somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রিয় ব্যান্ড আর্টসেলের প্রিয় কিছু লাইন (জেনারেল ফা হিমের প্রথম পোস্ট)

২১ শে এপ্রিল, ২০১৪ রাত ৯:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এই প্রজন্মের অনেকের মতই আর্টসেল ব্যান্ডটার প্রতি একটা আলাদা মোহ আছে। কি গান, কি তাদের কম্পোজিশন! এরসাদের গিটারের জাদু আর সাজুর ড্রাম্‌স্‌ তো আছেই, সেজানই বা কম কিসে? আর লিঙ্কনের কথা তো বাদ-ই দিলাম। কিন্তু আমাকে সবচেয়ে বেশি টানে তাদের লিরিক্সগুলো। সেইখান থেকে অল্প কিছু ভালো লাগা লাইন তুলে দিচ্ছি। শুরুতেই একটা প্রায় অপরিচিত গান দিয়ে।



কালো মেঘে ঘেরা পৃথিবীতে কৈশর বয়সে
আমি শিখেছি চিনতে নিজেকে অন্যের দৃষ্টিতে
যাযাবর আমি পৃথিবীতে মানুষের রূপ ধরে
আমি দেখেছি মানুষের হাতে গড়তে দেবতারে

.......................................................................কৃত্রিম মানুষ






ছায়ায় আঁকা স্মৃতির ঘরে
ভয়ের মতন অন্ধকারে
আলোয় আঁকা রুদ্ধ আকাশ
মৃত্যু একে রাখে
নিমর ভাবনার পাথর ঘরে
যুদ্ধ আসে যুদ্ধ আসে
মানুষ মুখোশ অগোচরে
আলো দিয়ে ছায়া আঁকে

----------------------------------ছেড়া আকাশ






তোমার সাজানো দৃশ্যে হাটছি গন্তব্যহীন
সম্মহিত সময়ে রাত্রির নক্ষত্রকে খুজি
অসীম শুণ্যতায় এখানে পরে থাকে
পাথরের মতন স্থবির মানুষ, শেখানো বর্ণনায়

দৃশ্যকে ভাবি পৃথিবী, স্বপ্নকে ভাবি তুমি
মৃত্যুকে মনে হয় গভীর ঘুম, আঁধারকে ঈশ্বর ভাবি

সকল আলোর প্রথম উৎস কি অনিশ্চিত আঁধারে?

আকাশের শেষে কি থাকে? কোথায় পরে আছে আমার স্বদেশ?
অন্ধ চোখে আলো কি শরীর পায়? এখানে আমি বিকলাঙ্গ পাথর...

-------------------------------গন্তব্যহীন (ইচ্ছে করতেছিল পুরাটাই তুলে দেই)





জানালার ভেতরে বাহিরে দুজন
দেয়াল এর কাছাকাছি যাই
দেয়ালে বাঁধা সস্তা জীবন
নিজের আয়নায় একলা দাঁড়াই

মুখোশে যাকে তুমি চেনো
চেনোনা যাকে মুখোশ বিহীন
আমরা দুজন সত্য পুরুষ
নিজের ভেতর দুজনেই পরাধীন

----------------------------------------মুখোশ







তুমি এলে উৎসবে সাজবে নতুন আকাশ
বাতাসে ভাসবে অজানা অবাক উল্লাস
তোমার ভেতর জন্ম নেবো আমি
মুছে ফেলে দুজনার আলাদা নিঃশ্বাস

-----------------------------------------অপ্সরী








আমার ঘৃনা তোমাকে পোড়াবে না
দেখাবে স্বপ্ন
আমার দুঃখ তোমার আকাশে
মেঘ হয়ে কাঁদাবে না

আমার ফেলে আসা দুঃস্বপ্নের রাত
যত কষ্টের স্মৃতি
তোমার জন্য বাঁচতে শেখাবে
মৃত্যু হয়ে ছোঁবে না

কত মিথ্যে অভিনয়ে গড়া এ জীবন
অচেনা ছোঁয়ায়.....

