somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাঝে মাঝে যানজট ভালো ;)

১৭ ই মে, ২০১৪ বিকাল ৫:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঢাকা শহরের নানান সমস্যার অন্যতম প্রধান সমস্যা হল যানজট। প্রতিদিন এর জন্য কত বিচ্ছিরি পরিস্থিতি তৈরী হয়, কত যে সময় ফাও নষ্ট হয় তার ইয়াত্তা নাই। দেখা যায় ঢাকা থেকে কুমিল্লা কিংবা এরকম কোথাও যাবার পথে অর্ধেকটা সময় ঢাকাতেই চলে যাচ্ছে শুধু কেবল যানজটের কারণে।

এখন এর জন্য ট্রাফিক পুলিশকে গালি দেন কিংবা প্রশাসনের গুষ্টি উদ্ধার করেন কোন লাভ নাই। কারণ বুঝতে হবে ঢাকা আর যানজট অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। তারচেয়ে বরং এ সময়টা আমরা উপভোগ করি।

বনানী থেকে কাওরান বাজার-সহ প্রায় সবখানে পুরো পথ জুড়ে যে বিজ্ঞাপন-বিলবোর্ড, কখনো বিনোদন-মূলক, কখনো শুড়শুড়ি-মূলক ;) এইসব কিছু তো আমাদের জন্যই নাকি? কিন্তু চলন্ত বাস থেকে কি এতকিছুর দিকে খেয়াল করা যায়? শুধু কেবল সিগন্যালের কবলে পরলেই একটা সুযোগ আসে সেগুলো মনের মাধুরী মিশিয়ে এক পলক দেখে নেবার। আর এইসবের মাঝে যে কাজের জিনিস এক্টাও নেই তা কিন্তু না। যেমন এ যুগের তরুনীরা এই ফাকে কোন কস্মেটিক্সের শো-রুম কিংবা পার্লারের ঠিকানা-মোবাইল নম্বর টুকে নিতে পারেন। সদ্য এইচএসসি পাশ করা শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কচিং-এর বিজ্ঞাপনে আপ্লুত হয়ে তাদের ঠিকানা ও নম্বরও টুকে রাখতে পারেন। কেউ কেউ ঘর সাজানোর সামগ্রী কোথায় পাওয়া যাবে তাও জেনে যাবেন। মোটকথা এগুলো একেবারে ফেলনা নয়।

আর এর জন্য দরকার কাগজ-কলম। কাগজের সমস্যা নেই, দেখবেন এমনি-ই হাতে এসে যাবে। শুধু কলমটা নিজ দায়িত্বে সাথে রাখবেন।

আবার একটু ভাবুক প্রকৃতির হলে শহরের সৌন্দর্যের মাঝে হারিয়ে যাবার চেষ্টা করতে পারেন। তবে সেটা অবশ্যই শেষ বিকেল, রাতের বেলা কিংবা একেবারে ভোর সকাল হতে হবে। আর যদি দুপুরের কড়া রোদ হয় তাহলে আপনাকে অবশ্যই হিমু হইতে হবে। একমাত্র হিমু ভাইয়ের শক্তি আছে এই ঘাম ঝরঝর দুপুরে যানজটের ভিতর রিক্সা জার্নি উপভোগ করার। ইদানিং কালে সন্ধ্যার দিকে হালকা মেঘ মেঘ আবহাওয়ায় হলুদ হলুদ ছায়ায় একটা অন্যরকম ভাবলুতা আসে। চেষ্টা করে দেখতে পারেন, যানজটটা তখন খারাপ লাগবে না।

