কে হবে মাসুদ রানা?
এ নিয়ে তুমুল কাণ্ডকারখানায় নাকি এ দেশের অনলাইন জগত ক্ষতবিক্ষত। এমনকি বিধ্বস্ত। অনেকে আবার মাসুদ রানা হতে গিয়ে নাকি অপমানিতও।

যাহোক,
মাসুদ রানা নিয়ে একটি সুন্দর অতীত ছিলো আমার। সে সময়টা, আহ, অনেক দারুণ ছিলো।
‘মাসুদ রানা’ বেশ জনপ্রিয় একটি নাম। বাংলা সাহিত্য পছন্দ করেন বা বাংলা গল্প, উপন্যাস, থ্রিলার, ফিকশন পছন্দ করেন এমন কেউ বাদ নেই যে মাসুদ রানাকে চেনেন না। কাল্পনিক চরিত্র হলেও জনপ্রিয় একটি নাম মাসুদ রানা। গোয়েন্দা সিরিজ পড়ুয়া পাঠকদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। এমনকি সেই বাল্যকাল থেকে আমি নিজেই মাসুদ রানা সিরিজের প্রতি একরকম আসক্ত হয়ে পড়েছিলাম। স্কুল বন্ধের জন্য আল্লাহর কাছে যে কত দোয়া করতাম তার হিসেব ছিলো না । বন্ধুরা আড্ডা দেয়া, সিগারেট খাওয়া, সিনেমা দেখতে যাওয়া, কোথাও ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করতো বন্ধের সময়ে। সেক্ষেত্রে আমারটা ব্যাপারটা ছিলো উল্টো । বন্ধের সময়ে মাসুদ রানা সিরিজের বাদ পড়া বইগুলো একত্র করে শেষ করতাম। এটাই ছিলো টার্গেট। ১৫- ২০ টা পর্যন্ত শেষ করতাম একেক বন্ধে। সেসময়ে সিরিজে কম ছিলোনা বই। এখন তো ৪০০+ ছাড়িয়ে গেছে। ক্লাস এইট পর্যন্ত এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছিলাম। একটা শেষ করতে না পারলে দুঃখে কান্না পেত। বাবার হাতে যে কত মার খেয়েছিলাম সেসময়ে এই সিরিজ পড়ার জন্যে, তার কোন হিসেব নেই। স্কুল টিচাররা প্রতিদিনই বিচার দিতেন বাবার কাছে। তাদের অভিযোগ ছিলো আমি নাকি ক্লাসে বসে বসে 'ফালতু বই' পড়ি। স্যারদের খ্যাপার একটা মারাত্মক কারণ ছিলো, মাসুদ রানাতে সেক্সুয়াল বিষয়গুলা যেমন 'সেক্স, প্রেম, কিস, জড়াজড়ি' এসব বিষয় নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা হত। কিন্তু আমার তখনো এসব বুঝার বয়স হয়নি তাই বুঝতাম না। কিন্তু এ নিয়ে মাইরটা খুব উপভোগ করতাম। 'খেলতে যাইনা, স্যারদের সালাম দেইনা, স্যার ক্লাসে ঢুকলেও সালাম দেয়ার জন্য দাঁড়াইনা' এসব অভিযোগ রীতিমতো বাবারও সয়ে গিয়েছিলো। পরবর্তীতে একদিন সব রাগ একত্র করে মাসুদ রানা সিরিজের সবগুলা বই পুকুরে ফেলে দিয়েছিলেন। তারপর আর কোনদিন এসব নিয়ে কিছু বলেননি। 'বিড়ালের হাড্ডি খাইলে নাকি মানুষ এমন হয়ে যায়'এটা বলে বাবা তার দায়িত্ব শেষ করতেন। যাইহোক মাসুদ রানা সিরিজ একসময় আমার অপরিহার্য অঙ্গে পরিণত হয়েছিল। সে সময়ের কথাগুলো এখন ইউনিভার্সিটি লাইফে এসে মনে পড়লেও শিহরিত হই প্রতি মুহুর্তে। আহ, সোনালী সময়, মিস করছি খুব।
কে হবে মাসুদ রানা?
এ নিয়ে চ্যানেল আইয়ের একটা নিয়মিত রিয়েলিটি শো চলছে বর্তমানে। শীঘ্রই মাসুদ রানাকে পর্দায় দেখবো হয়তো। এ নিয়ে আমারও আবেগ কম ছিলো না। কিন্তু বাছাই পর্বে যাকে তাকে অপমানের শেষসীমার অপমানের মাধ্যমে নাকি অপমান করা হয়েছে। এ নিয়ে গত কিছুদিন তুমুল বিতর্ক, আলোচনা, সমালোচনা হয়েছে, হচ্ছে এবং হতে থাকবে। সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হচ্ছে শবনম ফারিয়া, জাকিয়া বারী মম, ইফতেখার ফাহমী নামক কতিপয় নাট্যব্যক্তিত্ব। তাদের বিচারকের ক্ষমতা দেয়া হলেও অযোগ্যতার প্রমাণে তারা সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে। অভিনন্দন। ছোট পর্দার নাট্যব্যক্তিত্বরা বড় পর্দার সিনেমার নায়ক খুঁজতেছে ব্যাপারটা দারুণ ছিলো।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


