
মাদের পাসপোর্টের র্যাঙ্কিং অনেক নিচে। ২০২৬ সালের Henley Passport Index-এর জুলাইয়ের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের পাসপোর্ট ৯৭তম স্থানে রয়েছে, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে। অন্যদিকে, সিঙ্গাপুর প্রথম, জাপান দ্বিতীয় এবং যুক্তরাষ্ট্র দশম স্থানে রয়েছে।
পাসপোর্টের র্যাঙ্কিং মূলত নির্ভর করে একটি দেশের নাগরিকেরা কতটি দেশে আগে থেকে ভিসা না নিয়ে, অথবা পৌঁছানোর পর ভিসা নিয়ে ভ্রমণ করতে পারেন, তার ওপর। তবে ভিসা পাওয়া কতটা সহজ, সেটিও আমাদের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের পাসপোর্টের এই অবস্থার উন্নতি করতে আমরা কী করছি?
আমাদের মনে রাখতে হবে, একটি দেশের পাসপোর্টের মর্যাদা শুধু কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে না। আন্তর্জাতিক আস্থা, অভিবাসনব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধা, ভ্রমণকারীদের আচরণ এবং ভিসার শর্ত মেনে চলার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো দেশের ভ্রমণকারীরা যদি ভুল তথ্য দিয়ে ভিসা পাওয়ার চেষ্টা করেন, ভিসার শর্ত ভঙ্গ করেন, অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেন কিংবা বিদেশের মাটিতে প্রতারণা ও অপরাধে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে সেই দেশের নাগরিকদের প্রতি সন্দেহ ও বাড়তি যাচাইয়ের প্রবণতা তৈরি হতে পারে। অবশ্য কিছু মানুষের অপরাধের দায় কখনোই পুরো জাতির ওপর চাপানো উচিত নয়।
দুঃখজনক হলেও সত্য, বিদেশে গিয়ে কিছু বাংলাদেশির অসদাচরণ, প্রতারণা কিংবা আইন ভঙ্গের ঘটনা আমাদের দেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। আবার অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিক তথ্যের অভাব, ভাষাগত সমস্যা কিংবা স্থানীয় আইন সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণেও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাই বিদেশে যাওয়ার আগে নিয়মকানুন জানা, সঠিক তথ্য দেওয়া এবং অন্য দেশের আইন ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া আমাদের সবার দায়িত্ব।
সম্প্রতি নাটোর রেলস্টেশনে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার কথা বলা হচ্ছে। এক জার্মান নাগরিক ভুল করে নাটোর স্টেশনে নেমে পড়েন। তিনি তাঁর ব্যাগটি একজন ব্যক্তির কাছে আমানত রেখে এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে যান। পরে ফিরে এসে দেখেন, ব্যাগটিও নেই, সেই ব্যক্তিকেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যাগটিতে তাঁর ল্যাপটপসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ছিল বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি সত্যিই দুঃখজনক। একজন বিদেশি পর্যটক বাংলাদেশে এসে এমন অভিজ্ঞতার শিকার হলে তাঁর মনে আমাদের দেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে। তিনি যদি নিজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অন্যদের বাংলাদেশ ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করেন, তাহলে তার প্রভাব দেশের পর্যটন ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর পড়তে পারে।
তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি—একজন অপরাধীর কাজের জন্য বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষকে চোর বলা ন্যায়সংগত নয়। একইভাবে, কোনো বিদেশি নাগরিকের অপরাধের কারণে তাঁর দেশের সবাইকে অপরাধী বলা যায় না। ব্যক্তির অপরাধের দায় ব্যক্তিরই। কিন্তু একজনের অপরাধ যখন আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের পরিচিতিকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে, তখন তার ক্ষতি থেকে পুরো জাতিকে রক্ষা করার দায়িত্বও আমাদের রয়েছে।
আমরা প্রায়ই অভিযোগ করি, বিদেশি বিমানবন্দরে বাংলাদেশের পাসপোর্টধারীদের নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। অথচ অন্য দেশের কিছু পাসপোর্টধারী তুলনামূলক সহজে ইমিগ্রেশন পার হয়ে যান। মনে রাখতে হবে, প্রবেশের অনুমতি, ভিসার নিয়ম এবং নিরাপত্তা যাচাইয়ের পদ্ধতি দেশভেদে আলাদা। শুধু পাসপোর্টের র্যাঙ্কিং দিয়েই ইমিগ্রেশনে কী ধরনের অভিজ্ঞতা হবে, তা পুরোপুরি নির্ধারিত হয় না। তবে আন্তর্জাতিক ভ্রমণব্যবস্থায় একটি দেশের নাগরিকদের প্রতি আস্থা থাকা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ।
আজ আমাদের নিজেদেরই প্রশ্ন করা উচিত—আমরা কি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারছি, যার পাসপোর্ট হাতে নিয়ে একজন নাগরিক বিশ্বের যেকোনো বিমানবন্দরে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাঁড়াতে পারবেন?
পাসপোর্টের র্যাঙ্কিং উন্নত করার স্বপ্ন শুধু সরকারের নয়, আমাদের সবার হওয়া উচিত।
বেশি বড় করলাম না। আমি যেমন বড় ব্লগ পড়ি না। তাই আমি আমার ব্লগ বড় করি না।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



