সন্ধ্যা নেমে গেছে।
ভাঙ্গা রাস্তায় ঠাস ঠাস শব্দ তুলে রিক্সার আসা-যাওয়া আর দোকানের স্বল্প পাওয়ারের বাতির আলো না থাকলে গা ছম ছম করে উঠত। একটা কড়ই গাছের ডাল খোলা ছাতার মত বিস্তৃত হয়ে আছে অনেকটুকু জুড়ে। তবে ছাতাটা বেশ ত্রুটিপূর্ণ, ফাক ফোকড় দিয়ে যেই আকাশটা দেখা যায় তাতে কালোমেঘ সন্ধ্যার নিবু নিবু আলোয় নীল রঙ ধারণ করে আছে। ভার্সিটি থেকে ফিরছি। কাঁধে বেগ। ঠান্ডা জলো বাতাসটা ঘামে ভেজা শার্টে শীতল পরশ বুলিয়ে দেয়।
সেই বাতাসটা বয়ে গেল নাজিয়াদের তেতলার বারান্দাতে, তারে পেচানো একটা কাপড়ে হাল্কা দোল দিয়ে যায়। লোড-সেডিং, ঘরে আলো নেই, পাখার বাতাস নেই। তাই বারান্দায় নাজিয়া, আর ওর ছোট বোনটা। কড়ই গাছের বিশাল শাখার মাঝ দিয়ে ইতিউতি দেখতে পাই ওদের। খুব সামান্য একটা ঘরের পোশাক পরে ও, চুলগুলো আজ বাঁধতে ভুলে গেছে। ও কি জানে, এই বাতাসে ওর চুলের এ দোল খেলাটা কত মিষ্টি লাগে? জানবে কি, কোনদিন বলা হলে তো জানবে।
সেই বলা আর হল কই? এলাকার বন্ধুদের কাছে কথাটা কিভাবে যেন চাউর হয়ে যায়। এরপর কতবার আমাকে তাড়িয়ে তাড়িয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছে ওর কাছে, আমি প্রতিবারই পালিয়ে গেছি। উৎসবের কোন এক ফাকে যখন বন্ধুদের সাথে হেটে হেটে ওদের বাড়ির সামনে চলে যাই, ওরা আমার নাম বলে অযথাই ডাক দেয়। আমি তখন মাথা নিচু করে দৌড় লাগাই, যেন কোনদিন ও বুঝতে না পারে "এই" নামের ছেলেটা আসলে কে। ক্রিকেট খেলতে গিয়ে ইচ্ছে করেই ওদের বাড়ির সীমানায় বল পাঠিয়ে আমাকে দিয়ে আনানোর চেষ্টা করে। এমনকি রাতুলটা আমাকে মোবাইল নম্বর পর্যন্ত এনে দিল।
শুধুই বেকার খাটা, সেই নম্বরে আর ফোন দেয়া হল না। না না, একদিন দিয়েছিলাম। শুধু ওর মিষ্টি কন্ঠের "হ্যালো"টুকু শুনে শিহরণ জেগেছিল। কোন কথা বলতে পারিনি, লাইন কেঁটে গেছে। বিতৃষ্ণা ধরে গেল, - ধূর্!! কি ভাবল মেয়েটা!!
টুং করে রিক্সার ঘন্টিতে সম্বিত ফিরে পাই। রাস্তার পাশে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকাটা কেমন দেখায়, ধূর!! লোকে কি ভাবল? তাই আবার হাটতে শুরু করি ঘরে ফেরার জন্য। এর মোড় ঘুরতে ঘুরতে গছের ফাকে একবার টেরা চোখে তাকাই। নাজিয়ার ছোট বোন ওর হাত থেকে কি একটা ছিনিয়ে নেয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছে, কিন্তু যতই চেষ্টা করে ততই নাজিয়া সেটা আরো লুকিয়ে ফেলে। এই নিয়ে তার খুব রাগ। একটু একটু চিৎকার, কান্নার মত গ্যানগ্যানানো শব্দ এখানে থেকেও কানে আসছে। চিৎকার করছে, - "দে!" যতই করে, ও যেন ততই মজা পেয়ে যায়। দুই বোনের এই খিটমিটি দেখে ভালোই লাগছে।
কাল হয়তো আবার আসব, ঠিক এই সময়টাতেই। এবং প্রতিদিন আমি আসি। যেদিন যেদিন লোড-সেডিং থাকে, সেদিন ওকে পাই বারান্দায়। শুধু এক পলকের জন্য তাকে দেখি, যাকে রেখেছি হৃদয়ের মণিকোঠায়। জানি না এটা শুধু উঠতি বয়সের সামান্য উচ্ছ্বাস কি না। তবে জানি, আগামীকাল ঠিক এই সময়টাতে আমার লোড-সেডিং প্রয়োজন, খুব খুউব প্রয়োজন!
চাওয়াটা কি একটু বেশি হয়ে গেল??
=================================
বি.দ্র. ইহা সম্পূর্ণ কাল্পণিক। জীবিত কিংবা মৃত কারো সাথে মিলে যেতেও পারে, তয় আমার সাথে মিলে নাই

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