সবচেয়ে ভালো হয় গান শুনলে। ড্রিম থিয়েটার সহ বিশেষ কিছু ব্যান্ড আছে যারা মাঝে মাঝে ৩০ মিনিটের গান গেয়ে ফেলে। এত সময় নিয়ে এই গান শুনা সম্ভব না। যানজটের মহাজটের সুবাধে ওটাও শুনে ফেলতে পারেন। চাইলে এক নাগাড়ে খেলতে খেলতে টেম্পল রান'এর মত গেম্‌সেও বিশাল স্কোর বানিয়ে বন্ধুদের কাছে বাহাদুরী দেখাতে পারেন। তবে মোবাইল বা ট্যাব'এ অবশ্যই যথেষ্ট পরিমাণ চার্জ থাকতে হতে।

এ ছাড়াও আপনার পাশের সহযাত্রীর সাথে আলাপ জুড়ে দিতে পারেন। আলাপ অবশ্যই দেশের রাজনীতি অথবা সামাজিক অবস্থার দিকে ঘুরিয়ে দিতে হবে। তখন দেখবেন যানজটকে তো খারাপ লাগবেই না, বরং মনে হবে জীবনটা বাসেই কাঁটাইয়া দেই। আর বলা তো যায় না, এর ভিতর দিয়ে হয়তো একটা "মামু"ও জুটে যেতে পারে। তাই তো কেল্লা ফতে :D

শেষ করি আরেকটা বিশেষ সুবিধার কথা বলে যা বিশেষ ব্যাক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। হয়তো এই যানজটের গ্যারাকলে সামু'র রোমান্টিক সাহিত্য ব্লগার মামা হঠাৎ কোন সুন্দরী রুপসীর দেখা পেয়ে যেতে পারেন ;)। সিটের উপর গা এলিয়ে চুল ছড়িয়ে সে বসে আছে, অথবা জায়গা না পেয়ে শেষে রড ধরে ঝুলে পরেছে ক্লোজ-আপের এডের মত। এই গরমে ঘেমে নেয়ে এলো চুলে কিছুক্ষণ পর পর বিরক্তি প্রকাশ করছে, অথবা তার সখির সাথে হাস্যালাপ করছে। দোলয়মান বাসে বার বার দোল খাচ্ছে। তখন তারা যানজটের এই বিতিকিচ্ছিরি অবস্থাকে এক আশির্বাদ জ্ঞান করা শুরু করবেন। ভাববেন এই করেই যদি জীবন পার করে দিতে পারতাম।

কিন্তু তা আর হবে না, রুপসী একটু পরেই নেমে যাবে বাস থেকে। তখন ব্লগার বাবাজি'র আর কিছু করার থাকবে না। তখন তিনি সামুতে সেই সুন্দরীকে নিয়ে কবিতা লিখবেন, কিংবা একটা গল্প ফেদে বসবেন। অথবা পথে ঘটে যাওয়া কোন ঘটনা নিয়ে গল্পের প্লট বানিয়ে ফেলবেন। আমরা সেই পোস্টগুলো পড়ব, প্লাস দিব, কমেন্ট দিব, আর তার হিট তখন হুহু করে বাড়তে থাকবে B-) এমন একটা পোস্টের খাতিরে আমরা একটু যানজট চাইতেই পারি, তাই না?
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মে, ২০১৪ বিকাল ৫:০৪
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কলকাতায় নিয়মিত যারা যাতায়ত করেন তারা এই প্রশ্নের মূখোমুখি হবেন প্রায়ই।

লিখেছেন ইমরান আশফাক, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৩

আচ্ছা, আপনাদের মধ্যে যারা কলকাতায় যাতায়ত করে থাকেন তারা স্হানীয়দের কাছেকি এই প্রশ্নটির মূখোমুখী হয়েছেন নিয়মিতভাবে: দেশভাগের সময় বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ আর ভারতকে দেয়া হয়েছিলো খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা কেন কওমী জননী হয়েছিলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৯


আওয়ামী লীগ করেন এমন অনেক মানুষ বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন। শেখ হাসিনা কেন কওমি জননী উপাধি গ্রহণ করলেন? আসলে সবাই যা বলতে চান,আওয়ামী লীগের রাজনীতি তো এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×