পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া সরকারের একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ বলেই মনে করি। তবে পদত্যাগের নির্দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেরারী বিকেল

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৫

বাংলা বর্ষপঞ্জীর ষষ্ঠ মাস, আশ্বিনের শুরু থেকেই দিনের ‘বিকেল বেলা’ টা আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করে। আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহ থেকে আহ্নিক পরিবর্তনের ফলে প্রতিদিনের দৈর্ঘ্য একটু একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধকারের রসায়নবিদ, Case File 02 — সিউলের অসমাপ্ত গুলি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৯


লেখকের নোট:
এই গল্পটি ১৯৭৪ সালের দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ঐতিহাসিক হত্যাচেষ্টার ঘটনাকে পটভূমি হিসেবে নিয়ে নির্মিত সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম থ্রিলার। ঐতিহাসিক ব্যক্তি ও ঘটনার পাশাপাশি প্রফেসর রেহান আশরাফ, তাঁর পরিকল্পনা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

নেভার গিভ আপ!!!: দেশের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের পিছনে বিনিয়োগ করুন, প্রধানমন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৩

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আসসালামু আলাইকুম। আজ আমার খুব খুশির দিন হওয়ার কথা ছিলো। ব্রিটিশ একটি ভার্সিটিতে ৩য় বারের মতো মেন্টর হিসেবে সিলেক্টেড হয়েছি। এই আনন্দে বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজনদের নিয়ে পার্টি দেওয়ার কথা ছিলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×