somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রতিবন্ধীরা আমাদের সমাজে বা পরিবারে নিরাপদ? বা কতটুকু নিরাপদ?

২৯ শে আগস্ট, ২০২৩ সন্ধ্যা ৭:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আমি আজ তিনজন প্রতিবন্ধীর কথা বলবো।



আমাদের ইউনিয়নে এক প্রতিবন্ধী থাকতো। আমি যখন ক্লাশ নাইনে পড়ি তখন স্কুলে যেতে আসতে তাকে দেখতাম। কথা বলতে পারতো না। মানুষ যা দিতো, তাই সে খেতো। বিয়ে বাড়িতে, বা কারো কূল খানি/চল্লিশার সময় সে কাছে থাকলে, তাকে কিছু খেতে দিতো। এভাবেই সে চলতো। বৃষ্টিতে ভিজতো। রৌদ্রে পুরতো। শীতে কাপতো। ২০২০ সাল অথবা ২০২১ সালে সে মারা যায়। মরার সময় তার বয়স আনুমানিক ২৫ বা ২৬ ছিলো। কিন্তু সে মরার আগেও হাপ পেন্ট পড়ে থাকতো।

আরেক জন এর নাম বলবো না। তিনি ছিলেন মহিলা। আমাদের গ্রামের মধ্যে অভিজাত বাড়ির লোক। বয়সে তিনি আমার নানীর সমান। তার দুই ভাই খুব মেধাবী। একজন ইজ্ঞিনিয়ার। আরেকজন আমেরিকা প্রবাসি।
ঐ প্রতিবন্ধী মহিলা এক সময় সুস্থ ছিলেন। কেন প্রতিবন্ধী হয়েছেন, জানি না। আর মানষিক রোগ কে পাগল বলা যায় না, আবার প্রতিবন্ধী ও বলা যায় না। তবে তিনি মানষিক ভাবে সুস্থ ছিলেন না। তাহার মরার আগে দেখতাম, তিনি ভিক্ষা করতেন। স্ট্যান্ডে ভিক্ষা করতেন। যারা তাকে চিনতো না, তারা তাকে ভিক্ষা দিতেন। সেই টাকা দিয়ে তিনি সকালে রুটি ও সবজি কিনে খেতে দেখেছি। শেষ বয়সে তার পরিবার, তাকে ভোজা মনে করতো।

এখন যার কথা বলবো, সে আমার ক্লাসমেট। সে প্রতিবন্ধী ছিলো। খুব সহজ সরল। সাদা মনের মানুষ। তাকে নিয়ে সবাই মজা করতো। ক্লাসের দুষ্ট ছেলেরা তাকে নিয়ে খুব উতোক্ত্য করতো। আর সে কান্না করতো।
ক্লাশে পড়া পারতো না। কারন সে পড়া মনে রাখতে পারতো না। হুজুর স্যার, তাকে খুব মারতেন। এই মাইর, তাকে চালাক বানাতে পারে নাই। সে তার কষ্টের কথা আমার সাথে বলতো। সে তার বাসাতেও নিরাপদ ছিলো না। খারাপ রেজাল্ট এর জন্য বাসায় অনেক কথা শুনতো। তাকে তার মা, বাবা তেমন আদর করতো না। সারাদিন কটু কথা হয়তো শুনতো। তার নানা নানী থাকলে তার মন ভালো থাকতো। সারাদিন তার মন খারাপ থাকতো। আর আতঙ্কগ্রস্থ থাকতো। খুব মন খারাপ হলে সে নিরিবিলি স্থানে একা একা বসে থাকতো। আতঙ্কে থাকতো, যদি হুজুর স্যার তাকে পিটায়। বাসায় যদি তার আম্মু তাকে ধমক দেয়। স্কুল ছুটির পর ও বাসায় পৌছাবার আগ পযর্ন্ত সে হয়তো কিছুটা শান্তি অনুভব করতো। সেই ক্লাসমেট এর সাথে ছিলাম আমি জয়পুরহাটে। ক্লাশ সিক্স থেকে ক্লাশ এইট পযর্ন্ত। আর যখন ক্লাস নাইনে আমাদের মুন্সীগঞ্জ আসি তখন প্রথম দুইজন প্রতিবন্ধীর সাথে পরিচয়।

তিন জনের কিছু কমন জিনিস:
০১। তারা বাসায় বা স্কুলে নিরাপদ না। একজন তো বাসা ত্যাগ করে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতো। স্কুলেও যেতো না।
০২। তারা পরিবারের কাছে ভোজা স্বরুপ।
০৩। আমার বন্ধু। স্কুলেও মানষিক ভাবে নিরাপদ বোধ করতো না। স্কুলেও নিরাপদ বোধ করতো না।
০৪। ১ম প্রতিবন্ধী ও আমার বন্ধুর সাথে সবাই বাড়াবাড়ি লেভেলে ঠাট্টা মশকরা করতো। তারা দুইজন কে প্রতিবাদ করতে দেখি নাই।

সরকার আসামীদের জন্য জেলখানা বানিয়েছে। তাদের খাদ্য, চিকিৎসা, বাসস্থান নিশ্চিত করেছেন।

প্রতিবন্ধীরাও যেহেতু পরিবারের বোঝা। তাই তাদের জন্য আলাদা হোস্টেল বানানো হউক। এবং সেখানে তারা সরকারি খরচে থাকবে। যাতে তারা পরিবারের বোঝা না হয়। তাদের সাথে যেন ভালো আচরন করা হয়।

সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে আগস্ট, ২০২৩ সন্ধ্যা ৭:৩৫
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভাঁট ফুল

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৪৩

ভাঁট ফুল
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

ছোট কালে মায়ের সাথে, হাত ধরে
মেঠো পথে হেটে চলে যেতাম-
মইজদী পুর গ্রামে, বোনের শশুর বাড়ি
রাস্তার পাশে মাঝে মাঝে ভাঁট ফুল-
দেখে মুগ্ধ হতাম, আর বলতাম কী সুন্দর!
ইচ্ছের হলেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোরগের ডাক , বিজ্ঞানের পাঠ এবং গাধার প্রতি আমাদের অবিচার

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:৫৫


গ্রামে বেড়ে ওঠা মানেই একটা অসাধারন শৈশব। আমাদের সেই শৈশবের একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল মক্তবের মৌলভি সাহেবদের গল্প। তারা বলতেন, ভোররাতে মোরগ ডাকে কারণ সে ফেরেশতা দেখতে পায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে? নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত হারিয়ে গেছে ??

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত হারিয়ে গেছে ?? সামু ব্লগের এই ক্রান্তিকালে বিষয়টি নিয়ে একটু আলোচনা/পর্যালোচনা করে কিছু সময় কাঠানো যাক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:০০

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে বহুবার প্রমাণ হয়েছে যে, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রকৃত শক্তি থাকে তার তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে। তাদের শ্রম, ত্যাগ, জেল-জুলুম সহ্য করার মানসিকতা এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

খাজনা

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:২৯



মন! মানুষের মন! মানুষকে তছনছ করে দেয়!
কখনো সে বাঘ, কখনো সে অজগর, কখনো সে শত্রু, কখনো সে বন্ধু!
কখনো সে ঈশ্বর, কখনো সে শয়তান, কখনো সে নিয়তি!
বিদিকিচ্ছিরি কান্ড!

লম্বা টানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×