ঢাকা শহরের নানান সমস্যার অন্যতম প্রধান সমস্যা হল যানজট। প্রতিদিন এর জন্য কত বিচ্ছিরি পরিস্থিতি তৈরী হয়, কত যে সময় ফাও নষ্ট হয় তার ইয়াত্তা নাই। দেখা যায় ঢাকা থেকে কুমিল্লা কিংবা এরকম কোথাও যাবার পথে অর্ধেকটা সময় ঢাকাতেই চলে যাচ্ছে শুধু কেবল যানজটের কারণে।
এখন এর জন্য ট্রাফিক পুলিশকে গালি দেন কিংবা প্রশাসনের গুষ্টি উদ্ধার করেন কোন লাভ নাই। কারণ বুঝতে হবে ঢাকা আর যানজট অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। তারচেয়ে বরং এ সময়টা আমরা উপভোগ করি।
বনানী থেকে কাওরান বাজার-সহ প্রায় সবখানে পুরো পথ জুড়ে যে বিজ্ঞাপন-বিলবোর্ড, কখনো বিনোদন-মূলক, কখনো শুড়শুড়ি-মূলক
আর এর জন্য দরকার কাগজ-কলম। কাগজের সমস্যা নেই, দেখবেন এমনি-ই হাতে এসে যাবে। শুধু কলমটা নিজ দায়িত্বে সাথে রাখবেন।
আবার একটু ভাবুক প্রকৃতির হলে শহরের সৌন্দর্যের মাঝে হারিয়ে যাবার চেষ্টা করতে পারেন। তবে সেটা অবশ্যই শেষ বিকেল, রাতের বেলা কিংবা একেবারে ভোর সকাল হতে হবে। আর যদি দুপুরের কড়া রোদ হয় তাহলে আপনাকে অবশ্যই হিমু হইতে হবে। একমাত্র হিমু ভাইয়ের শক্তি আছে এই ঘাম ঝরঝর দুপুরে যানজটের ভিতর রিক্সা জার্নি উপভোগ করার। ইদানিং কালে সন্ধ্যার দিকে হালকা মেঘ মেঘ আবহাওয়ায় হলুদ হলুদ ছায়ায় একটা অন্যরকম ভাবলুতা আসে। চেষ্টা করে দেখতে পারেন, যানজটটা তখন খারাপ লাগবে না।
সবচেয়ে ভালো হয় গান শুনলে। ড্রিম থিয়েটার সহ বিশেষ কিছু ব্যান্ড আছে যারা মাঝে মাঝে ৩০ মিনিটের গান গেয়ে ফেলে। এত সময় নিয়ে এই গান শুনা সম্ভব না। যানজটের মহাজটের সুবাধে ওটাও শুনে ফেলতে পারেন। চাইলে এক নাগাড়ে খেলতে খেলতে টেম্পল রান'এর মত গেম্সেও বিশাল স্কোর বানিয়ে বন্ধুদের কাছে বাহাদুরী দেখাতে পারেন। তবে মোবাইল বা ট্যাব'এ অবশ্যই যথেষ্ট পরিমাণ চার্জ থাকতে হতে।
এ ছাড়াও আপনার পাশের সহযাত্রীর সাথে আলাপ জুড়ে দিতে পারেন। আলাপ অবশ্যই দেশের রাজনীতি অথবা সামাজিক অবস্থার দিকে ঘুরিয়ে দিতে হবে। তখন দেখবেন যানজটকে তো খারাপ লাগবেই না, বরং মনে হবে জীবনটা বাসেই কাঁটাইয়া দেই। আর বলা তো যায় না, এর ভিতর দিয়ে হয়তো একটা "মামু"ও জুটে যেতে পারে। তাই তো কেল্লা ফতে
শেষ করি আরেকটা বিশেষ সুবিধার কথা বলে যা বিশেষ ব্যাক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। হয়তো এই যানজটের গ্যারাকলে সামু'র রোমান্টিক সাহিত্য ব্লগার মামা হঠাৎ কোন সুন্দরী রুপসীর দেখা পেয়ে যেতে পারেন
কিন্তু তা আর হবে না, রুপসী একটু পরেই নেমে যাবে বাস থেকে। তখন ব্লগার বাবাজি'র আর কিছু করার থাকবে না। তখন তিনি সামুতে সেই সুন্দরীকে নিয়ে কবিতা লিখবেন, কিংবা একটা গল্প ফেদে বসবেন। অথবা পথে ঘটে যাওয়া কোন ঘটনা নিয়ে গল্পের প্লট বানিয়ে ফেলবেন। আমরা সেই পোস্টগুলো পড়ব, প্লাস দিব, কমেন্ট দিব, আর তার হিট তখন হুহু করে বাড়তে থাকবে

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


