আমাদের ভার্সিটি জীবনের শেষ দিনটায় অডিটরিয়ামে বসে আছি। সব ডিপার্টমেন্টের গুরুত্বপূর্ন স্যারট্যাররা আছেন। আমরা বসে আছি আমাদের জীবনের শেষ শিক্ষকদের শেষ উপদেশ শুনব বলে।
প্রায় সবাই, উহু প্রায় না, সব কয়জন শিক্ষকই আমাদের উদ্দেশ্যে মোটামুটি যা বললেন, তার সারমর্ম ছিল এই যে আহসানুল্লাহ ইউনিভার্সিটির ছেলেমেয়েরা পাশ করে মোটামুটি ভালই চাকরি পেয়ে যায়। চাকরির বাজারে তাদের প্রোডাক্টের মানে আমাদের ভালো সম্ভবনা আছে। এই একই ভাতের ফ্যান একেকজন একেক সুরে বললেন।
অথচ আমরা বেশ উৎসাহ নিয়ে শুনতে বসেছিলাম। আশা করেছিলাম, ইইই এর স্যারটা বলুক নতুন কিছু বানাতে। সিএসইর স্যারটা বলুক এমন কোন সফটয়্যার বানাও, যেটা পৃথিবীকে আরো বড় স্বপ্নের দিকে নিয়ে যাবে। কিংবা আর্কির স্যারটা বলুক এমন একটা ডিজাইন কোর, সারা পৃথিবী অবাক হয়ে যাবে। বা মেকানিকালের স্যারটা নতুন ধরনের রোবট বানানোর কথা বলবে।
আমরা একটু সাহসের কথা শুনতে চেয়েছিলাম।
বিনিময়ে আমরা শুনলাম, চাকর হিসেবে আমাদের সম্ভবনা কতটুকু। আমাদের সাহস দেয়া হল, না খেয়ে মরব না। কি ট্র্যাজেডি।
ইভেন আমাদের দেশের হটকেক ভার্সিটি যেগুলো, সেগুলোও নতুন কোন স্বপ্ন দেখায় না, কারন ঐসব জায়গায় খুব কম মানুষই স্বপ্ন দেখতে যায়। অধিকাংশের মনেই থাকে একটা ভালো চাকরি মাত্র। যারা স্বপ্ন দেখতে যায়, অচিরেই তাদের স্বপ্নের গলা টিপে ধরে আমাদের সতীদাহ যুগের শিক্ষাব্যবস্থা, কারিকুলাম।
"তোমাদের সকল যোগ্যতা কেড়ে নেয়া হল। এখন অন্তত একটা চাকরি পেয়ে যাবে।"
প্রতিটা ভার্সিটির সার্টিফিকেটে এটা লেখা থাকা উচিৎ।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জানুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ২:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