---------------------------------------অদেখা স্বর্গ







তবু আমি…
কি খুঁজি মানুষের বিষাদের চোখে
কোথায় আলোর উৎসবে স্বপ্নের প্রতিবিম্ব ভাঙে
একা একা আমি থাকি দাঁড়ায়ে
স্মৃতির ঝড়ো বাতাসে
দুজনার শরীর মেশায়

-----------------------------------------ধূসর সময়








মুক্তির সিঁড়ি পেরিয়ে কে বা কার দেখা পায়?
দাসত্বের দাস হয়ে ফিরছি বিবাগী পথিকের বেশে
বারে বারে একই ঠিকানায়,
বিবাগী পথিকের বেশে
বারে বারে একই ঠিকানায়...

--------------------------------------অন্যসময়






এখানে নত সময়ে বোবা শহর ফেটে পড়ে
বাকরূদ্ধ মানুষের রূদ্ধ ক্রোধে
গ্রেনেডের নীরবতা থেমে আছেস
কবে আবার মিছিল হবে?
............
তোমাদের ভুল শব্দে লেখা স্বপ্নগুলো জানালা বদ্ধ ঘরে,
বাতাসের অনাহারে বেঁচে আছে আহত বাংলাদেশে....

--------------------------------------------বাংলাদেশ..স্মৃতি ও আমরা








তোমার গানের মৃত শরীর
পড়ে থাকে গভীরতায় মুখ থুবড়ে স্বপ্নের মৌনতায়;
সামরিক বেয়নেটে বিকলাঙ্গ আজ তোমার বিবেক।
চিৎকার কর নিরুচ্চারে..

তোমার আকাশে তবুও অনেক গাঙচিল
যাদের বুকে বৃষ্টি;
তোমার চেতনায় সামরিক পদধ্বনি।
বিবেকের দরজায় কড়া নাড়ে কারা?

--------------------------------------স্বপ্নের কোরাস








স্বপ্নমঞ্চে মেলানো যায় না জীবন,
অলীক স্বপ্নে বদলায়না বাস্তবতা।
সময় বদলায়, বদলায় এ জীবন;
ধীরে ফিকে হয়ে যায় আমার এ অস্তিত্ব।
...................
চোখের কোণে লেগে থাকা স্মৃতি,
ঘুমের মতন তীব্র ভালোবাসা,
আলিঙ্গনে নিমগ্ন শূন্যতা,
ভুলজন্মে আমার অসাড়তা।

---------------------------------------ভুল জন্ম






স্বপ্নের ছায়ায়, কারও উষ্ণতায়
ঝাপসা সুখে অশ্রু ঝরায়।
অস্তমিত ঐ রবির শেষ আলোকছটাও বিলীন।
ক্লান্ত এক যুবা উদ্ভ্রান্ত, মৌন-মলিন।
দুর্ভোগের উপহাস কিসের শব্দে? কিসের উষ্ণতায় ?
ঘনঘোর আঁধার-কোলে ছোটে গন্তব্য শূন্যতায়..

----------------------------------------রাহুর গ্রাস






আলোর কার্নিশে জমে দিন,
রাতের নিশাচর নিঃশ্বাসে মেশে মদ;
আজও মাতাল আমি, পথভ্রষ্ট কবি।

পৃথিবীর কোলাহলে একা একা হাঁটছি..

অসাড় কথার শেষে আরও কথা থাকে শব্দহীন অনুচ্চারে;
ঝড়ের হাওয়ায় ভেঙে যায় অন্তমিল,
দু'জনার মিথ্যে আবেগে পড়ে থাকে মৃত নদী..

