somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার জন্মদিনের কিছু বাস্তব ঘটনার গল্পরুপ

১৪ ই জুলাই, ২০১৪ রাত ১১:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অতঃপর...

গল্পটা আমার জন্মের... শুনতে অদ্ভুত লাগলেও যেহেতু কিছু কাহিনী গল্পের মতই হয় তাই গল্পই বলতে পারি... কিন্তু গল্পের আগে পরে অন্য কিছু গল্প থাকে তাই আমার গল্প শুরুর আগে আমার আম্মুর বিয়ের দিনের একটা গল্প বলি...

আমার দাদা এবং নানা বাড়ি একই থানার ভিতর কিন্তু গ্রাম আলাদা। যেহেতু অজো পাড়া গাঁও তাছাড়া এখন থেকে আরো ২৫-২৬ বছর আগের কাহীনি তাই যোগাযোগের মাধ্যম নৌকা... নতুন বউ নৌকায় করে বাপের বাড়ি থেকে শ্বশুর বাড়ি যাচ্ছে, নতুন ভালোলাগা নতুন অভিজ্ঞতা মিলিয়ে একটা সুখ সুখ ব্যাপার কিন্তু পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট খুব শীঘ্রই পরিবর্তন হতে শুরু করল। মাঝ নদীতে নৌকা কিন্তু আকাশে কালো মেঘের আগমন সবার মনে এক অজানা আতঙ্ক সৃষ্টি করে দিল... কোন খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার আগেই সবাই প্রানপন চেষ্টা করল উদ্যেশ্যে পৌছানোর। কিন্তু সকল চেষ্টা বিধিবাম! শুরু হল ঝড়, দিনের আলো পরিনত হল রাতের আধারে, চারিদিকে ঝুম ঝুম অন্ধকার। নদীর মাঝে নৌকা নতুন বৌ মানে আমার আম্মুর সুখানুভুতি মুহুর্তেই আতঙ্কে পরিনত হল বেচে থাকা হবে তো? চিন্তাটা স্বাভাবিক কারন কোন এক দানব যেন তার হাতের মুঠোয় নৌকাটাকে দুমরে মুচরে ফেলতে চেষ্টা করছে... নৌকা মাঝ নদীতে বাতাসের বেগে চরকার মত ঘুরছে। দূর থেকে দৃশ্যটা দেখার মত হলেও যারা নৌকার মধ্যে ছিল তাদের জন্য ব্যাপারটা কতটা ভয়ানক সেটা হয়তোবা পাঠক অনুমান করতে পারবেন আশা করি...

কোন এক সৌভাগ্যের বলে সেই ঝর,বন্যা এবং অঝোর ধারার বৃষ্টিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আমার আম্মুর নৌকা পৌছে গেল তার শ্বশুর বাড়ি মানে আমার দাদার বাড়ি... সবাই স্বাভাবিক ভাবেই আমার আম্মুকে বরন করে নিলেন...

ঘটনাটা এই ঘটনার প্রায় ৩-৪ বছর পরের কথা। আমার আম্মুর কোল জুড়ে নতুন অতিথী আসার পুর্বাভাস পাওয়া গেল, জানতে পেরে সবাই খুশি, আম্মুও খুশি কিন্তু তার খুশি ব্যাথামিশ্রিত। কারন তিনি কিছু খেতে পারেন না এবং আমি নাকি পেটের ভিতর থেকে তাকে ব্যাপক যন্ত্রনা দেয়া শুরু করে দিয়েছিলাম... এবং তার শরীর একটা পর্যায়ে খারাপের দিকে যেতে শুরু করল, এতটাই খারাপ যে আমার পৃথিবীতে আসার সময় যত ঘনিয়ে আসতে লাগল আমার আম্মুর পৃথিবী থেকে চলে যাওয়ার সময় যেন ততটা কাছে চলে আসতে লাগল। কথাটা কেন বললাম কিছুক্ষন পরেই পাঠক টের পাবেন।

