দিনে দুইটা থেকে তিনটা সিগারেট খাই।
বেশিরভাগ সময় পেট ভোরে কিছু খাবার পরে বিছানায় শুয়ে আরাম করে এক কাপ চায়ের সাথে একটা ব্লাক ধরিয়ে নিয়ে বেশ আরাম করেই খাই সিগারেট টা। পুরো সময়টাই আমার নিজের। নিজেকে অনেক সুখি সুখি মনে হয় এই সময়টাতে। মনে হয় পাঁচ মিনিটের জন্য স্বর্গে প্রবেশ করেছি। আরামে চোখ বন্ধ হয়ে আসে।
গতকাল দুপুরে খাবার পরে সময় পাই নাই। পকেটে সিগারেটের প্যাকেটটা নিয়েই লাইব্রেরীর উদ্দেশে বের হয়েছিলাম। রাস্তায় সিগারেট টানতে টানতে ভার্সিটি যাচ্ছি, এমন সময় দেখি আম্মার বয়সি একজন মহিলা আমার দিকে অবাক হয়ে তাকাচ্ছে। তিনি দশ সেকেন্ডের মতো আমার দিকে তাকিয়ে ছিলেন।
তাঁর চোখে কিন্তু কোন রাগ ছিলনা। তিনি যেন আমার দিকে এক পাহাড় সমান অভিমান নিয়ে তাকিয়ে ছিলেন। তিনি যেন বলতে চেয়েছিলেন, "বাবু, তুমি এটা কি করছ?"
এটা তো ঢাকা শহর। যাদুর শহর। এখানে সবাই সবাইকে ভয় পায়। কে জানে কার কত ক্ষমতা। কেউ তো কাউকে চেনে না, সে জন্যই। সেই জন্যই হোক আর সময় স্বল্পতার কারনেই হোক, তিনি কিছু বললেন না। কিন্তু তাঁর অভিমানি দৃষ্টিকে আমি উপেক্ষা করতে পারলাম না। আমি সিগারেট টা ঠোঁট থেকে নামিয়ে হাতের আড়াল করে ফেললাম।
আমি কি ওই মহিলাকে সম্মান দেখানোর জন্য এই কাজটা করলাম? আমার মনে হয় না। আমি আসলে ওই মহিলার চোখে আমার আম্মাকে খুঁজে পেয়েছিলাম। আমি তাই করি সব সময়। যখন আব্বার বয়সি কোন মানুষকে দেখি, বাসে দাঁড়িয়ে আছেন আর আমি বসে আছি আমার কি যে কষ্ট হয়! ভাবি, ইস আব্বা দাঁড়িয়ে কষ্ট করছে, আর আমি বসে আছি! এটা কি করে সম্ভব? আমি দাঁড়িয়ে ওই লোককে বসতে দেই, এই আসায়, আমার আব্বাকেও কেউ না কেউ এই ভাবে একদিন তাঁর কষ্ট লাঘব করতে সাহায্য করবে।
যখন ১৭-১৮ বছরের কোন মেয়েকে দেখি চোখে কাজল দিয়েছে টানা টানা ভাবে। চোখ গুলো গভীর নিসুতি দীঘির কালো জলের মতো দেখাচ্ছে, আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি। মনে মনে ভাবি, আমার পিচ্চি বোনটাকেও কাজল দিলে নিশ্চয়ই এমনই মায়াবতী লাগে। তখন আর যাই হোক, ওই মেয়েটার গ্রীবার দিকে আমার নজর যায় না। কারন আমি আমার বোনকে আমার জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসি। এই মেয়েটার মাঝে আমি আমার পিচ্চিকে খুঁজে পাই। সুন্দর জামা গায়ে কোন মেয়েকেই দেখলেই ঐখানে বোনটাকে বসিয়ে ভাবি, স্মৃতিকে কেমন দেখাইত এমন জামা পড়লে?
এতো কথা বলার কারন কি?
পরশু কিছু ছেলে একটা মেয়ের জামা কাপড় ধরে টেনেছে। আমি বলতে চাইনা তাঁরা কোথায় পড়ে, কি করে, কার ক্ষমতায় চলে, কেন তাঁদের হাত এখনও কেটে দেয়া হচ্ছে না। এসব বলার জন্য অনেক বড় মাপের মানুষজন আছেন, তাঁরা বলবেন।
আমি শুধু বলতে চাই, তাঁরা কি তাঁদের জন্মদাত্রী মা'কে ভালোবাসে না? যে মায়ের স্তন পান করেছে, ক্যামনে পারে আরেকজনের মায়ের স্তন ঢাকার আবরণ ধরে টান দিতে? যে বোন তাকে ভাইয়া ভাইয়া বলে যুবরাজের, বীরের সিংহাসনে বসিয়ে রেখেছে, ক্যামনে পারে শত শত মানুষের সামনে সেই বোনকে বিবস্ত্র করতে?
পারে, কারন এদের হাতে এদের মা, বোনও নিরাপদ না।
ভালোবাসা অন্য জিনিস রে ভাই, অন্য রকম এক অনুভূতি। সেই অনুভূতি সবাইকে ছুয়ে দিতে পারেনা। আঙ্গুলটা নিজের দিকে তুলে ধরে দেখুন, সেই অক্রিত্তিম ভালোবাসা আপনাকে ছুয়ে দিতে পেরেছে না কি!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