-----------------------------------------অলস সময়ের পাড়ে
(এটা আমার খুব পছন্দের একটি গান। যারা শুনেননি, প্লিজ একটু শুনে দেখবেন। লীড গিটারটা ভালো লাগবে)





চেনা চেনা চোখে ছায়া-রং হারিয়ে যায়,
নিভিয়ে দেয় সময় কত স্মৃতি,
তবুও আমি তোমায় খুঁজে পেতে চাই
পুরনো সেই দিনের সুরে, ফেলে আসা রূপকে।

-----------------------------------------স্মৃতিস্মারক







তোমাদের পাথর বাগানের সবুজ ঘাসে মিশে থাকে কত যুগের নষ্ট গল্প;
কত পতাকার রঙ ধুয়ে যায় অভিশাপে, আকাশের সাদা অনুভুতিতে শুধু ঘৃনা..

------------------------------------পাথর বাগান






তোমার স্থল-মাইন আবাদি মাটির প্রাণরসে ভিজে কান্নাসিক্ত পৃথিবী হোক..
তোমার বিনিদ্র প্রহরার রাত
শব্দ পাক মানুষের গরাদ ভাঙার;
ভোর হোক তোমার অন্ধ চোখে,
যুদ্ধের অহর্নিস ধ্বংসস্তূপ, ইতিহাস..

---------------------------------------শহীদ সরণি







আমার শরীর মানে আমি ও ছায়া,
ছায়া মানে মৃত রোদ আত্মাহুতি দেয় তাদের আলোর যৌবন সারাক্ষণ,
মেঘে মেঘে ঢাকা পড়ে চেনা অচেনা কত মুখ, ছায়ার শরীর;
ছায়ায় বাঁচে আলোর ভয়,

----------------------------------ঘুনে খাওয়া রোদ






তবুও এই দুটি কাঁটাতার এ শহরের মত করে ভিড়ে ভরে গেছে,
ঘুম আমার অচেতন কখন বেওয়ারিশ মাটির কাছে এসে
সময় কে এপিটাফ ভেবে হাঁটু গেঁড়ে বসে..

তবুও এখানে বাতাস আসে দুরত্বের উৎসাহে,
শরৎ জমে আছে ঠাণ্ডা ঘাসে;
তোমার চোখের মাঝে দূরের একা পথ
এখানে ভাঙে না দুটো দেশে।
মেঘের দূরপথ ভেঙে,
বুকের গভীর অন্ধকারে আলোর নির্বাসন
স্মৃতির মতন অবিকল স্বপ্নঘর বাঁধা স্মৃতির অন্ধ নির্জনে
সময় থেমে থাকে অনাগত যুদ্ধের বিপরীতে।

এখানে সরণির লেখা নেই নাম কোন শহীদ স্মারকে,
তোমার জন্য জমা থাকে শুধু স্বপ্নঘর।
জানালায় ঝুলে থাকে না শূন্যতার অবচেতন,
তোমার ঘরের অন্ধ আলোয় অদেখা এখানের নির্জন অনিকেত প্রান্তর..

-----------------------অনিকেত প্রান্তর







আমার আলোয় আলোকিত
হতে চেয়ে আঁধারে মিলিয়ে;
আমার স্বপ্ন আমার সাথে
যেন স্বপ্নে ফিরে আসে স্বপ্ন হয়ে,
খুঁজে পায় জীবনের তীর,
জীবনকে কোনো স্বপ্ন ভেবে।

----------------------------------পথচলা






তোমার মৃত স্বপ্নের দৃশ্য আজও ওড়ে
বাতাসে বিগত সময় শব্দ করে
ভুলের চেনা শরীর চিনি কি তোমাকে
এখানে কে দাঁড়ায় ছায়ায় মিছিলে

একই অতীত
একই সময়
কেন তবু এই পথের শেষে
জড় অনুভূতি কেন মেঘে ঢাকা পড়ে ছেড়া আকাশ

--------------------------------------------------(নাম বলতে হবে?)








এত ভিড়েও আজও আমি একা, মনে শুধুই যে শুন্যতা..
আঁধারে যত ছড়াই আলো, সবই আঁধারে মিলায়।
ও যে কোথায় হারালো, ব্যাথা কাকে যে শুধাই?


------------------(নাহ্‌, এই গানটা আমার সাথে পুরাই মিল খাইয়া গেল)
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে এপ্রিল, ২০১৪ রাত ৯:২০
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×