আমার পৃথিবীতে আসার তারিখ চলে এলেও আমার আসার কোন লক্ষন নেই... এভাবে কেটে দেল বেশ কিছু সময়, সময় গড়িয়ে কিছু দিন, কিন্তু আমার দেখা নেই... শেষমেশ স্বিদ্ধান্ত হল আম্মুকে ডাক্তারের কাছে নিতে হবে কিন্তু আমার গ্রাম থেকে হাসপাতাল নদীপথে ৩-৫ ঘন্টার পথ। এক বিকেলে নৌকা ঠিক করা হল, আম্মুকে বাড়ি থেকে নদীর ঘাটে নিয়ে যাওয়া হল লাশ বহন করার জন্য যে খাটিয়া থাকে ওই খাটিয়ায় করে। আম্মুর অবস্থা এতটাই খারাপ যে গ্রামে কান্নার রোল উঠে গেল কারন সবাই ধরেই নিয়েছিল এই যে লাশের খাটিয়ায় বউ নামানো হচ্ছে এই বউ আর জিবিত ফেরত আনা সম্ভব না। শুরু হল হাসপাতালের উদ্দেশ্যে নৌকায় যাত্রা। আমার দাদী ছিলেন খুবই বুদ্ধিমান(তিনি গত হয়েছে আজ ৫ বছর, এবং আমার দাদী আমার সব থেকে প্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিল) তিনি নৌকায় তার সাথে করে একজন ধাত্রী নিয়ে গিয়েছিলেন। নৌকা চলা শুরু করল, নৌকা চলে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে, নৌকা সামনে যায় পথ কমতে থাকে কিন্তু বাড়তে শুরু করে আমার আম্মুর ব্যাথা শুধু ব্যাথা না অসহ্য ব্যাথা। একটা সময় কোন উপায় না পেয়ে আল্লাহ ভরসা বলে নৌকা থামান হয় একটা চড়ের ভিতর পাতার বনে(যে পাতা দিয়ে পাটি বোনা হয়)। নৌকায় দুজন পুরুষ মানুষ ছিল তাদের পাড়ে উঠিয়ে দিয়ে শুরু হয় আমাকে পৃথিবীর মুখ দেখানোর চেষ্টা। চেষ্টার একপর্যায়ে আমি পৃথিবীতে আসি ঠিকই কিন্তু মাথাটা ছিল লম্বা পেঁপের মত এবং নীলাভ বর্নের, জ্বিহবা ছিল বের করা এক কথায় মৃত বলতে আমার খারাপ লাগে না কারন আমার শ্বাস-প্রশ্বাস ছিল না। সবাই আমাদের আঞ্চলিক ভাষায় বলল “ফল তো নেই গাছ বাচাইতে পারো কিনা চেষ্টা কর” আমাকে একটা পাশে মৃত মনে করে ফেলে রেখে শুরু হল আম্মুকে ভালো করে তোলার চেষ্টা। সময় গড়িয়ে প্রায় ৩০ মনিট শেষ... সবাই খেয়াল করল আমি নাকি নড়তে শুরু করেছি! নড়তে দেখেই দাদী আমাকে তার কোলে নিল আমি একটা দীর্ঘশ্বাস(জন্মের প্রায় ৩০ মিনিট পর আমি প্রথম নিশ্বাস নেই) ফেলে দাদীর শাড়ীর আচল খামচে ধরি... ততক্ষনে আম্মু আশঙ্কামুক্ত আমিও বেচে আছি সবাই নিশ্চিত...
আমি এবং আমার আম্মু সুস্থ অবস্থায় যখন গ্রামে প্রবেশ করি তখন গ্রামের সবার মুখের ভাষা কিছুক্ষনের জন্য হাড়িয়ে গিয়েছিল কারন তারা যেন কোন অস্বাভাবিক ঘটনার মুখোমুখি হয়েছে... ব্যাপারটা স্বাভাবিক কারন সবাই ধরেই নিয়েছিল আমি সহ আমার আম্মু পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে যাচ্ছি... কিন্তু আমাদের ফেরত আসার মত এই অস্বাভাবিক ঘটনায় সবাই অত্যন্ত খুশি কারন তাদের বংশের প্রথম বাত্তি অর্থাৎ আমার আগমনে।

পাঠক মনে করতে পারেন আমার গল্পের আগে আমি আম্মুর বিয়ের গল্প কেন বললাম... প্রশ্নটা মনে আশা স্বাভাবিক। এইবার কারন বলি যেটা আমি মাঝে ইচ্ছা করেই বাদ দিয়েছি।“আম্মুর বিয়ের দিন যেমন হঠাৎ করেই ঝড়, বন্যা এবং বৃষ্টির আগমন ঘটেছল আমার জন্মের দিনও ঠিক একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছিল” এবং তখনো আমাদের নৌকা নদীর মাঝেই ছিল।

আমার সত্য ঘটনা গল্প হিসেবে কতটা ভালো সেটা জানি না, ভালো নাকি খারাপ সেটা জানতেও চাই না শুধু জানি জন্ম থেকেই আমি কস্টকর যে কারো জন্য কিন্তু যে আম্মু সব থেকে বেশি কস্ট সহ্য করেছে সেই আম্মুর মুখে হাসি ফোটাবার অপেক্ষায়...

***ইমরান হাসান মান্না***
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫১





শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ

সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×